'স্কুলের আগে সংসদ অনলাইনে করা হোক'

ঢাকার একটি স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রমের ছবি এটি

ছবির উৎস, LUIS TATO / AFP) (Photo by LUIS TATO/AFP via Getty Images

ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশের গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের অগাস্টে পর থেকে কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছিল শিক্ষা কার্যক্রম
    • Author, মুকিমুল আহসান
    • Role, বিবিসি নিউজ বাংলা
  • পড়ার সময়: ৭ মিনিট

ইরান যুদ্ধের জের ধরে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের শহর এলাকায় অনলাইন ক্লাস চালু হওয়ার খবরে নানা আলোচনা দেখা যাচ্ছে।

শিক্ষামন্ত্রী নিজেই এ ধরনের প্রস্তাবনার কথা জানানোর পর এ নিয়ে নানামুখী প্রতিক্রিয়া আসছে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষাবিদদের পক্ষ থেকে। তদের অনেককেই এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সমালোচনা করতে দেখা গেছে।

তারা সরকারের এমন প্রস্তাবের সমালোচনা করে বলেছেন, অনলাইন ক্লাস চালু হলে এটি শিক্ষার্থীদের আরো পিছিয়ে দিবে। তাদের অনেকেই এই প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন বিরত থাকারও আহ্বান জানিয়েছেন।

যদিও সরকারের পক্ষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, "সিদ্ধান্তটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি, মন্ত্রিসভায় আলোচনার মাধ্যমে সবদিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে"।

বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা মঙ্গলবার জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক।

তিনি বলেছিলেন, "যেহেতু বিশ্বজুড়ে সংকট, এটা শুধু বাংলাদেশের সংকট নয়। আমরা জানি না এই সংকট কতদিন চলবে। সেই কারণে আমরা ভাবছি আমাদের স্কুল সিস্টেমগুলোকে অনলাইনে এনে, অন অ্যান্ড অফ ব্লেন্ডিং সিস্টেম চালু করা"।

সরকারের এই প্রস্তাবনা নিয়ে ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বেশ কয়েকটি স্কুলের শিক্ষক ও অভিভাবকদের সাথে কথা বলেছে বিবিসি বাংলা।

শিক্ষক ও অভিভাবকদের বেশিরভাগই বলেছেন, মন্ত্রণালয়ের এই প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন হলে তার নেতিবাচক প্রভাবই বেশি পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

সপ্তাহে তিনদিন অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই প্রস্তাব নিয়ে বিবিসি বাংলার ফেসবুক পেজে পাঠকদের জন্য অনলাইনে মতামত চাওয়া হয়েছিল।

সেখানে অনেকেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই প্রস্তাবনার পক্ষে বিপক্ষে নানা মতামত তুলে ধরেছেন। কেউ কেউ আবার মিশ্র প্রতিক্রয়াও জানিয়েছেন।

বিবিসি বাংলার পাঠকরাও এনিয়ে তাদের মতামত জানিয়েছে
ছবির ক্যাপশান, বিবিসি বাংলার পাঠকরাও এনিয়ে তাদের মতামত জানিয়েছে

যা বলছেন বিবিসি বাংলার পাঠকেরা

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

বুধবার দুপুরে বিবিসি বাংলার ফেসবুক পোস্টে পাঁচ ঘণ্টায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার পাঠক তাদের মতামত তুলে ধরেন।

বিবিসি বাংলার এই পোস্টে যারা মতামত জানিয়েছেন, তাদের বেশিরভাই মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবটিতে নেতিবাচক অবস্থানের কথাই তুলে ধরেছেন। কেউ কেউ সিদ্ধান্তের সাথে একমত হয়েছেন। অনেকে আবার বিকল্প সিদ্ধান্ত নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন সরকারের কাছে।

সাইফুল সাইদ নামের একজন লিখেছেন, "অনলাইনে সংসদ অধিবেশন হলে জনগনের করের টাকা অনেক সেভ হতো। তাই স্কুলের ক্লাস অনলাইনে করার আগে সংসদ অধিবেশন অনলাইনে করা হোক।"

