পত্রিকা: 'গণভোট, বিচার বিভাগ সংস্কার, গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বাদ'

পড়ার সময়: ৭ মিনিট

এই খবরে বলা হয়েছে, গণভোট, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশসহ অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ২০টি অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারাচ্ছে।

কারণ,সংসদের চলতি অধিবেশনে এসব অধ্যাদেশ উত্থাপন না করার সুপারিশ করেছে এ সংক্রান্ত সংসদীয় বিশেষ কমিটি।

এই ২০টি অধ্যাদেশের মধ্যে চারটি অধ্যাদেশ সরাসরি রহিতকরণের সুপারিশ করেছে বিশেষ কমিটি।

সেগুলো হচ্ছে— সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ২০২৫, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৬ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ ২০২৪।

এছাড়া, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অপরিবর্তিত অবস্থায় এবং ১৫টি সংশোধিত আকারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংসদে বিল আকারে উত্থাপনের জন্য সুপারিশ করেছে কমিটি।

দৈনিকটির ক্ষমতা বৃদ্ধির অধ্যাদেশ আইন হচ্ছে, জবাবদিহি বৃদ্ধিরগুলো বাদ যাচ্ছে শিরোনামে আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে নিজেদের ক্ষমতা বৃদ্ধিতে অন্তর্বর্তী সরকার যেসব অধ্যাদেশ জারি করেছিল, সেগুলো আইনে রূপান্তরে সংসদকে সুপারিশ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি।

আবার যেসব অধ্যাদেশে সরকারের জবাবদিহি বাড়ানো হয়েছিল, সেগুলো রহিত কিংবা এখনই সংসদে উত্থাপন না করার সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রথম আলোর প্রথম পাতার একটি শিরোনাম— ৫৬ জেলায় হাম ছড়িয়েছে, উদ্বিগ্ন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

এই খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ৫৬ জেলায় হাম ছড়িয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বাংলাদেশের হাম পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের স্বাস্থ্যবিষয়ক এ বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

তারা বলছে, বাংলাদেশে গত দুই বছরে শিশুদের নিয়মিত টিকাদানের ক্ষেত্রে যে 'ইমিউনিটি গ্যাপ' বা রোগ প্রতিরোধক্ষমতার ঘাটতি তৈরি হয়েছে, হামের বর্তমান প্রাদুর্ভাবের সেটাই প্রাথমিক কারণ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, হামে আক্রান্ত শিশুদের ৬৯ শতাংশের বয়স দুই বছরের নিচে, ৩৪ শতাংশের বয়স ৯ মাসের কম।

প্রতি ১০ লাখ জনসংখ্যায় ২০২২ সালে হামের সংক্রমণের হার ছিল এক দশমিক ৪১, ২০২৩ সালে তা এক দশমিক ৬০, ২০২৪ সালে এক দশমিক ৪৩, ২০২৫ সালে শূন্য দশমিক ৭২। বর্তমানে তা ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ।

এই খবরে বলা হয়েছে, দেশে হামের সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাব কোনো হঠাৎ তৈরি হওয়া সংকট নয়, বরং এর আগাম সতর্ক সংকেত ছিল স্পষ্ট এবং উদ্বেগজনক।

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকেই নমুনা পরীক্ষায় অস্বাভাবিক হারে সংক্রমণ শনাক্ত হতে শুরু করে।

কোনো দিন ৩০ শতাংশ, আবার কোনো দিন ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত পজিটিভ পাওয়া যাচ্ছিল।

বিষয়টি জানুয়ারির শুরুতেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার তা গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ওই সময় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে বর্তমানের এই প্রাণঘাতী পরিস্থিতি অনেকটাই এড়ানো যেত।

বিশেষজ্ঞরা হামের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধির পেছনে টিকাদান কর্মসূচিতে বড় ধরনের ঘাটতির কথা তুলে ধরছেন।

