করোনা ভাইরাস : ভারতে রোজ সংক্রমণের নতুন রেকর্ড, তবু লকডাউনে যাবে না সরকার

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন
  • পড়ার সময়: ৩ মিনিট

ভারতে নতুন শনাক্ত করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা গত চব্বিশ ঘন্টায় আগের সব রেকর্ড ভেঙে প্রায় ১ লক্ষ ৮৫ হাজারে গিয়ে ঠেকেছে। মারাও গেছেন ১০২৭ জন, যাতে দেশে কোভিডে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১ লক্ষ ৭২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

তবে করোনার এই দ্বিতীয় ধাক্কায় পরিস্থিতি চরম উদ্বেগজনক হয়ে উঠলেও কেন্দ্রীয় সরকার যে পূর্ণ লকডাউন জারি করছে না, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বিশ্ব ব্যাঙ্কের সঙ্গে এক আলোচনায় তা জানিয়ে দিয়েছেন।

কিন্তু যে সব রাজ্যে পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ তারা নিজেদের মতো ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে - যেমন মুম্বাইসহ গোটা মহারাষ্ট্রে আজ বুধবার রাত আটটা থেকে প্রায় লকডাউনের মতোই নানা বিধিনিষেধ চালু হয়ে যাচ্ছে।

বস্তুত ভারতে করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা গত বছরের চেয়েও অনেক বেশি ব্যাপক আকারে ও অনেক দ্রুত গতিতে আঘাত হেনেছে - গত এক সপ্তাহ ধরে প্রায় রোজই আগের রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা।

ভারতে এযাবত মোট রোগীর সংখ্যা ১ কোটি ৪০ লক্ষ, যা ব্রাজিলকেও ছাপিয়ে গেছে - এবং তার মধ্যে ৯.২৪ শতাংশ এই মুহুর্তে অ্যাকট্ভি কেস, অর্থাৎ তারা এখনও রোগের সঙ্গে লড়ছেন।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, লকডাউনের ভয়ে মুম্বাইয়ের একটি স্টেশনের বাইরে গ্রামে ফেরার জন্য অভিবাসী শ্রমিকদের ভিড়

প্রায় নব্বই শতাংশের মতো রোগী সেরে উঠেছেন, আর মৃত্যুর হার ১.২৫ শতাংশের মতো - অর্থাৎ প্রতি দশ হাজার করোনা রোগীর মধ্যে সোয়াশো জনের মতো মারা যাচ্ছেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব রাজেশ ভূষণ মেনেই নিয়েছেন পরিস্থিতি সত্যিই দুশ্চিন্তায় ফেলার মতো।

তিনি বলেন, "আগে একদিনে সর্বোচ্চ বৃদ্ধির যা রেকর্ড ছিল, তা এর মধ্যেই ছাপিয়ে গেছে - এবং এই প্রবণতা ঊর্ধ্বমুখী, রোজই নতুন নতুন রেকর্ড হচ্ছে।"

"ফলে পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক - আর প্রতিটা রাজ্যকে আমরা ক্রমাগত সেই কথাটাই বলে চলেছি, তাদের সাহায্য করার চেষ্টা করছি।"

"এই মুহুর্তে কেন্দ্রীয় সরকারের ৫৩টি বিশেষজ্ঞ দল দেশের সবচেয়ে আক্রান্ত ৫৩টি জেলায় ক্যাম্প করে আছেন, মহামারি মোকাবিলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন", জানান মি ভূষণ।

Skip X post
X কনটেন্টের জন্য কি অনুমতি দেবেন?

এই নিবন্ধে Xএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত X কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।

সতর্কবাণী: তৃতীয়পক্ষের কন্টেন্টে বিজ্ঞাপন থাকতে পারে

End of X post

এই মুহুর্তে কোভিড পরিসংখ্যান গত বছরের চেয়েও অনেক খারাপ হওয়া সত্ত্বেও জাতীয় পর্যায়ে যে দেশব্যাপী লকডাউন জারির কথা ভাবা হচ্ছে না, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

বিশ্ব ব্যাঙ্কের প্রেসিডেন্ট ডেভিড মালপাসের সঙ্গে এক ভিডিও বৈঠকে মিস সীতারামন বলেন, ভারত কোভিডের মোকাবিলা করবে টেস্টিং, ট্র্যাকিং, ট্রিটমেন্ট, টিকা আর কোভিড-সম্মত আচরণবিধি পালনে জোর দিয়ে - লকডাউন দিয়ে নয়।

তার কথায়, "যতই দ্বিতীয় ধাক্কা আসুক, আমাদের স্পষ্ট কথা হল ভারত বড় আকারে কোনও লকডাউনে যাবে না।"

"অর্থনীতির চাকাকে আমরা স্তব্ধ করতে চাই না।"

"শনাক্ত রোগীদের আইসোলেশনে রেখে বা আক্রান্ত এলাকা কোয়ারেন্টিন করেই আমরা সেকেন্ড ওয়েভের মোকাবিলা করব, কোনও লকডাউন জারি করা হবে না", বলেন মিস সীতারামন।

আরও পড়তে পারেন:

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ভারত এখন টিকাকরণের গতি বাড়ানোতে জোর দিতে চাইছে

তবে মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্য, যেখানে দৈনিক ৫৫ থেকে ৬০ হাজারেরও বেশি রোগী শনাক্ত হচ্ছেন, তারা আজ স্থানীয় সময় রাত আটটা থেকেই কার্যত লকডাউনের কবলে পড়তে চলেছে।

যার ফলে ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইসহ গোটা রাজ্যেই খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বেরোনো নিষিদ্ধ হয়ে যাচ্ছে।

আগামী পনেরো দিনের জন্য বন্ধ হয়ে যাচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় নয়, এমন সব দোকানপাটও।

তবে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে এই পদক্ষেপকে লকডাউন বলতে রাজি নন।

মি ঠাকরে রাজ্যবাসীর উদ্দেশে তার ভাষণে বলেন, "একে বলা যেতে পারে ব্রেক দ্য চেইন, অর্থাৎ কোভিড সংক্রমণের শৃঙ্খলকে ভাঙার চেষ্টা।"

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, লকডাউনে রুটিরুজি হারানোর আশঙ্কা করছেন মুম্বাইয়ের হাজার হাজার অভিবাসী শ্রমিক

"সেই লক্ষ্যেই আমরা পনেরো দিনের জন্য রাজ্যে লোকজনের মেলামেশা, অপ্রয়োজনীয় সব যাতায়াত এইগুলো বন্ধ করতে চাইছি।"

এই বিধিনিষেধকে লকডাউন বলা হলো কি হলো না, তাতে অবশ্য অভিবাসী শ্রমিকদের কিছু যায় আসে না - আরও একবার রুটি-রুজি হারানোর আশঙ্কায় তারা বিপুল সংখ্যায় মুম্বাইয়ের বিভিন্ন রেলস্টেশনে গ্রামে ফেরার ট্রেন ধরতে জড়ো হচ্ছেন।

একই ধরনের চিত্র দেখা যাচ্ছে দিল্লির বিভিন্ন বাস টার্মিনাস ও রেল স্টেশনেও।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কেন্দ্রীয় শিক্ষা বোর্ডের এক জরুরি বৈঠকের পর এবছর ক্লাস টুয়েলভের বোর্ড পরীক্ষা আবারও পিছিয়ে দেওয়ার ও ক্লাস টেনের বোর্ড পরীক্ষা বাতিল করার সিদ্ধান্তও ঘোষণা করা হয়েছে।