১০ দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার চেষ্টা চলছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী
ছবির উৎস, PM PRESS WING
বিদেশে পাচার হওয়া টাকা ফেরাতে চিহ্নিত দেশগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময় ও সম্পদ শনাক্তের কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে প্রথমবারের মতো প্রশ্নোত্তর পর্বে এ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ ১০টি দেশে টাকা পাচারের গন্তব্য হিসেবে চিহ্নিত করে দেশগুলোর সঙ্গে আইনি সহায়তা এবং তদন্তের জন্য যৌথ তদন্ত দল কাজ শুরু করেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের বিষয়কে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
এছাড়া ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড নিয়ে সরকারের উদ্যোগ এবং এসব খাতে বরাদ্দ ও মূল্যস্ফীতির বিষয়েও প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি জানিয়েছেন, সরকারের ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষি কার্ড কর্মসূচির কারণে দেশে মূল্যস্ফীতি বাড়ার কোনো শঙ্কা নেই। এসব কর্মসূচির ফলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে বলেও দাবি করেন তিনি।
এসময় সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে থাকা কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য ১৮০ দিন, আগামী অর্থবছর এবং পাঁচ বছরের জন্য নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শষ্য, ফসল, পশু পালন ও মৎস্য খাতে ইতোমধ্যে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ এরইমধ্যে মওকুফ করা হয়েছে।
এছাড়া ঈদুল ফিতরের আগেই ইমাম, মোয়াজ্জেম, খাদেম, পুরোহিতসহ মোট নয় হাজার ১০২ জনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সম্মানি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ই-হেলথ কার্ড প্রদানের জন্য একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলেও জানান তিনি। এছাড়া ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রমের বাস্তাবায়ন শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, পহেলা বৈশাখের দিন দেশে কৃষক কার্ড চালু করা হবে। প্রায় ২২ হাজার কৃষককে এই পাইলট প্রজেক্টের আওতায় আনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ছবির উৎস, SCREEWN GRAB
পাচার হওয়া টাকা ফেরাতে চায় সরকার
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিদেশে পাচার হওয়া টাকা ফেরাতে বিএনপি সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় প্রকাশিত শ্বেতপত্রের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বিগত সরকারের (আওয়ামী লীগের শাসনে) আমলে ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশে থেকে অবৈধভাবে আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
যা বছরে বাংলাদেশি টাকায় গড়ে এক দশমিক আট লক্ষ কোটি টাকা।
প্রাথমিকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া,আরব-আমিরাত, সুইজারল্যান্ড ও হংকং-চায়না-এই ১০টি দেশে টাকা পাচার হওয়ার গন্তব্য হিসেবে চিহ্নিত করা গেছে বলে জানান প্রধনমন্ত্রী।
পাচার হওয়া টাকা উদ্ধারে এরইমধ্যে অনেক দেশের সঙ্গে তথ্য বিনিময়, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং আইনি সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
মিউচুয়াল লিগাল অ্যসিট্যান্ট ট্রিটি এবং মিউচুয়াল অ্যাসিস্টেন্ট রিকোয়েস্টের মাধ্যমে দেশগুলো থেকে টাকা ফেরাতে চায় সরকার। মালয়েশিয়াসহ সাতটি দেশের সঙ্গে চুক্তি সই করার বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া টাকা ফেরাতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তারেক রহমান। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিভিন্ন অভিযোগের অনুসন্ধান এবং তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ, এনবিআর এবং শুল্ক গোয়েন্দাদের সমন্বয়ে গঠিত ১১টি যৌথ অনুসন্ধানি দল গঠন করা হয়েছে।
যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এসব টাকা পাচার করেছে, তাদের বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, "অতীতে আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে তুলে নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার আইনের ভিত্তিতেই কাজ করতে চায়। আইনগতভাবেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।"
ছবির উৎস, SCREEN GRAB
ফ্যামিলি কার্ড কী মূল্যস্ফীতি বাড়াবে?
ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষি কার্ড নিয়ে সরকারের কর্মপরিকল্পনা সংসদে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর ফলে দেশে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়ার শঙ্কা রয়েছে কিনা, এই প্রশ্নের জবাবও দিয়েছেন তিনি।
বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনের শুরুতে ফ্যামিলি কার্ড এবং পাচার হওয়া টাকা উদ্ধারে সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি জানান, প্রথমিকভাবে ১৩টি জেলায় প্রায় ৩৮ হাজার নারী প্রধান পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান শুরু হয়েছে।
এছাড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে দশটি জেলার ১১ উপজেলায় কৃষি কার্ড কার্যক্রমের পাইলটিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এসময় ফ্যামেলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন করেন রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। সরকারের কার্ড বিতরণ কর্মসূচি দেশের মূল্যস্ফীতি বাড়াবে কিনা এ বিষয়ে জানতে চান তিনি।
এই প্রশ্নের জাবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের এই পদক্ষেপ দেশের মূল্যস্ফীতি বাড়াবে না বরং এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
"মূল্যস্ফিতি হবে বলে আমরা মনে করি না বরং অর্থনীতি আরও সচল হবে। তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের জীবন মানে পরিবর্তন বোঝা যাবে," বলেন তিনি।
এই পদক্ষেপের ফলে দেশের নারী ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হবে বলেও দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, চার বছরের মধ্যে প্রায় চার কোটি মানুষের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চায় সরকার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "কৃষক কার্ডে পাবেন আড়াই হাজার টাকা বছরে, ফ্যামিলি কার্ডে নারীরা আড়াই হাজার টাকা করে মাসে পাবেন। পর্যায়ক্রমে আগাবো আমরা এবং বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো হবে। যেহেতু টাকা ছাপিয়ে দিচ্ছি না তাই মূল্যস্ফিতি বাড়বে না।"
এসব কর্মসূচির জন্য কত টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, এমন প্রশ্নে জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বাজেট কত এখনই বলছি না, পর্যায়ক্রমে বাজেট বাড়ানো হবে। পৃথিবীর কোনো দেশ একসাথে এটি বাস্তবায়ন করতে পারে না।"
তারেক রহমান এ-ও বলেন, সরকার টাকা ছাপিয়ে এ সহায়তা দিচ্ছে না। কাজেই মূল্যস্ফীতি হবে না বরং এই টাকা যাঁদের দেওয়া হবে, সেই সব কৃষক ও নারী নিশ্চয়ই সিঙ্গাপুর বা বিভিন্ন দেশে পাচার করবেন না। এই টাকা স্থানীয় অর্থনীতিতে ব্যয় হবে। এতে অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। কর্মসংস্থান বাড়বে। প্রান্তিক গোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানের উন্নতি হবে।
প্রধান খবর
নির্বাচিত খবর
পাঠকপ্রিয় খবর
ছবির কপিরাইট