উত্তর কোরিয়ায় দীর্ঘ-পাল্লার মিসাইলের সর্ববৃহৎ প্রদর্শনী
ছবির উৎস, Reuters
উত্তর কোরিয়ায় আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইলের (আইসিবিএম) এমন এক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে যা এযাবৎ কালের মধ্যে সেদেশটিতে সর্ববৃহৎ। বিশ্লেষকদের অনেকে বলছেন, এসব ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ছুঁড়ে দিতে পারে।
বুধবারের এই সামরিক কুচকাওয়াজের সময় এক ডজনের মতো দীর্ঘ পাল্লার মিসাইল প্রদর্শন করা হয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-আন তার কন্যাকে সাথে নিয়ে মধ্যরাতে আয়োজিত এই প্যারেড অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
কিম জু-আয় যে তার পিতার উত্তরসূরি হতে পারেন, কুচকাওয়াজে তার উপস্থিতি এই জল্পনাকে আরো উস্কে দিয়েছে।
প্যারেডে প্রদর্শিত দীর্ঘ-পাল্লার মিসাইলের সংখ্যা পশ্চিমা দেশগুলোকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন এতো ব্যাপক সংখ্যক আইসিবিএম, যা তাত্ত্বিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত করতে পারে, এর প্রত্যেকটি একাধিক যুদ্ধাস্ত্র বহন করলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে।
End of বিবিসি বাংলায় অন্যান্য খবর:
কী ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র
এসব মিসাইলের ব্যাপারে উত্তর কোরিয়ার সংবাদ মাধ্যমে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। কিন্তু তারা বলছে এসব অস্ত্রের প্রদর্শনী থেকে “যুদ্ধ প্রতিরোধ এবং পাল্টা আক্রমণের ক্ষমতার ব্যাপারে দেশটির শক্তি” প্রদর্শিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে উত্তর কোরিয়ার সংবাদ মাধ্যমে যেসব ছবি প্রকাশিত হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে পিয়ংইয়াং-এর কেন্দ্রীয় চত্বরে এক ডজনেরও বেশি আন্তঃমহাদেশীয় মিসাইল কুচকাওয়াজে অংশ নিচ্ছে।
একদল সৈন্য এসব মিসাইলের সঙ্গে রয়েছেন।
উত্তর কোরিয়ার কোনো কোনো বিশ্লেষক বলছেন, এই প্রদর্শনীতে দূর-পাল্লার এসব ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের জন্য নতুন ধরনের একটি আইসিবিএম লঞ্চারও তুলে ধরা হয়েছে।
এই লঞ্চারের সাহায্যে সলিড-ফুয়েল মিসাইল নিক্ষেপ করা সম্ভব। এধরনের ক্ষেপণাস্ত্র তরল-জ্বালানির মিসাইলের চেয়েও দ্রুত ছোঁড়া যায়। এটি ঠেকানোও বেশ কঠিন।
তবে কিম জং-আনের সরকার এখনও দীর্ঘ-পাল্লার সলিড-ফুয়েল ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পরীক্ষায় সফল হয়নি।
ছবির উৎস, Reuters
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
“পরমাণু অস্ত্রের আধুনিকায়ন উত্তর কোরিয়ার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য,” বলেছেন পরমাণু নীতি সংক্রান্ত একজন বিশেষজ্ঞ এবং ওয়াশিংটন-ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কার্নেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের অঙ্কিত পান্ডা।
“আমরা হয়তো আগামী মাসগুলোতে দীর্ঘ-পাল্লার এসব সলিড-ফুয়েল মিসাইলের প্রথম পরীক্ষা দেখতে পাবো,” বিবিসিকে বলেন তিনি।
তিনি বলছেন, উত্তর কোরিয়ায় আইসিবিএম যুদ্ধাস্ত্রের যে সম্প্রসারণ ঘটছে সেটা “সামরিক দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অনেক বড় একটা চ্যালেঞ্জ” হয়ে উঠতে পারে।
কেননা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে উত্তর কোরিয়ার আন্তঃমহাদেশীয় সব মিসাইল খুঁজে বের করে সেগুলো ধ্বংস করা কঠিন।