জান মোহাম্মদ নামে একজন লিখেছেন- "মর্নিং স্কুল করে কর্মঘণ্টা কিছুটা কমিয়ে সাপ্তাহিক ছুটি বাদে প্রতিদিন স্কুল চলুক"।

আরেকজন পাঠক মো. বদরুল আলম লিখেছেন "অবশ্যই না, ছাত্র ছাত্রীদের মোবাইল নেশা থেকে যত দূরে রাখা যায়, সেটার উপর গুরুত্ব আরোপ করুন"।

এবি মামুন নামের একজন লিখেছেন, "শ্রেণীতে ৪০-৫০ জন ছাত্রছাত্রীদের জন্য একটা বা দুইটা ফ্যান ঘুরবে ও লাইট জ্বলবে। কিন্তু অনলাইন ক্লাস যখন বাসায় করবে সে ৪০ জন শিক্ষার্থীর মাথার উপর চল্লিশটা ফ্যান ঘুরবে, ৪০ টা লাইট জ্বলবে। বিদ্যুৎ খুব সাশ্রয় হবে"।

অনেকেই আবার মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। মো. সোহাগ রাসেল লিখেছেন, "এই পদ্ধতিতে ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় বিষয় লক্ষণীয়, এই প্রস্তাবটি কার্যকর করার আগে সবার জন্য সাশ্রয়ী ইন্টারনেট এবং ডিভাইসের নিশ্চয়তা দেওয়া সবচেয়ে জরুরি। সব মিলিয়ে এটি একটি মিশ্র সম্ভাবনার বিষয়।

বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমাদের ইন্টারনেট অবকাঠামো কি এই পরিবর্তন সামলানোর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত"?

তানজিন কলি নামে বিবিসি বাংলার আরেকজন পাঠক লিখেছেন- "অনলাইন ক্লাস চাইনা। তার চেয়ে বরং সংসদ অধিবেশন অনলাইনে হলে অনেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় হবে"?

কেউ কেউ আবার ভিন্ন প্রস্তাবনাও তুলে ধরেন কমেন্ট বক্সে। এস এম মাহদি হাসান চারদিন সশরীরের ক্লাস এবং বাকি তিনদিন স্কুল বন্ধ রাখার পক্ষে মতামত তুলে ধরেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবকে সময়োপযোগী আখ্যা দিয়ে শামীম শেখ বলেন, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে যানজট তুলনামূলক কম হবে।

এ কে বিথি নামের একজন লিখেছেন, "সবার স্মার্ট ফোন কেনার ক্ষমতা নেই। সাথে একটি স্মার্ট ফোনও দেওয়ার আহ্বান জানাই"।

বাংলাদেশে করোনার সময় স্কুল গুলোতে অনলাইনে ক্লাস চালু হয়েছিল

ছবির উৎস, MUNIR UZ ZAMAN/AFP via Getty Images

ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশে করোনাভাইরাস মহামারির সময় স্কুলগুলোতে অনলাইনে ক্লাস চালু হয়েছিল

অভিভাবকদের আশঙ্কা মোবাইল আসক্তি

পেশায় ব্যাংকার আব্দুল্লাহ আহমেদে চৌধুরী থাকেন ঢাকার মিরপুরে। তার দুইজন যমজ সন্তান পড়েন একই ক্লাসে। সরকারের এই পরিকল্পনাকে নেতিবাচক হিসেবেই মনে করছেন তিনি।

মি. চৌধুরী বিবিসি বাংলাকে এর পেছনে দুইটি কারণের কথা উল্লেখ করেন।

প্রথমত তিনি বলছিলেন, "আমার সন্তানকে বহু কষ্টে মোবাইল আসক্তি কমিয়েছি। এখন আবার অনলাইন ক্লাস চালু হলে তাদের হাতে আবার ডিভাইস যাবে। পরে সেখান থেকে সরিয়ে আনা বহু কষ্টের হবে"।