দেশে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি প্রতি ৪ বছর অন্তর একটি বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালনার কথা থাকলেও ২০২৪ সালে রাজনৈতিক কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি। পরবর্তী বছরেও বিভিন্ন কারণে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

ফলে বিপুলসংখ্যক শিশু টিকার বাইরে থেকে যায়, যা এই প্রাদুর্ভাবের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রধান সংবাদ— Surging freight costs threaten exports, stoke inflation fears; অর্থাৎ জাহাজ ভাড়ার ঊর্ধ্বগতিতে ঝুঁকির মুখে রপ্তানি, বাড়ছে মূল্যস্ফীতির শঙ্কা।

এই খবরে বলা হয়েছে, যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে ঝুঁকি বাড়া এবং পরিবহন সক্ষমতা সংকুচিত হওয়ায় জাহাজ ভাড়া দ্রুত বাড়ছে।

সম্ভাব্য হামলা এড়াতে অনেক জাহাজ নিরাপদ জলসীমায় অপেক্ষা করছে, আবার কিছু জাহাজ দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল বিকল্প পথ বেছে নিচ্ছে।

একই সঙ্গে তেলের সরবরাহ সংকুচিত হওয়ায় বাংকার ফুয়েলের (জাহাজের জ্বালানি) দাম বেড়েছে এবং বীমা প্রিমিয়ামও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের অভিঘাত এখন বাংলাদেশেও অনুভূত হচ্ছে।

দেশে পরিচালনাকারী শিপিং লাইনগুলো কনটেইনার ডিটেনশন চার্জ ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে এবং জরুরি জ্বালানি সারচার্জ (ইএফএস) আরোপ করেছে।

এতে বৈশ্বিক সরবরাহ বিঘ্ন ও চাহিদা হ্রাসে আগে থেকেই চাপে থাকা ব্যবসায়ীদের ওপর নতুন বোঝা চেপে বসেছে।

এর সম্মিলিত প্রভাব লজিস্টিক ব্যয় প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

যা আমদানি ব্যয় বাড়াবে, রপ্তানিকারকদের মুনাফা কমাবে এবং শেষ পর্যন্ত ভোক্তাপর্যায়ে মূল্যস্ফীতি বাড়াবে।

যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম— সংসদের উত্তাপ রাজপথে

এই খবরে বলা হয়েছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদ ইস্যুতে সংসদের উত্তাপ গড়াচ্ছে রাজপথে।

গণভোটের আলোকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে শনিবার বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।

তারা বলছে, সংবিধান সংস্কারে দেশের জনগণ জুলাই আদেশ বাস্তবায়নের জন্য গণভোটে 'হ্যাঁ'-এর পক্ষে রায় দিয়েছে। কিন্তু সরকারি দল বিএনপি সংবিধান সংস্কার না করে তাদের পছন্দমতো কিছু বিষয় সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। যা জনরায়কে উপেক্ষা করা।

এ কারণে দাবি আদায়ে প্রয়োজনীয় কর্মসূচি দিতে ৭ই এপ্রিল বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে।

ওই বৈঠক থেকে বৃহত্তর আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা করা হবে।

দ্য ডেইলি স্টারের দ্বিতীয় প্রধান শিরোনাম— Austerity Measures: Office hours now 9 to 4, shops to close by 6; অর্থাৎ কৃচ্ছ্রসাধনের নীতি: অফিস সময় ৯টা-৪টা, মার্কেট বন্ধ সন্ধ্যা ৬টায়।

এই খবরে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি খাতে সংকট দেখা দেওয়ায় অফিসের সময় কমানো, দোকান-শপিং মল আগেভাগে বন্ধ করাসহ একাধিক ব্যয় সংকোচনমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশের সরকার।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে, আগামী রোববার থেকে সরকারি-বেসরকারি চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত।

অন্যদিকে, খাবার, ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান ছাড়া বাকি দোকানপাট ও শপিং মল বন্ধ করতে হবে সন্ধ্যা ৬টায়। যা আজ শুক্রবার থেকে কার্যকর হবে।

