রোজিনা ইসলাম: কারাগার থেকে জামিনে ছাড়া পেলেন প্রথম আলো সাংবাদিক
ছবির উৎস, Getty Images
বাংলাদেশে প্রথম আলো পত্রিকার সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম জামিনে জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন।
আদালতের আদেশের কয়েক ঘণ্টা পরেই তিনি কাশিমপুর কারাগার থেকে একটি গাড়িতে করে বের হয়ে আসেন। তবে এসময় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কোন কথা বলেন নি।
অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়ের করা এক মামলায় তিনি প্রায় এক সপ্তাহ ধরে কারাগারে আটক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে সচিবালয় থেকে সরকারি 'নথি চুরির' অভিযোগ আনা হয়েছে।
রোজিনা ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এর আগে অস্বীকার করে বলেছেন, তার সঙ্গে "অন্যায়" করা হয়েছে। তার পত্রিকা প্রথম আলোর তরফে বলা হয়েছে "স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির রিপোর্ট করায় রোজিনা ইসলাম আক্রোশের শিকার হয়েছেন।"
হাসপাতাল থেকে মুক্ত হওয়ার পর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য রোজিনা ইসলামের পরিবার তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেছে।
রোজিনা ইসলামকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে ও তার মুক্তির দাবিতে সারা দেশেই সাংবাদিকরা আন্দোলন করছিলেন।
রোববার সকালে ঢাকা মহানগর হাকিম বাকী বিল্লা পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকা ও পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে রোজিনা ইসলামের জামিন মঞ্জুর করেন।
নিম্ন আদালতে জামিনের আদেশের পর পরই রোজিনা ইসলামের আত্মীয় স্বজন ও সাংবাদিকরা ফুল নিয়ে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারের ফটকের বাইরে ভিড় জমাতে শুরু করে।
জামিনের কাগজপত্র পৌঁছানোর পর কারা কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকতা শেষে রোজিনা ইসলামকে মুক্তি দেয়।
তাকে সচিবালয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে আটক করে রাখা ও পরে মামলা দিয়ে জেলে পাঠানোর ঘটনায় সোশাল মিডিয়াতে আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
ছবির উৎস, MUNIR UZ ZAMAN
ছবির উৎস, Getty Images
আরো পড়তে পারেন:
রোজিনা ইসলামের জামিন আবেদনের ওপর গত বৃহস্পতিবার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। তবে আজ রোববার তাকে জামিনের আদেশ দেওয়া হয়।
গত সোমবার সচিবালয়ের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যান রোজিনা ইসলাম। সেসময় তথ্য চুরির অভিযোগে তাকে ছয় ঘণ্টাআটকে রেখে হেনস্তা করা হয়।
রাতে তাকে হস্তান্তর করা হয় পুলিশের কাছে। পাঠানো হয় ঢাকার শাহবাগ থানায়। সেখানে গভীর রাতে তার বিরুদ্ধে ১৯২৩ সালের অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে মামলা দায়ের করা হয়।
পরদিন মঙ্গলবার তাকে হাজির করা হয় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে। পুলিশ তাকে পাঁচদিনের রিমা্ডের জন্য আবেদন করে।
আদালত পুলিশের রিমান্ড আবেদন নাকচ করে দিয়ে রোজিনা ইসলামকে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়।
এর পর তিনি ছয়দিন জেলখানায় আটক ছিলেন।
প্রধান খবর
নির্বাচিত খবর
পাঠকপ্রিয় খবর
ছবির কপিরাইট