একইসঙ্গে মি. চৌধুরী মনে করেন, অনলাইন ক্লাস নিতে পাঠদান করাতে শিক্ষকদের যে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা দরকার, তা নেই বেশিরভাগ শিক্ষকেরই। ফলে নতুন করে অনলাইনে ক্লাস চালু হলে তাতে সঠিকভাবে পাঠদান করানো সম্ভব নয়।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকায় থাকেন গণমাধ্যমকর্মী ফারদিন ফেরদৌস। তিনি মনে করেন, শিশু ও স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে তা শিক্ষাক্ষেত্রে বিপর্যয় নামিয়ে আনতে পারে।

কারণ হিসেবে তিনি বলছিলেন, "ব্লেন্ডেড ক্লাসের নামে এই পদ্ধতি চালু হলে শিশুদের মোবাইল, ল্যাপটপ কিংবা ডিভাইসে আসক্তি বাড়বে"।

এর পাশাপাশি তিনি মনে করেন, শহর এলাকায় অনেক শিক্ষার্থীরই মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ কিংবা ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ নেই। ফলে এই সুযোগ যাদের নেই তারা অনেকেই এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারে। যেটিকে বৈষম্য হিসেবেই দেখছেন তিনি।

যদিও ভিন্নমতও রয়েছে। ঢাকার বাড্ডা এলাকায় থাকেন ব্যাংকার কৌশিক আজাদ প্রণয়। তিনি ব্লেন্ডেড পদ্ধতির ক্লাস চালুর বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন।

তিনি বলছিলেন, "বাচ্চাদের স্কুলে আনা নেওয়া করতে গাড়ির দরকার হয়। এই মুহূর্তে যেহেতু জ্বালানি সংকট রয়েছে, তাই শহরের ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে শুধু তিনদিন নয় সব ক্লাসই অনলাইনে চালুর করার পক্ষে মত তার।"

ঢাকার একটি স্কুলে পরীক্ষাকালীন সময়ের ছবি এটি

ছবির উৎস, Zakir Hossain Chowdhury/NurPhoto via Getty Images

ছবির ক্যাপশান, অনলাইন ক্লাসের জন্য কোনো কোনো স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে

প্রস্তুতি নিতে বলা হচ্ছে স্কুলগুলো থেকে

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও যানজট কমাতে মহানগরীর স্কুলগুলোতে সশরীর পাঠদানের পাশাপাশি অনলাইন ক্লাসের সমন্বয়ে 'মিশ্র শিক্ষাপদ্ধতি' চালু করতে সরকারের পরিকল্পনার কথা মঙ্গলবারই জানান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক।

পরদিনই ঢাকাসহ বিভিন্ন স্কুল কলেজে এ নিয়ে নানা দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলোতে।

ঢাকার মিরপুরের মনিপুর স্কুল ও কলেজের পক্ষ থেকে বুধবার এ নিয়ে প্রস্তুতি নিতে স্কুলটির শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন শিক্ষক জানিয়েছেন।

অনলাইনে ক্লাস আয়োজনে যে সব প্রস্তুতি নেওয়া দরকার, সেই প্রস্তুতি নিতেও বলা হয়েছে শিক্ষকদের।

সেখানকার শিক্ষক সিরাজুম মনিরা বিবিসি বাংলাকে বলেন, "আমাদের হেড নোটিশ পাঠিয়েছে। জুম বা অনলাইনে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য জানিয়েছে। স্কুল থেকে জানানো হয়েছে আমরা যেন বাচ্চাদের সাথে কন্টাক্ট করি। যে কোনো সময় সরকারের নির্দেশনা মেনে অনলাইন ক্লাস চালু করতে পারি"।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই স্কুলেরই আরেকজন শিক্ষক জানিয়েছেন, চার বছর আগে করোনার সময়ে অনলাইনে ক্লাস চালু হয়েছিল।

তিনি বলেন, "সেই অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের স্কুলের শিক্ষকরাই এখন অনলাইনে ক্লাস নিতে খুব একটা আগ্রহী নয়। আর প্রায় সব অভিভাবকই চান না আবারো অনলাইনে ক্লাস চলুক। কারণ এতে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে মনযোগী করা সম্ভব নয়"।

