আফগানিস্তান যুদ্ধ: ব্র্যাক কাবুল ও অন্যান্য শহর থেকে বাংলাদেশি কর্মীদের ফিরিয়ে আনছে

ছবির উৎস, BRAC

ছবির ক্যাপশান, আফগানিস্তানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবিক সহায়তা ও খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত ইস্যুতে কাজ করে বাংলাদেশি এনজিও ব্র্যাক।

বাংলাদেশি এনজিও ব্র্যাক জানিয়েছে, আফগানিস্তানে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের ফিরিয়ে আনতে শুরু করেছে তারা।

বাংলাদেশি এই বেসরকারি সংস্থাটি গত উনিশ বছর ধরে আফগানিস্তানে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। মূলত শিক্ষা, স্বাস্থ্য, করোনাভাইরাস প্রতিরোধ সংক্রান্ত সহায়তা, মানবিক সহায়তা ও খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত ইস্যুতে সেখানে কাজ করে সংস্থাটি।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, আফগানিস্তানে সংস্থাটির ৩০০০ কর্মীর মধ্যে ১৪ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছে। এদের বেশিরভাগই বাংলাদেশি।

ব্র্যাক সেখানে অবস্থানরত সব বিদেশি কর্মীদেরই শুক্রবার থেকে ফিরিয়ে আনতে শুরু করেছে। বেশ কয়েকজন এরই মধ্যে রওয়ানা দিয়েছে।

আর যারা আফগানিস্থানের বাইরে ছুটি কাটাচ্ছিলেন, তাদের আপাতত কর্মস্থলে ফিরে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আফগানিস্তানে তালেবান ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এমন সিদ্ধান্ত নিলো ব্র্যাক।

ছবির ক্যাপশান, আফগানিস্তানের অনেক এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তালেবান

ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী পরিচালক শামেরান আবেদের বরাত দিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, "আফগানিস্তানে কর্মরত কর্মীদের ঝুঁকি নিরসন করে তাদের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্র্যাক"।

তবে ব্র্যাকের তরফ থেকে জানানো হচ্ছে, আফগানিস্তানে তাদের কার্যক্রম চলবে। সেখানকার স্থানীয় কর্মীরাই চলমান প্রকল্পগুলো অব্যহত রাখবেন।

ব্র্যাক ছাড়াও আশা নামে আরেকটি এনজিওর কার্যক্রম পরিচালনা করতো আফগানিস্তানে। কিন্তু সংস্থাটি আগেই দেশটি থেকে তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে ফেলেছে বলে জানা যাচ্ছে।

এমন সময়ে ব্র্যাকের এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য তাদের কূটনীতিবিদ ও নাগরিকদের বের করে আনার জন্য কাবুলে সৈন্য পাঠিয়েছে।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, তালেবান এখন আফগানিস্তানের কমপক্ষে দশটি প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে

তালেবান দেশটির যত বেশি এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করেছে, সেই সঙ্গে বিদেশি নাগরিকরা দেশটি ছাড়তে শুরু করেছেন।

আফগানিস্তানের স্থানীয় খবরাখবরের বরাতে জানা যাচ্ছে, কানাডাও দেশটি থেকে তাদের নাগরিকদের নিরাপদে বের করে আনার জন্য সৈন্য পাঠাবে বলে মনস্থ করেছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, কাবুলে বাংলাদেশের কোন দূতাবাস নেই। পাশের দেশ উজবেকিস্তান থেকে আফগানিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের ইস্যুগুলো দেখভাল করা হয়।

তাদের তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি সংস্থার বাইরে আর কোন বাংলাদেশি আছে কিনা, সেরকম কোন তথ্য তাদের জানা নেই।

আফগানিস্তানের দশটি প্রাদেশিক রাজধানী ইতোমধ্যেই তালেবানের দখলে চলে গেছে - তার সাথে যোগ হয়েছে হেরাত ও কান্দাহারের মত গুরুত্বপূর্ণ শহর।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর এক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, আফগান নিরাপত্তা বাহিনী যেভাবে ভেঙে পড়েছে - তাতে কয়েক মাস বা এমনকি কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই কেন্দ্রীয় রাজধানী কাবুলের পতন হতে পারে।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর: