রাজপরিবার: যৌন নিপীড়নের মামলার জেরে রাজকীয় খেতাব হারালেন ব্রিটেনের রানির ছোট ছেলে

ছবির উৎস, EPA

ছবির ক্যাপশান, সামরিক পোশাকে প্রিন্স অ্যান্ড্রু। তার বিরুদ্ধে আনা মামলা এখন তিনি লড়বেন সাধারণ নাগরিক হিসেবে।

যুক্তরাষ্ট্রে এক যৌন নিপীড়নের মামলায় বিচারের সম্মুখীন ব্রিটেনের রানির ছোট ছেলে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর রাজকীয় ও সামরিক খেতাব কেড়ে নেয়া হয়েছে।

এর মানে হল ৬১-বছর বয়স্ক ডিউক অব ইয়র্ক অ্যান্ড্রু এখন থেকে তার আনুষ্ঠানিক 'হিজ রয়্যাল হাইনেস' খেতাব ব্যবহার করবেন না এবং একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে তার বিরুদ্ধে আনা মামলা লড়বেন।

নিউইয়র্কের এক আদালত যৌন হয়রানির মামলায় প্রিন্স অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া চালানোর সিদ্ধান্ত দেয়ার পর প্রিন্স অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেয়া হল।

প্রিন্স অ্যান্ড্রু তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন।

রাজপরিবারের আরও খবর:

ছবির উৎস, PA News

ছবির ক্যাপশান, প্রিন্স অ্যান্ড্রু বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি ১৭-বছর বয়সী এক নারীকে যৌনকর্মে বাধ্য করেছেন।

তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগটি আনেন ভার্জিনিয়া জুফ্রে নামের এক নারী।

তিনি অভিযোগ করেছেন, ২০০১ সালে তার বয়স যখন ১৭ তখন প্রিন্সের বন্ধু জেফ্রি এপস্টিন যৌনকর্ম করানোর জন্য তাকে নিউইয়র্কে পাচার করেন এবং প্রিন্স অ্যান্ড্রু তাকে যৌনকর্মে বাধ্য করেন।

ডিউক অফ ইয়র্কের ঘনিষ্ঠ এক সূত্র জানাচ্ছে, প্রিন্স অ্যান্ড্রু মামলা চালিয়ে যাবেন।

সূত্রটি বলছে, বুধবার নিউইয়র্কের আদালত এই অভিযোগের ভিত্তিতে শুধু বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত দিয়েছে। এটি বাদীর অভিযোগের সারবস্তু সম্পর্কিত কোনো রায় নয়।

প্রিন্স অ্যান্ড্রুর যেসব রাজকীয় দায়িত্ব ছিল, সেসব রানির অধীনে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে এবং এসব দায়িত্ব রাজ পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে বণ্টন করা হবে।

ছবির উৎস, Virginia Roberts

ছবির ক্যাপশান, প্রিন্স অ্যান্ড্রু, ভার্জিনিয়া রবার্টস (এখন জুফ্রে) এবং জিসলিন ম্যাক্সওয়েল। ছবিটি ২০০১ সালে তোলা।

বিবিসি বাংলায় অন্যান্য খবর:

বিবিসি সংবাদদাতার বিশ্লেষণ

রাজপরিবার বিষয়ক বিবিসির সংবাদদাতা শন কখলান লিখেছেন, এসব ঘটনায় বাকিংহাম প্যালেসের পদক্ষেপ ছিল তৎক্ষণাৎ এবং নির্মম।

প্রিন্স অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে আনা যৌন নিপীড়নের মামলা থেকে যে ফলাফল বেরিয়ে আসতে পারে, রাজ পরিবার তা থেকে নিজেকে দূরে রাখতে চাইছে।

বিবিসি সংবাদদাতা লিখেছেন, প্রিন্স অ্যান্ড্রুর রাজকীয় খেতাব এবং সামরিক শিরোপা রাজপরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। এর অর্থ হল, মামলার ফলাফল যাই হোক না কেন - এসব খেতাব আর কখনই তার কাছে ফেরত আসবে না।

ফলে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সরকারি ভূমিকার দরোজাগুলো একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

ছবির উৎস, DAVE M. BENETT/GETTY IMAGES

ছবির ক্যাপশান, রানি এলিজাবেথের সাথে প্রিন্স অ্যান্ড্রু।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, ডিউক অফ ইয়র্কের সামরিক খেতাব প্রত্যাহারের বিষয়ে তাদের কোনো মন্তব্য নেই। এটা রাজপ্রাসাদের নিজস্ব বিষয়।

রাজতন্ত্র-বিরোধী প্রেশার গ্রুপ রিপাবলিক বৃহস্পতিবার একটি চিঠি প্রকাশ করেছে। এতে রাজকীয় নৌ, বিমান ও সেনাবাহিনীর ১৫০ জন সাবেক সৈনিক প্রিন্স অ্যান্ড্রুর আটটি সামরিক খেতাব প্রত্যাহার করার জন্য রানির প্রতি আহ্বান জানান।

এই চিঠিতে স্বাক্ষর-দাতাদের একজন হলেন ফার্স্ট রয়্যাল ট্যাংক রেজিমেন্টের সাবেক লেফটেন্যান্ট স্টুয়ার্ট হান্ট।

প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সামরিক খেতাব ফেরত নেয়ার সিদ্ধান্তকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তিনি একথাও বলেছেন যে আরও আগেই বিষয়টির মীমাংসা করা দরকার ছিল।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, হেলিকপ্টার পাইলট প্রিন্স অ্যান্ড্রু। ছবিটি ১৯৮৩ সালে তোলা।

প্রিন্স অ্যান্ড্রু রাজকীয় নৌবাহিনীতে ২২ বছর কর্মরত ছিলেন। আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ফকল্যান্ড যুদ্ধে তিনি একজন হেলিকপ্টার পাইলট হিসেবে অংশ নেন।

বাকিংহাম প্যালেসের এই সর্বশেষ ঘোষণায় এখন তার প্রায় সব সামরিক খেতাব প্রত্যাহার করা হলো। এর মধ্যে রয়েছে ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীতে নয়টি শীর্ষ অধিনায়কের পদ।

এছাড়া ক্যানাডা, নিউজিল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে অ্যান্ড্রু যেসব সম্মানসূচক খেতাব ব্যবহার করে আসছিলেন, সেগুলোও ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে।

প্রিন্সের সাথে সম্পর্ক রয়েছে এমন কিছু দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি সংস্থাও তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে।

তবে বেশ ক'টি গলফ ক্লাব, স্কুল ও সাংস্কৃতিক ট্রাস্টসহ ডজনখানেক প্রতিষ্ঠানে তার রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকের পদ এখনও বহাল রয়েছে।