এছাড়া, সরকারি দপ্তরগুলোর জন্য জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ব্যয় ৩০ শতাংশ কমানো এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত সকল বৈদেশিক প্রশিক্ষণ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সরকারি যানবাহন, জলযান ও বিমান ক্রয়ও স্থগিত রাখা হয়েছে।

এদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সময়সূচিতে নতুন সিদ্ধান্ত আসবে আগামী রোববার।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার একটি খবরের শিরোনাম— বিকল্প উৎস থেকে সাত লাখ টন তেল আনা হবে

এই খবরে বলা হয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, চলতি এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেলের চাহিদা পূরণের মতো ব্যবস্থা বাংলাদেশের রয়েছে।

এছাড়া, বিকল্প উৎস থেকে মোট সাত লাখ টন জ্বালানি তেল আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তবে এ জন্য বিভিন্ন প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে হবে, যা কিছুটা সময়সাপেক্ষ। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন, গত এক মাসে অন্তত সাতটি বিদেশি কোম্পানি জ্বালানি তেল সরবরাহ করতে আগ্রহ দেখিয়েছে।

এসব কোম্পানির প্রস্তাবে অন্তত সাত লাখ টন পরিশোধিত ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রয়েছে।

প্রস্তাবগুলো আমদানিপ্রক্রিয়ার কিছু ধাপ পার হলেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত এলসি খোলার পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

রান্নার সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বাড়ল প্রায় ২৯ শতাংশ— বণিক বার্তার প্রথম পাতার খবর এটি।

এতে বলা হয়েছে, চলতি মাস এপ্রিলের জন্য ১২ কেজি সিলিন্ডার গ্যাসের দাম এক হাজার ৭২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত মাসে একই সিলিন্ডারের এলপিজির দাম ছিল এক হাজার ৩৪১ টাকা।

নতুন এ দামের ফলে মার্চের তুলনায় এক লাফে দাম বেড়েছে ৩৮৭ টাকা, যা প্রায় ২৯ শতাংশ।

গাড়িতে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও বাড়িয়েছে কমিশন। চলতি মাসের জন্য অটোগ্যাসের লিটারপ্রতি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৯ টাকা ৭৭ পয়সা, যা মার্চে ছিল ৬১ টাকা ৮৩ পয়সা। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে অটোগ্যাসের দামও বেড়েছে ২৯ শতাংশের বেশি।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী সংকট তৈরি হলেও সরকার এখনো জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ায়নি।

তবে এলপিজির দাম প্রতি মাসে সমন্বয়ের ধারাবাহিকতায় এটি কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি।

দাম নির্ধারণকারী সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে এলপিজির প্রধান উপাদান বিউটেন ও প্রোপেনের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশের বাজারেও এ দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

নয়া দিগন্তের প্রথম পাতার একটি খবর— আদানির সাথে বিদ্যুৎ চুক্তির সংশোধন বিবেচনাধীন

এই সংবাদে বলা হয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতের আদানি পাওয়ারের সাথে চুক্তিটি অস্বাভাবিক মূল্যে হয়েছে বলে অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত জাতীয় কমিটি যে প্রতিবেদন দিয়েছিল, তার আলোকে ওই চুক্তির বিষয়ে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের দ্বারস্থ হওয়া অথবা আদানি পাওয়ারের সাথে আলোচনাক্রমে চুক্তিটি সংশোধনের মতো বিষয়গুলো সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

সংসদে তিনি বলেছেন, দেশে চাহিদা অনুযায়ী বর্তমানে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই। তবে তবে গ্রীষ্মকালে প্রাথমিক জ্বালানির ঘাটতি ও সঞ্চালন সীমাবদ্ধতায় মাঝে মধ্যে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে।

জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর সাথে সমন্বয় রেখে সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন করা হচ্ছে।