ভারতে বেওয়ারিশ একপাল কুকুর ধরতে ড্রোন-ক্যামেরা, দূরবীন নিয়ে মাঠে পুলিশ
ছবির উৎস, Getty Images
- Author, অমিতাভ ভট্টশালী
- Role, বিবিসি বাংলা, কলকাতা
ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের একটি জেলায় গত এক সপ্তাহে অন্তত ছয়টি শিশু বেওয়ারিশ হিংস্র কুকুরের কামড়ে মারা যাওয়ার পর সেগুলোকে ধরতে নজিরবিহীন পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়েছে।
পুলিশ বলছে, গত নভেম্বর থেকে সীতাপুর জেলায় একদল হিংস্র কুকুর ১২টি শিশু-কিশোরকে মেরে ফেলেছে।
ওই হিংস্র কুকুর দলটিকে ধরতে ড্রোন ক্যামেরা, নাইট ভিশন বাইনোকুলার নিয়ে মাঠে নেমেছে ১৮টি বিশেষ দল।
পুলিশ জানিয়েছে, সীতাপুরের গ্রামে গ্রামে কুকুরের ভয়ে বাচ্চাদের স্কুল যাওয়া বন্ধ হওয়ার জোগাড় হয়েছে। বাবা মায়েরা একা কোনও শিশুকেই বাইরে যেতে দিচ্ছেন না।
শনিবার তালগাঁও এলাকার বছর দশেক বয়সের শিশু কাসিম মাঠে ছাগল চড়াতে গিয়েছিল। সেই সময়ে হামলা চালায় ওই হিংস্র কুকুরের দল। পরে তার মৃত্যু হয়।
সেই দিনই বিহারীপুর গ্রামের কিশোর ইরফানের ওপরেও হামলা চালিয়েছিল ওই কুকুরের দল।
এ নিয়ে মে মাসেই ছটি শিশু মারা গেছে সীতাপুর জেলায়।
ছবির উৎস, Google Map
জেলার গ্রামে গ্রামে ভয়টা ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছিল নভেম্বর মাস আগেই। কিন্তু মে মাসের শুরু থেকে কুকুর অন্তত ২০টি গ্রামে চরম আতঙ্ক তৈরি করেছে।
পয়লা মে খৈরাবাদ এলাকায় কুকুরের হামলায় পর পর তিনটি শিশু মারা যায় শুক্রবার মারা যায় আরও দুটি বাচ্চা। শনিবার মারা যায় শিশু কাসিম।
নভেম্বর থেকে এ নিয়ে অন্তত ১২টি শিশু কিশোর ওই কুকুরদের দলটির হামলার শিকার হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। যদিও স্থানীয় অনেক মানুষ বলছেন, নিহতের সংখ্যা ১৭।
কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছে আরও অনেকে।
পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে বাবা মায়েরা শিশুদের একা বাড়ির বাইরে বেরতে দিচ্ছেন না। এমন কি স্কুলগুলিতেও উপস্থিতির হার কমে গেছে অস্বাভাবিক হারে।
গ্রামে গ্রামে চলছে লাঠি নিয়ে পাহারা।
শেষমেশ অবশ্য প্রশাসনের টনক নড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করার পরে পুলিশ প্রশাসন তড়িঘড়ি কুকুর ধরতে মাঠে নেমেছে।
আরও পড়ুন:
সীতাপুর জেলা যে পুলিশ কর্মকর্তার অধীনে, সেই লক্ষ্ণৌ রেঞ্জের ইন্সপেক্টর জেনারেল সুজিত পাণ্ডে বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, "আমরা সোমবার থেকে ১৮টি দল কাজে নামিয়েছি। প্রতিটি দলে পুলিশ যেমন আছে, তেমনই বনবিভাগ, ম্যাজিস্ট্রেট, বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের কর্মীরাও আছেন। রয়েছেন বিশেষজ্ঞরাও।"
শুধু বিশেষজ্ঞ আর বনবিভাগের কর্মীদের নিয়েই সন্তুষ্ট নয় পুলিশ। কুকুরদের গতিবিধি আর অবস্থান যাতে সঠিক ভাবে চিহ্নিত করা যায়, তার জন্য দুটি ড্রোন ক্যামেরা আর বেশ কয়েকটি নাইট ভিশন বাইনোকুলারও দেওয়া হয়েছে কুকুর-ধরার ওই দলগুলিকে।
মি. পান্ডে বলছিলেন, "একদিনের মধ্যেই ওই হিংস্র কুকুরদের দলটির বেশীরভাগকেই ধরা গেছে বলেই মঙ্গলবার দুপুরে জানতে পেরেছি। আরও গোটা তিন চারেক কুকুর সম্ভবত ঘুরে বেড়াচ্ছে।"
হঠাৎ করে ওই কুকুরদের দলটির হিংস্র হয়ে ওঠার নানা কারণ থাকতে পারে, যার মধ্যে খাবারের অভাব একটা বড় কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ছবির উৎস, Getty Images
দক্ষিণ ভারতীয় রাজ্য কেরালাতেও রাস্তার কুকুরদের কামড় একটা বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে গত কয়েক বছর ধরে।
এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলাও চলছে।
আদালতে জমা দেওয়া হিসাব অনুযায়ী কেরালায় ২০১৫-১৬ সালে এক লক্ষ মানুষ রাস্তার কুকুরদের কামড় খেয়েছেন। মারা গেছেন অনেকে।
এই সমস্যা সমাধানে যখন স্থানীয় মানুষরা রাস্তার কুকুরদের ধরে মেরে ফেলতে শুরু করেন, তখন আবার নানা পশু প্রেমী সংগঠন তার বিরোধিতায় নেমেছে। তারা বলছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পশু জন্ম নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা অনুযায়ী রাস্তার কুকুরদের মেরে না ফেলে তাদের নির্বীজ-করণ করার কথা।
এ সংক্রান্ত একটি মামলায় কেরালা হাইকোর্ট এর আগে মন্তব্য করেছিল যে মানুষের জীবনের দাম একটি রাস্তার কুকুরের প্রাণের দাম থেকে অনেক বেশী।
প্রধান খবর
নির্বাচিত খবর
পাঠকপ্রিয় খবর
ছবির কপিরাইট