ইন্দোনেশিয়ায় মা-বাবা-ছেলে-মেয়েসহ পরিবারের সবাই মিলে একসাথে তিনটি গির্জায় হামলা
ছবির উৎস, Reuters
ইন্দোনেশিয়ার সুরাবায়া শহরে তিনটি গির্জায় চালানো আত্মঘাতী হামলায় কমপক্ষে ১৩ জন মারা গেছে। আহত হয়েছে আরো অনেকে।
বালি দ্বীপে ২০০৫ সালের সন্ত্রাসী হামলার পর ইন্দোনেশিয়াতে এটাই এ ধরনের সবচেয়ে বড় হামলা। তবে এই হামলায় যে বিষয়টি অনেককেই বিস্মিত করছে তা হলো, মাত্র একটি পরিবারের সব সদস্য মিলে সমন্বিতভাবে এই হামলাগুলো চালিয়েছে।
দুই বাচ্চাকে নিয়ে মা একটি গির্জায় হামলা চালায়। আর বাবা এবং তিন ছেলে আরো দুটি হামলায় অংশ নেয়।
বলা হচ্ছে, পিতা বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি নিয়ে যান পেন্টেকোস্টাল গির্জার কাছে। তারপর হামলাটি চালানো হয়।
পুলিশ বলছে, মায়ের সাথে ছিল তার দুই কন্যা। তাদের বয়স ৯ ও ১২। তারা তাদের শরীরে বোমা বেঁধে আরেকটি গির্জায় গিয়ে নিজেদের উড়িয়ে দেয়।
ছেলেদের বয়স ১৬ এবং ১৮। তারা হামলা চালায় মোটর সাইকেলে করে।
ইসলামিক স্টেট এসব হামলায় দায় স্বীকার করেছে।
আরও পড়তে পারেন:
ইন্দোনেশিয়ায় ৯০ শতাংশ জনগণই মুসলিম । তবে সেদেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় হিন্দু, খ্রিস্টান এবং বৌদ্ধ রয়েছে।
সুরাবায়া নামে যে শহরের তিনটি গির্জায় এই আত্মঘাতী হামলা হয়েছে সেটি ইন্দোনেশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর।
প্রথম হামলাটি হয় স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে সাতটার দিকে শহরের সান্তা মারিয়া গির্জায়। পুলিশ জানিয়েছে, মোটর বাইক ব্যবহার করে ঐ হামলা চালানো হয়।
দ্বিতীয় হামলাটির লক্ষ্য ছিল পেন্টেকোস্টাল নামে আরেকটি গির্জা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তৃতীয় গির্জাটিতে হামলা চালিয়েছে বোরখা পরা এক বা একাধিক নারী।
বলা হচ্ছে, শহরের আরো কিছু গির্জায় হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে।
ছবির উৎস, Getty Images
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট ইয়োকা উইদোদো আক্রান্ত গির্জাগুলো দেখতে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের নেটওয়ার্ক খুঁজে বরে করে এই সমস্যার মূলোৎপাটনের জন্য তিনি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, সমাজের সব শ্রেণী-পেশার মানুষের উচিৎ সন্ত্রাস এবং কট্টরপন্থার বিরুদ্ধে লড়াইতে সামিল হওয়া, কারণ 'এই সন্ত্রাস ধর্মের এবং ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী।'
মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে সহনশীল হিসাবে ইন্দোনেশিয়ার সুনাম রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কট্টর ইসলাম সেখানে মাথাচাড়া দিতে শুরু করেছে।
এর আগে ইন্দোনেশিয়ায় বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলা হয়েছিল ২০০৫ সালে হিন্দু অধ্যুষিত বালি দ্বীপে। সেসময় মারা গিয়েছিল বিদেশী পর্যটকসহ ২০ জন।
প্রধান খবর
নির্বাচিত খবর
পাঠকপ্রিয় খবর
ছবির কপিরাইট