এর আগেও উত্তর কোরিয়া জাতিসংঘের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে একের পর এক পরীক্ষা চালিয়েছে। গত বছর দেশটি যতো পরীক্ষা চালিয়েছে তার সংখ্যা ছিল একটি রেকর্ড। এসব পরীক্ষার কারণে কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
এর মধ্যেই এতো ব্যাপক সংখ্যক আইসিবিএমের এই প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হলো।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি বলছে বুধবারের কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে শত্রু মোকাবেলায় দেশটির শক্তিমত্তা প্রদর্শিত হয়েছে।
যেসব ছবি প্রকাশিত হয়েছে তাতে কালো কোট ও টুপি পরিহিত কিম জং-আনকে দেখা যাচ্ছে। তার সামনে বেয়নেট হাতে নিয়ে সৈন্যরা প্যারেড করে যাচ্ছে, এবং মি. কিমের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় তারা তাকে স্যালুট দিচ্ছে।
আরেকটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে ছোট মেয়ে জু-আয়কে সাথে নিয়ে কিম জং-আন ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে এই কুচকাওয়াজ প্রত্যক্ষ করছেন।
ছবির উৎস, Reuters
আলোচনায় কিম জং-আনের কন্যা
এসব ছবি প্রকাশিত হওয়ার পর প্রায় ১০ বছর বয়সী জু-আয়ের উত্থান নিয়েও কথাবার্তা হচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় মিডিয়াতে প্রকাশিত ছবিতে জু-আয়কে সামরিক নেতাদের সঙ্গে দেখা যাচ্ছে। দেখা যাচ্ছে কুচকাওয়াজ শুরুর আগে খাবার টেবিলে তিনি তার পিতা ও মায়ের মাঝখানে বসে আছেন। এর আগে সাধারণত কিম জং-আনকেই মাঝখানে বসতে দেখা গেছে।
ছবিতে দেখা যাচ্ছে তারা হাসিমুখে বসে আছেন। আর তাদের পেছনে সামরিক কমান্ডাররা দাঁড়িয়ে রয়েছেন।
তার মা এবং কিম জং-আনের স্ত্রী রি সল জো একটি নেকলেস পরেছেন যাতে হোয়াসং-১৭ আইসিবিএম মিসাইল আকৃতির একটি অলঙ্কার লাগানো রয়েছে। এটি উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে দীর্ঘ-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র যা গত বছর পরীক্ষামূলক-ভাবে নিক্ষেপ করা হয়েছিল।
কোনো কোনো বিশ্লেষক বলছেন এথেকে বোঝা যাচ্ছে জু-আয়ই সম্ভবত কিম জং-আনের উত্তরসূরি হতে যাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, এর মধ্য দিয়ে উত্তর কোরিয়ার নেতা দেখাতে চাইছেন যে তিনি তার পরিবারকে অনেক গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।
“কিমের কন্যার ভোজসভায় যোগ দেওয়ার দৃশ্যটি চোখ এড়ানো কঠিন। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রচারণাকারীরা দেখাতে চাইছেন যে কিম জং-আন একজন পারিবারিক ব্যক্তি, তবে অন্য সন্তানরা যা ছবিতে নেই সেটাও কৌতূহল সৃষ্টি করেছে,” বলেন স্টিমসন সেন্টারের মার্টিন উইলিয়ামস যিনি উত্তর কোরিয়া নিয়ে গবেষণা করেন।
ধারণা করা হয় কিম জং-আনের অন্তত তিন সন্তান। প্রথম সন্তান ছেলে, তার আরো একটি কন্যা রয়েছে। জু-আয় সম্ভবত তার দ্বিতীয় সন্তান।
তিন মাস আগে গত নভেম্বর মাসে তাকে প্রথম জনসমক্ষে দেখা গিয়েছিল। তখন তার পিতা একটি আইসিবিএম পরীক্ষার সময় তাকে সাথে নিয়ে গিয়েছিলেন।
মি. উইলিয়ামস বলছেন, কিমের উত্তরসূরি কে হচ্ছেন সেটা এখনও নিশ্চিত করে বলার সময় হয়নি।
মি. পান্ডা বলছেন জু-আয়ের উপস্থিতি থেকে ধারণা করা যেতে পারে যে কিম জং-আন চাইছেন তার দেশের পরমাণু কর্মসূচিতে সব প্রজন্মের লোকেরা জড়িত থাকুক।
প্রধান খবর
নির্বাচিত খবর
পাঠকপ্রিয় খবর
ছবির কপিরাইট