'সাম্প্রদায়িক হামলাকারীদের মনোনয়ন দেবেন না', বলছেন সংখ্যালঘুদের সংগঠনের নেতারা
ছবির উৎস, Getty Images
- Author, কাদির কল্লোল
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের একটি সংগঠনের নেতারা আসন্ন নির্বাচনের সময় তাদেরকে টার্গেট করে সাম্প্রদায়িক প্রচারণা না চালানোর আহবান জানিয়েছেন।
হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান ঐক্য পরিষদ নামে সংগঠনটির নেতারা একই সাথে সংখ্যালঘু নির্যাতনকারীদের মনোনয়ন না দেয়ার জন্যও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি দাবি জানিয়েছে। বাংলাদেশে নির্বাচন হবার মাত্র তিন মাস বাকি ।
হিন্দু বৌদ্ধ খৃস্টান ঐক্য পরিষদ আজ ঢাকায় এক সমাবেশ করে এসব দাবি তুলে ধরে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে সংগঠনটির প্রতিনিধিরা তাদের দাবি সম্বলিত ফেস্টুন-ব্যানার নিয়ে যোগ দেন ঢাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশে।
প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সমাবেশে আসা কয়েকজনের সাথে কথা হয়। বিবিসি বাংলাকে তাদের একজন বলছিলেন, "অর্পিত সম্পত্তি আইন-সহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর অতীতে যে নির্যাতন হয়েছে, এর একটি ঘটনারও বিচার হয়নি। এর সাথে যে এমপিরা জড়িত, আমরা দাবি জানাচ্ছি মানীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে, - ঐ এমপিদের যেনো মনোনয়ন দেয়া না হয়।"
খুলনা থেকে আসা একজন নারী বলছিলেন, "হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান আমরা সবাই বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখছি। কিন্তু আমাদের মূল্যায়ন হয় না।"
এই সংগঠনটি এবার নির্বাচনের আগে তাদের অবস্থানের একটা বার্তা তুলে ধরতে চাইছে বলে মনে হয়েছে।
সংগঠনটির নেতা রানা দাশগুপ্ত বলেছেন, "রাজনীতিকদের জন্যে নির্বাচনটা হচ্ছে উৎসব। কিন্তু আমরা সংখ্যালঘুদের কাছে নির্বাচন মানেই হচ্ছে শঙ্কা আর বিপর্যয়।"
ছবির উৎস, Getty Images
"৯০ এর পর যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, এটা স্থানীয় হোক আর জাতীয় নির্বাচন হোক, যেখানে দেখা যায়, নির্বাচনের পূর্বাপর সময়ে সাম্প্রদায়িক প্রচার প্রচারণা চালানো হয়েছে। এবং সংখ্যালঘুদের টার্গেট করে তাদের অব্যাহত আক্রমণ পরিচালনা করা হয়েছে। এটাই আমাদের মূল উদ্বেগের বিষয়।"
সেই প্রেক্ষাপটে এবার তাদের একটা বড় দাবি সংখ্যালঘু নির্যাতনকারীদের যেনো দলগুলো মনোনয়ন না দেয়।
সমাবেশে অংশ নেয়া প্রিয়া সাহা বলছিলেন, এবার চিহ্নিত নির্যাতনকারী মনোনয়ন পেলে তারা সেই প্রার্থীকে বর্জন করার মতো সিদ্ধান্তও নিতে পারেন।
"আমাদের যে ১২ পার্সেন্ট ভোট বাংলাদেশে রয়েছে, সে অনুযায়ী আমাদের আনুপাতিকহারে যে প্রতিনিধিত্ব, সেটা কখনই নিশ্চিত হয় না। সেটা একেক সংসদে চারজন নির্বাচিত ছিল। এবার আছে সর্বাধিক। কিন্তু যারা আসলে সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে,সেই দক্ষ, যোগ্য লোকগুলোকে নমিনেশন দেয়া হয় না।"
সমাবেশে আসা কেন্দ্রীয় এবং মাঠ পর্যায়ের নেতা কর্মীদের সাথে কথা বলে মনে হয়েছে, তাদের দাবি বা উদ্বেগের বিষয় তারা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে টার্গেট করেই তুলে ধরছেন। তাদের সমর্থন এবং কর্মকান্ড আওয়ামী লীগের পক্ষে যায়, সেটা তারাও মনে করেন।
বগুড়া থেকে আসা বীরেন দাস বলছিলেন, "আমরা আমাদের কাছাকাছি, ধর্মনিরপেক্ষ, এবং মুক্তিযুদ্ধের চার স্তম্ভ যারা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে, তাদের আমরা ভোট দেবো।"
তবে রানা দাশগুপ্ত বলেছেন, তাদের বিশেষ কোনো দলের ভোট ব্যাংক ভাবা ঠিক নয়। কিন্তু তাদের বিকল্প কোনো অসাম্প্রদায়িক শক্তি না থাকায় আওয়ামী লীগের প্রতি তাদের সমর্থন যায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
"বাংলাদেশে দ্বিদলীয় রাজনীতির মধ্যে সংখ্যালঘুদের কাছে কোনো বিকল্প থাকে না। কারণ একদল তারা যে জাতীয়তাবাদের রাজনীতির কথা বলে, সেটা হচ্ছে ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদ - যাকে ৭১ সালে জাতি প্রত্যাখান করেছে। আরেকটা হলো বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ। এই সংখ্যালঘুরা কিন্তু বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের মধ্যে এক ধরণের সেক্যুলার এপ্রোচ খুঁজে পায়। আর বিকল্প কিছু নেই বলে এই পরিস্থিতিটা হয়েছে।"
সংগঠনটির নেতারা আরও বলেছেন, এবার আওয়ামী লীগের সরকারের সময়ে সংখ্যালঘু জমি দখল করে বেশ কয়েকটি নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।
সেখানে নির্যাতনকারী হিসেবে অভিযুক্ত কেউ যাতে মনোনয়ন না পায়, তা নিয়ে তারা মূলত আওয়ামী লীগের উপরই চাপ তৈরি করবেন।
প্রধান খবর
নির্বাচিত খবর
পাঠকপ্রিয় খবর
ছবির কপিরাইট