পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা হত্যার বদলা নিতে অগ্নিসংযোগ, ৮ জন নিহত

ছবির উৎস, Collected

ছবির ক্যাপশান, রামপুরহাটের এই বাড়িগুলি থেকে উদ্ধার হয়েছে ৮টি পুড়ে যাওয়া মৃতদেহ

পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক তৃনমূল কংগ্রেস নেতাকে হত্যার পরে তার গ্রামে বেশ কয়েকটি বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনায় পুলিশ এখনও পর্যন্ত আট জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

ঘটনার সূত্রপাত সোমবার রাতে বীরভূম জেলার রামপুরহাট এলাকার বকটুই গ্রামে।

চায়ের দোকানে বসে থাকার সময়ে স্থানীয় পঞ্চায়েত উপপ্রধান ভাদু শেখের ওপরে কয়েকজন দুষ্কৃতি বোমা হামলা চালায়।

হাসপাতালে নিয়ে গেলে মি. শেখকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।

মি. শেখের মৃত্যুর খবর গ্রামে ছড়িয়ে পরতেই তার সমর্থকরা গ্রামে তাণ্ডব শুরু করেন। একের পর ঘরে আগুন দিতে থাকেন তারা।

ছবির উৎস, Collected

ছবির ক্যাপশান, ভাদু শেখ হত্যার সঙ্গে বাড়িতে আগুন দেওয়ার কোনও যোগ আছে কী না, খতিয়ে দেখছে পুলিশ

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের মহানির্দেশক মনোজ মালব্য বলছেন, "পুড়ে যাওয়া বাড়িগুলি থেকে রাতেই তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। তার মধ্যে একজন মঙ্গলবার মারা গেছেন। আর বাড়িগুলি থেকে সাতটি পুড়ে যাওয়া মৃতদেহ আমরা পেয়েছি। সব মিলিয়ে ওই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা আট।"

এক সংবাদ সম্মেলনে মি. মালব্য জানান, "উপপ্রধান খুন হওয়ার পরে ওখানকার লোকেরা উত্তেজিত হয়ে এই কাজ করেছেন না কি অন্য কোনও কারণে, সেটাই আমরা খতিয়ে দেখছি।

হত্যা আর বাড়িতে আগুনের পিছনে রাজনীতি নেই: তৃণমূল কংগ্রেস

তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা কুনাল ঘোষ একটি টুইট করে জানিয়েছেন যে ওই ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই।

গ্রাম্য বিবাদকেই দায়ী করছেন মি. ঘোষ।

তবে তিনি এটাও লিখেছেন "দুর্ঘটনা, না আগের খুনের প্রতিক্রিয়া, না ষড়যন্ত্র সবটাই খতিয়ে দেখা হবে।"

ছবির উৎস, Collected

ছবির ক্যাপশান, ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করেছে সরকার

এদিকে এই ঘটনায় রাজ্য সরকার একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করেছে।

রামপুরহাট থানার ওসিকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে আর মহকুমা পুলিশ অফিসারকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ মহানির্দেশক।