বাংলাদেশে নতুন সড়ক আইনের বিরুদ্ধে বাস-ট্রাক মালিক শ্রমিকের 'কর্মবিরতি', যাত্রী ভোগান্তি চরমে
ছবির উৎস, Getty Images
বাংলাদেশে বাস ও ট্রাক শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জীবনযাত্রা কার্যত থমকে গেছে। মহাসড়কে বাস সংকটের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে যাত্রীরা চলাচল করতে পারছেন না।
নতুন সড়ক পরিবহন আইন সংস্কারের দাবিতে পরিবহন শ্রমিকরা এই কর্মবিরতি পালন করছেন।
ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-টাঙ্গাইল এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
টাঙ্গাইলের একজন স্থানীয় সাংবাদিক জানিয়েছেন, বেলা ১১ টা পর্যন্ত মহাসড়কে কয়েকটি বাস চলাচল করতে দেখা গেলেও এরপর থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে কোন বাস-ট্রাক চলাচল করছে না। এর ফলে উত্তরাঞ্চলের সাথে ঢাকার সড়ক পথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।
যশোর থেকে স্থানীয় সাংবাদিক সাজেদ রহমান জানিয়েছেন, দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোল থেকে পণ্য দেশের ভেতরে নিয়ে আসার পরিবহন বন্ধ হয়েছে।
শ্রমিকদের তরফ থেকে বিষটিকে 'কর্মবিরতি' হিসেবে বর্ণনা করা হলেও বিভিন্ন জায়গায় তারা যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
মাহমুদ হাসান রনি নামে এক যাত্রী অভিযোগ করেছেন, সিরাজগঞ্জে মহাসড়কের পাশে ফুড ভিলেজ হাটিকুমরুল এলাকায় পরিবহন শ্রমিকদের একটি দল বিভিন্ন স্থান থেকে ছেড়ে আসা গাড়িগুলোর উপর অতর্কিতে হামালা চালাচ্ছে।
চট্টগ্রাম থেকে আশরাফুল ইসলাম কাজল জানিয়েছেন, "সিএনজি দিয়ে দেওয়ানহাট থেকে অলংকার যাচ্ছি, রাস্তার মাঝখানে নামায়ে দিছে। চলতে দিচ্ছে না।"
পরিবহন শ্রমিকদের এই ধর্মঘটের কারণে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন যাত্রীরা।
ফারুক পায়েল নামে এক যাত্রী বিবিসি বাংলার ফেসবুক পাতায় লিখেছেন, " আমরা কেন এই অন্যায় আবদারের পক্ষে থাকবো। আইনের কঠোর বাস্তবায়ন হোক।"
এদিকে শ্রমিক সংগঠনগুলো তাদের এই কর্মবিরতির পক্ষে নানা যুক্তি তুলে ধরছে।
বাংলাদেশে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মালিক শ্রমিক পরিষদের প্রেসিডেন্ট রুস্তম আলী খান বিবিসি বাংলাকে বলেন, নতুন আইন নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে 'আতংক' তৈরি হয়েছে।
"যদি কোন রকমের অ্যাকসিডেন্ট করে তাহলে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা হবে। এই জামিন অযোগ্য ধারাটাই ওদের মধ্যে বেশি আতংক কাজ করছে," বলছিলেন মি: খান।
প্রধান খবর
নির্বাচিত খবর
পাঠকপ্রিয় খবর
ছবির কপিরাইট