ভাস্কর্য বিতর্ক: 'আলোচনার মাধ্যমে' সমাধানের কথা বলছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবির উৎস, বিবিসি বাংলা

ছবির ক্যাপশান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান

বাংলাদেশে ভাস্কর্য নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে দেশটির বেশ কিছু ইসলামী চিন্তাবিদের সাথে বৈঠকের পর 'আলোচনার মাধ্যমে' সমস্যা সমাধানের কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সোমবার রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সাথে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সচিবালয়ে আজ মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সাংবাদিকদের সেই বৈঠকের ব্যাপারে জানান ।

তিনি বলেন, ইসলামী চিন্তাবিদরা এর আগে যে পাঁচটা লিখিত প্রস্তাব দিয়েছিল, সবগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই আলাপ আলোচনার মাধ্যমে দুই পক্ষ ঐক্যমত্যে পৌছাতে পারবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

তিনি বলেন "আমরা যতটুকু আলাপ করেছি তাতে একটা সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তারা আবেদন জানিয়েছে কেউ যাতে রাস্তায় নেমে এসে ভাঙচুর না করে। কেউ যেন এসে শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি না করে-এই ব্যাপারে তারা আমাদের সাথে সম্পূর্ণ ঐকমত্যে এসেছে"।

"ফেসবুকে যে নানা ধরণের উত্তেজনা ছড়ানোর প্রয়াস চলছে সেগুলোর বিরুদ্ধে তারাও কথা বলছেন, তারা বলেছেন এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে"।

ছবির উৎস, এস এম রাশেদ

ছবির ক্যাপশান, কুষ্টিয়া শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মাণাধীন এই ভাস্কর্যের কিছু অংশ ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে।

মি. খান বলেন "আমাদের দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। কোন রকম সরকার-বিরোধী আন্দোলন যাতে না হয় সেটাও আহ্বান তারা রেখেছেন"।

'সংবিধানের বাইরে যাবো না'

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন ,সংবিধান বিরোধী হলে সেগুলো মানার তো আমাদের কোন শক্তি নেই।

"আমরা সংবিধানের বাইরে যাবো না, আমরা কারো ধর্মীয় সেন্টিমেন্টে আঘাত করতে চায়না, আলোচনার মাধ্যমে শেষ করতে চাই"।

যেই বিষয় সংবিধানের মাধ্যমে সমাধান করা যায় সেখানে সরকার আলোচনা কেন করছে -সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন "কখনো নতজানু রাজনীতি আওয়ামী লীগ করে না। আমাদের সরকার সবকিছু স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েই করেন। সংবিধানের বাইরে আমরা কোন কিছুই করবো না , তার মানে এই নয় আমরা কোন ধর্মকে অবজ্ঞা করবো। আমরা ধর্মীয় সংস্কৃতি মেনে , ধর্মীয় বিধান মেনে চলছি এবং চলবো"।

ঢাকার ধোলাইরপাড় চত্বরে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ভাস্কর্য তৈরির পরিকল্পনার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই ইসলামপন্থী বেশ কয়েকটি দল সেই পরিকল্পনার বিরোধিতায় সোচ্চার হয়েছে।

বিকল্প হিসেবে তারা সেখানে একটি মিনার করার প্রস্তাবও দিয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন "তারা বলছেন যেখানে মূল ভাস্কর্য করা হচ্ছিল সেখানে মুজিব মিনার করা যায় কিনা, তারা এইগুলা বলছেন। আমরা বলেছি আমরা আলোচনার মাধ্যমে এটা শেষ করছি"।

"কোন সিদ্ধান্ত হয় নি যে ভাস্কর্য ওখানে থাকবে না ওখান থেকে সরিয়ে নেব, কোন সিদ্ধান্ত হয় নি এই জায়গায় অন্য কিছু হবে। এগুলো আলোচনার মাধ্যমে শেষ হবে"।

"ভাস্কর্য যেখানে আছে সেখানে থাকবে কি থাকবে না সবগুলো নিয়ে আলোচনা করছি" বলেন তিনি।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন: