রাশিয়ায় ফুটবল বিশ্বকাপের সময় বিদেশি পুরুষদের সাথে সেক্স না করার আহবান
ছবির উৎস, Getty Images
রাশিয়ায় প্রভাবশালী একজন এমপি বিশ্বকাপ ফুটবল চলার সময় বিদেশি পুরুষদের সাথে যৌন সম্পর্ক না করতে রুশ নারীদের সতর্ক করে দিয়েছেন। এরপর থেকে তার তীব্র সমালোচনা হচ্ছে।
কমিউনিস্ট পার্টির এমপি তামারা প্লেতনিওভা মস্কো রেডিওকে বলেছেন , তিনি 'জাতীয়তাবাদী নন' কিন্তু তিনি বিশ্বাস করেন যে রুশ নারীদের বিভিন্ন দেশ থাকা আসা পুরুষদের সাথে যৌন সম্পর্ক করা থেকে বিরত থাকা উচিত । তিনি মনে করেন, তা নাহলে 'তাদের সন্তানরা ভুগবে।'
'অলিম্পিকের শিশুরা'-এ সংক্রান্ত একটি প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেছেন। কারণ একটা কথা বলা হয় যে রাশিয়ায় ১৯৮০ সালে অনুষ্ঠিত গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের পর বিভিন্ন জাতির মিশ্রণে শঙ্কর শিশুর জন্মের হার নাটকীয়ভাবে বেড়ে গিয়েছিল।
মিস প্লেতনিওভা বলেছেন, "এর পর বিদেশি পিতারা তাদের সন্তানদের পরিত্যাগ করেছিল।"
"পিতারা যদি একই জাতির হয় তাহলে সেটা অতো সমস্যা নয়। কিন্তু তারা অন্য জাতির হলেই একটা সমস্যা," বলেন তিনি।
"তাদেরকে ফেলে চলে যায় পিতারা। তারা তাদের মায়েদের সাথে এখানেই থেকে যায়। আমাদের তো উচিত আমাদের নিজেদের সন্তানদের জন্ম দেওয়া।"
'বর্ণবাদকে না বলুন'
অনলাইনে মিস প্লেতনিওভার কড়া সমালোচনা হচ্ছে। অনেকেই বলছেন, ফিফা যে বর্ণবাদ-বিরোধী প্রচারণা চালাচ্ছে, তার সাথে এই বক্তব্য সাংঘর্ষিক।
রেডিওর একজন উপস্থাপিকা তায়ানা ফ্লেগেনগাওয়ার বলেছেন, এমপি প্লেতনিওভাও কি বলবেন যে তার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছে। এর আগে টুইটারে একজন আইস স্কেটারের বর্ণবাদী মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হলে তিনি দাবী করেছিলেন যে কেউ তার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে ওই মন্তব্য করেছে।
ছবির উৎস, MLADEN ANTONOV
আরো পড়তে পারেন:
কোন কোন সমালোচক মিস প্লেতনিওভার মন্তব্যের জন্যে তাকে রুশ সংসদ দুমা থেকে বহিষ্কারেরও দাবি জানিয়েছেন।
একজন মন্তব্য করেছেন, "রুশ এই এমপি প্রাপ্তবয়স্ক রুশ নারীদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছেন।"
তবে সব মন্তব্যই কিন্তু তার জন্যে নেতিবাচক নয়। অনেকে মিস. প্লেতনিওভার কথার সাথে একমত পোষণ করেছেন। যেমন একজন লিখেছেন, "আমাদের উচিত নিজেদের রুশ সন্তানকেই জন্ম দেওয়া।" "এমপি ভুল কী বলেছেন?" আরেকজনের মন্তব্য।
আবার কেউ কেউ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলেছেন। যেমন একজন লিখেছেন, "আমার মতে, সবারই মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকতে হবে, এমপি প্লেতনিওভারও সেই স্বাধীনতা আছে।"
প্রধান খবর
নির্বাচিত খবর
পাঠকপ্রিয় খবর
ছবির কপিরাইট