শিক্ষার্থী ধর্ষণ: বিক্ষোভ অব্যাহত, মামলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে, পুলিশ বলছে ঘটনাস্থলের আশেপাশের 'সিসিটিভি ফুটেজ' পেয়েছে
ছবির উৎস, Getty Images
রাজধানীর ঢাকার কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনার বিরুদ্ধে মঙ্গলবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, শিক্ষক, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন এবং ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থীরা আলাদা আলাদা কর্মসূচীতে বিক্ষোভ করে।
বিক্ষোভকারীরা রাজু ভাস্কর্যের সামনে মানব বন্ধন করে এবং কুশপুত্তলিকা পোড়ায়।
ধর্ষককে দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি ধর্ষণ বিরোধী আইনে মৃত্যুদণ্ডের সাজা অন্তর্ভুক্ত করারও দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
এদেরই একজন তাসনিম আফরোজ, বলেন, "আজকে আমাদের একটা মাত্র হ্যাশট্যাগ এবং একটা মাত্র দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছি। আর তা হলো 'হ্যাং দ্য রেপিস্ট'। আমরা ধর্ষকের ফাঁসি চাই।"
বিক্ষোভকারীদের পাঁচ দফা দাবি
দুপুর একটার দিকে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ র্যালী শেষ করে রাজু ভাস্কর্যের সামনে মানব বন্ধন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সেখানে তারা পাঁচ দফা দাবী তুলে ধরেন।
* ধর্ষককে গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা
* ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের স্টপেজ পুনর্বিনস্ত করা
* দ্রুততম সময়ে মধ্যে দেশের ঝুলে থাকা ধর্ষণ মামলার বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা
* ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন পাস করা
* কোন ভিকটিমের পরিচয় প্রকাশ করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া
ছবির উৎস, Getty Images
ধর্ষণ বিরোধী বিক্ষোভে ছিলেন বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মাহফুজা মাহবুব। তিনি বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তারা। এ ঘটনায় একচুল ছাড় দিতে রাজি নন বলেও জানান মিস মাহবুব।
তিনি বলেন, "আমিও একটা বাসে নিয়মিত যাতায়াত করি। একটা মেয়ে কেন ধর্ষণের শিকার হবে? ধর্ষণের বিষয়ে আমরা কাউকেই এক পার্সেন্ট ছাড় দেবো না"।
৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলায় ছাত্র ইউনিয়ন প্রতিবাদ সমাবেশ করে যাতে বামপন্থী শিক্ষকেরা যোগ দেন।
আরো পড়ুন:
পরে বিক্ষোভ মিছিল ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যের সামনে মানব বন্ধন করেন তারা।
সেখান থেকে ধর্ষণের ঘটনায় অপরাধীকে শনাক্ত এবং গ্রেপ্তার ও বিচার প্রক্রিয়া শুরুর জন্য ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়া হয়।
মঙ্গলবার এইআল্টিমেটামের প্রথম দিন ছিল, বুধবার আল্টিমেটামের সময় শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
এই সময়ের মধ্যে ধর্ষককে সনাক্ত করে গ্রেফতার এবং তাকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, এই সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে আরো কঠোর আন্দোলনে যাবেন তারা।
ছবির উৎস, NurPhoto
সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ
এদিকে ধর্ষণের ঘটনায় ইতিমধ্যে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শাহবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।
অন্য মামলাটি ৬ই জানুয়ারি ধর্ষণের শিকার শিক্ষার্থীর বাবা রাজধানী ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট থানায় দায়ের করেন।
ক্যান্টনমেন্ট থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী শাহান হক জানান, মামলাটি এরইমধ্যে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এছাড়া ঘটনাস্থলের আশেপাশের সিসিটিভির ফুটেজও সংগ্রহের কথা জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
মিস্টার হক বলেন, "ঘটনাস্থলের পেছনে এবং সামনে দুই জায়গায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা আছে। সেখান থেকে আমরা ফুটেজ পেয়েছি।"
এসব ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে বলেও জানান মিস্টার হক।
ছবির উৎস, Getty Images
ঢাকার বাইরেও বিক্ষোভ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও মঙ্গলবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে।
এদিকে শিক্ষার্থী ধর্ষণের প্রতিবাদ ও ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে টিএসসি থেকে কুর্মিটোলা পর্যন্ত গণপদযাত্রার ঘোষণা দিয়েছে যৌন নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীদের একটি জোট।
১১ই জানুয়ারি বিকেলে পদযাত্রা শুরু করবে এই জোট।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও সাভার, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ-সহ দেশের বড় বড় জেলা শহরগুলোতে এই ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রধান খবর
নির্বাচিত খবর
পাঠকপ্রিয় খবর
ছবির কপিরাইট