স্কুলের প্রিন্সিপ্যাল কেন পুড়িয়ে দিলেন শিশুদের হাত?

ছবির উৎস, Spencer Platt/Getty Images

ছবির ক্যাপশান, জ্বলন্ত মোমবাতির ওপর হাত ধরে রাখতে বাধ্য করা হয় ছাত্রদের।

ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যে এক স্কুল প্রিন্সিপ্যাল জ্বলন্ত মোমবাতির ওপর শিশুদের হাত ধরে রাখতে বাধ্য করে তাদের হাত পুড়িয়ে দিয়েছেন। স্কুলে কিছু টাকা চুরি যাওয়ার পর কে টাকা চুরি করেছে তা নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন স্কুলের প্রিন্সিপ্যাল।

যে স্কুলে এই ঘটনা, সেটি ঝাড়খন্ডের পশ্চিম সিংভুম জেলার চক্রধরপুরে।

এ ঘটনার পর সেখানে অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাটি তদন্তে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। স্কুল প্রিন্সিপ্যালের বিরুদ্ধে একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, স্কুলের প্রিন্সিপ্যাল ইতোমধ্যে ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন।

ছবির উৎস, RAVI PRAKASH/BBC

ছবির ক্যাপশান, তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে রিপোর্ট জমা দিয়েছে

যা ঘটেছিল:

বেরিটা মেমোরিয়াল স্কুল, যেখানে এই ঘটনা ঘটেছে, সেটি নির্মাণ করা হয়েছে একটি চার্চের সীমানার ভেতরেই।

স্কুলের চতুর্থ শ্রেণীর এক ছাত্রের দুশো রুপি চুরি যাওয়ার পর সে এ নিয়ে প্রিন্সিপ্যালের কাছে অভিযোগ করে।

এরপর প্রিন্সিপ্যাল ক্লাসের সব ছাত্রকে ডেকে জানতে চান, কে এই অর্থ চুরি করেছে। কিন্তু কেউই দোষ স্বীকার করেনি।

ছবির উৎস, RAVI PRAKASH/BBC

ছবির ক্যাপশান, রোশান এখন স্কুলে যেতে চাইছে না

এরপর স্কুল প্রিন্সিপ্যাল একে একে সব ছাত্রকে ডেকে জ্বলন্ত মোমবাতির উপর তার হাত ধরে রাখতে বলেন।

স্কুল প্রিন্সিপ্যাল নাকি ছাত্রদের বলেছিলেন, যে টাকা চুরি করেছে, তার হাতই শুধু পুড়বে।বাকীদের কোন ক্ষতি হবে না।

এরপর শিশুরা একে একে মোমবাতির ওপর তাদের হাত মেলে ধরতে থাকে। একজন শিশুর হাতে এতটাই মারাত্মকভাবে পুড়ে যায় যে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়।

রোশন নামের এই শিশুর মা শর্মিলা দেবি বলেছেন, তার ছেলের অবস্থা এখনো স্কুলে যাওয়ার মতো নয়। সে রীতিমত আতংকিত। সে কিছু খেতে পারছে না তার হাত দিয়ে, সে স্কুলে যেতে চাইছে না।

ছবির উৎস, RAVI PRAKASH/BBC

ছবির ক্যাপশান, জেলা প্রশাসক আরওয়া রাজকমল সিং

শর্মিলা দেবি জানান, শুধু তার ছেলে নয়, আরও অনেক ছেলের হাত একইভাবে পুড়ে গেছে।

ঘটনাটি নিয়ে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা এসডিও প্রদীপ প্রসাদের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে গিয়ে সবার সঙ্গে কথা বলেছেন।

এসডিও ইতোমধ্যে এ নিয়ে জেলা প্রশাসক আরওয়া রাজকমল সিং এর কাছে একটি রিপোর্টও জমা দিয়েছেন।

তিনি বিবিসিকে জানিয়েছেন, স্কুল প্রিন্সিপ্যাল তদন্ত কমিটির সামনে এসে তার দোষ স্বীকার করেছেন।

ভারতের শিশু সুরক্ষা আইনে স্কুল প্রিন্সিপ্যালের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়েছে।

প্রিন্সিপ্যাল সুশান্তি হেমব্রম বিবিসি হিন্দিকে জানিয়েছেন, বাচ্চাদের হাত যে এভাবে পুড়ে যাবে তিনি তা বুঝতে পারেন নি।

তিনি বলেন, সম্প্রতি স্কুলে অনেক চুরির ঘটনা ঘটছিল। সেজন্যে আমি বাচ্চাদের মোমবাতির ওপর হাত ধরতে বলেছিলাম, যাতে যে চুরি করেছে সে ভয় পায়।

এদিকে স্কুলটি পরিচালনা করে যে চার্চ, সেই চার্চের প্রধানও এই ঘটনার নিন্দা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এ ঘটনার ব্যাপারে চার্চ তাদের নিজস্ব ব্যবস্থা নেবে।