মুরগীর ডিমে তা দিচ্ছেন ফরাসী শিল্পী
ছবির উৎস, Reuters
মুরগীর ডিমে তা দিচ্ছেন একজন মানুষ-ভাবতে অবাক লাগলেও ঘটনা কিন্তু সত্যি।
ফরাসী শিল্পী আব্রাহাম পোয়েশেভাল গত বুধবার থেকে প্যারিসের একটি জাদুঘরের কাঁচের ঘরে বসে মুরগীর ডিমে তা দিচ্ছেন সেগুলো।
'শরীরের তাপমাত্রায় মুরগীর ডিম ফোটানো'র এই পরীক্ষাটি করে সবাইকে চমকে দিতে চান ফরাসী শিল্পী আব্রাহাম পোয়েশেভাল।
প্যারিসের 'দ্য প্যালাইস দে টোকিও' জাদুঘরের একটি কাঁচের ঘরে বসে কাজটি করছেন তিনি।
মি: পোয়েশেভাল মনে করছেন, আগামী ২১-২৬ দিনের মধ্যেই তার শরীরের নিচে রাখা ১০টি ডিম ফুটে মুরগীর ছানা বের হবে।
তাঁকে দেখতে আসা কৌতুহলী মানুষদের হাসতে হাসতে মি: পোয়েশেভাল বলেন, 'ডিম ফোটার পর সম্ভবত আমি মুরগী হয়ে যাবো।'
ছবির উৎস, Reuters
তবে এবারে নিজের ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য তিনি একটু সাবধানী ভূমিকা পালন করেছেন।
সরাসরি ডিমের উপর না বসে, একটি চেয়ারের নিচে ফুটো করে ঝুড়ি বেঁধে দিয়েছেন।
এছাড়া শরীরের উষ্ণতা যতটা সম্ভব বাড়িয়ে নিতে কোরিয়ান শিল্পী সেগলুই লি'র তৈরি একটি কম্বল মুড়ে নিয়েছেন।
পাশাপাশি শরীরে কোনো ক্ষতি হবে না কিন্তু উষ্ণতা বাড়াবে এমনসব খাবার খাচ্ছেন তিনি। কিন্তু খাবার জন্য দিনে মাত্র আধঘণ্টা সময় ব্যয় করতে পারবেন মি: পোয়েশেভাল।
তবে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা ওই কাঁচের ঘরেই করে নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
ছবির উৎস, AFP
ছবির উৎস, AFP
মি: পোয়েশেভালের এমন অদ্ভুত কাজের পরিকল্পনা কিন্তু নতুন নয়, এর আগেও বেশ কিছু অদ্ভুত কাজ প্রদর্শন করে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন তিনি।
এই 'মুরগীর ডিম তা দেয়া'র মাত্র এক মাস আগেই একটি বৃহদাকারের চুনাপাথরের দুটি খন্ডের ভেতরের খোপে ঢুকে কয়েকদিন কাটিয়ে দেন তিনি।
জাদুঘর কর্তৃপক্ষ বলছে, "এই শিল্পী মানুষের জীবন থেকে পালিয়ে অন্যসব বিষয়ের অভিজ্ঞতা নেয়ার চেষ্টা করছেন"।
এর আগে, ২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে প্যারিস জাদুঘরে রক্ষিত একটি খেলনা ভালুকের ভেতর তিনি প্রায় ১৩ দিন ধরে অবস্থান করেছিলেন এই ফরাসী শিল্পী।
এছাড়াও, প্যারিসের 'গার্ড ডু নর্ড' রেলস্টেশনের বাইরে মাটি থেকে ৬৫ ফুট উপরের একটি পাটাতনে প্রায় এক সপ্তাহ অবস্থান করেছিলেন আব্রাহাম পোয়েশেভাল।
মি: পোয়েশেভালের মতে, "কোন বিষয় যদি আপনি ভালোভাবে বুঝতে চান বা কোনকিছু যদি অনুধাবন করতে চান,তাহলে দূর থেকে সেটি বুঝার চেষ্টা না করে ওই বিষয়ের ভেতরে ঢুকে সেটি করুন"।
আরো পড়ুন:
ছবির উৎস, AFP
ছবির উৎস, AFP
প্রধান খবর
নির্বাচিত খবর
পাঠকপ্রিয় খবর
ছবির কপিরাইট