আরেক শিক্ষক মিজ মনিরা বিবিসি বাংলাকে বলেন, "এমনিতে সশরীরে যখন ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়, তখনই বাচ্চাদের অনেকে ক্লাসে খুব বেশি মনযোগী হয় না। তার ওপর যখন অনলাইনে ক্লাস হয় আমাদের আগের অভিজ্ঞতা বলছে, শিক্ষার্থীদের একদিকে যেমন মোবাইল ফোনে আসক্তি বাড়ে, অন্যদিকে তারা পড়াশোনা বিমুখও হয়ে পড়ে"।

প্রায় একই রকম কথা বলেছেন, ঢাকার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের একজন শিক্ষক।

তিনি তার নাম প্রকাশ না করেই বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, করোনাভাইরাস মহামারির সময়ের পর থেকেই সিলেবাস থেকে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। নতুন করে যদি এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেটি সংকট আরো বাড়াবে।

বাংলাদেশ সচিবালয়
ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশ সচিবালয়

'আমরা বড় সংকটের দিকে নিয়ে যাচ্ছি'

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে বৈঠকের পর ওইদিনই দুপুরে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন শিক্ষামন্ত্রী।

সেখানে শিক্ষামন্ত্রী জানান, তিনদিন অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তারা সার্ভে অর্থাৎ জরিপ করেছেন।

শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছেন, "শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসবে এবং অনলাইনে ক্লাস করবে। সেটা নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। এবং ইতিমধ্যে আমি সার্ভেও করেছি। সেখানে ৫৫ শতাংশ মানুষ চাচ্ছে যেন অনলাইনে যাই"।

তবে শিক্ষামন্ত্রী এ-ও বলেছেন যে, এটি এখনো শুধু পরিকল্পনার পর্যায়ে রয়েছে। বৃহস্পতিবার মন্ত্রীসভার বৈঠকেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।

বুধবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বিবিসি বাংলাকে বলেন, "শুধুমাত্র অনলাইন ক্লাস না, এটি নিয়ে আরো অনেকগুলো প্রস্তাব ছিল। সব বিষয় নিয়ে বৃহস্পতিবারের বৈঠকে আলোচনা হবে। যখন এটা চূড়ান্ত হবে তখনই আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানাতে পারবো"।

সরকারের পক্ষ থেকে জরিপে যে ৫৫ শতাংশ অনলাইনে মতামত দিয়েছে এই বিষয়টি নিয়ে মি. হাজ্জাজের কাছে প্রশ্ন করা হয়েছিল বিবিসি বাংলার পক্ষ থেকে। তবে তিনি এটি নিয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, অনলাইনে ক্লাস চালু করার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যে পরিকল্পনার বিষয়টি বলা হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা বেশ কঠিন হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা গবেষণা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেন, "এই মুহূর্তে জ্বালানি নিয়ে সংকট রয়েছে। কিন্তু সেই সংকট মোকাবেলা করতে গিয়ে আমরা ছোট সংকটকে একটা বড় সংকটের দিকে নিয়ে যাচ্ছি"।

এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, করোনাভাইরাস মহামারির সময় অনলাইনের ক্লাসে বড় ধরনের শিক্ষা ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, সেটি থেকে এখনো বের হওয়া যায় নি"।

তিনি মনে করেন, যখন অনলাইনে ক্লাস হবে, তখন শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের অনেকেই অফিসে থাকবে। তখন বাচ্চারা অনলাইন ক্লাসের জন্য ডিভাইস কোথায় পাবে সেই প্রশ্নও তার।

অন্যদিকে, যাদের মোবাইল বা অনলাইন ক্লাসের জন্য যে ডিভাইস কেনার প্রয়োজন সেটি কত শতাংশ শিক্ষার্থীদের কেনা সম্ভব সেই প্রশ্নটিকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন অধ্যাপক রহমান।

এক্ষেত্রে এই সংকট মোকাবেলায় সরকারি দল বিরোধীদল সবার সমন্বয়ে একটি কমিটি বা কমিশন গঠন করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।