অস্ট্রেলিয়ায় ঢুকতে না পারার হতাশা থেকে নাউরু আর ম্যানাস দ্বীপে বন্দি রিফিউজিরা আত্মহত্যার চেষ্টা করছে

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ম্যানাস আইল্যান্ডের শরণার্থী বাসিন্দা বেহরুজ বুচানি।

অস্ট্রেলিয়াতে নির্বাচনের পর সে দেশে ঢুকতে না পারার হতাশাজনিত কারণে বেশ কয়েকজন আটক অভিবাসনকামী শরণার্থী আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে জানাচ্ছেন মানবাধিকার কর্মীরা।

জাহাজে চেপে যেসব অভিবাসী অস্ট্রেলিয়াতে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন ২০১৩ সালের পর থেকে এদের আটক করে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে পাশের দ্বীপ নাউরু এবং পাপুয়া নিউ গিনির অধীন ম্যানাস আইল্যান্ডে।

অস্ট্রেলিয়ার ক্ষমতাসীন এবং বিরোধী দল উভয়েই অভিবাসীদের দ্বীপান্তরে পাঠানোর নীতিমালায় সমর্থন দিয়েছে।

তবে অভিবাসীরা ভেবেছিলেন সে দেশের নির্বাচনের পর সরকারের নীতিমালায় পরিবর্তন ঘটবে। কিন্তু সে আশার গুড়ে বালি।

ম্যানাস আইল্যান্ডের বাসিন্দা রিফিউজিদের একজন ইরানি-কুর্দি সাংবাদিক বেহরুজ বুচানি। "ম্যানাসের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে," এক টুইট বার্তায় তিনি বলছেন, "আজও দু'জন লোক আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে।"

ছবির উৎস, ABDUL AZIZ ADAM/TWITTER

ছবির ক্যাপশান, মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, এই লোকটি সোমবার আত্মহত্যার চেষ্টা করে।

আরও পড়তে পারেন:

আরেকজন অভিবাসকামী শরণার্থী আব্দুল আজিজ আদম লিখেছেন, "আমি আকুল আবেদন জানাচ্ছি (অস্ট্রেলিয়ার) সরকারের প্রতি, নাউরু/ম্যানাস আইল্যান্ডে কিছু একটা করুন।"

তবে এখন পর্যন্ত মোট কতজন আত্মহত্যার প্রচেষ্টা চালিয়েছে তার সঠিক সংখ্যা জানা যাচ্ছে না।

ম্যানাস আইল্যান্ড পুলিশের কর্মকর্তা ডেভিড ইয়াপু বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, শুধু চলতি সপ্তাহান্তেই চারজন সুইসাইড করার চেষ্টা করেছে বলে তিনি জানেন।

মি. বুচানি এবং অন্যান্য শরণার্থীরা বিবিসিকে জানিয়েছেন, গত শনিবার থেকে পাপুয়া নিউগিনিতে অন্তত ১২ জন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে।

ঐ এলাকায় কাজ করছে এমন একটি এনজিও রিফিউজি অ্যাকশন কোয়ালিশনের কর্মকর্তা ইয়েন রিনটুল বলছেন, এদের মধ্যে থেকে পাঁচজনকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ার সরকার এই ঘটনার ওপর সরাসরি কোন মন্তব্য করেনি।

তবে এক বিবৃতিতে তারা বলছে, নাউরু এবং পাপুয়া নিউ গিনিতে যেসব লোক রয়েছে তাদের স্বাস্থ্য এবং ভালমন্দের দিকে নজর রাখার দায়িত্বকে তারা গুরুত্বের সাথে নিয়ে থাকে।

ছবির উৎস, REFUGEE ACTION COALITION

ছবির ক্যাপশান, ম্যানাস আইল্যান্ডের একটি শরণার্থী কেন্দ্র।

নির্বাচনের আগে অস্ট্রেলিয়ার বিরোধীদল লেবার পার্টি ঘোষণা করেছিল, তারা জয়লাভ করলে আটক হওয়া অভিবাসনকামীদের মধ্যে থেকে ১৫০ জনকে তারা নিউজিল্যান্ডে বসবাসের জন্য পাঠিয়ে দেবে। কিন্তু তারা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে।

পাপুয়া নিউ গিনি এবং নাউরুতে এখন যারা আটক রয়েছে তাদের সামনে এখন তিনটি পথ খোলা: ১. ঐ দ্বীপেই স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়া ২. যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের জন্য সীমিত সুযোগের জন্য আবেদন করা, অথবা ৩ . নিজ দেশে ফিরে যাওয়া।