ফ্রান্স হামলা: নিস-এ 'সন্ত্রাসী হামলা'য় ছুরিকাঘাতে তিনজনের মৃত্যু, জানাচ্ছেন মেয়র

ছবির উৎস, VALERY HACHE

ছবির ক্যাপশান, নিস শহরে ছুরি নিয়ে চালানো হামলায় নিহত একজনের আত্মীয় গির্জার সামনে আহাজারি করছেন।

ফ্রান্সের নিস শহরে একটি গির্জায় ছুরি নিয়ে চালানো হামলায় তিন ব্যক্তি মারা গেছেন।

নিস শহরের মেয়র ক্রিশ্চিয়ান এসট্রসি বলেছেন ''নত্রে ডেম গির্জার মধ্যে এই সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে।''

একজন নিহত ব্যক্তি যিনি গির্জায় প্রার্থনা করতে এসেছিলেন তার ''প্রায় শিরশ্ছেদ'' করা হয়েছে। হামলার পরপরই সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে গুলি করা হয়েছে এবং তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মি. এসট্রসি এটাকে ''ইসলামী- ফ্যাসিবাদ'' বলেছেন এবং বলেছেন সন্দেহভাজন ব্যক্তি " বারবার আল্লাহু আকবর" ধ্বনি দিচ্ছিল।

এমানুয়েল ম্যাক্রঁ ঘটনাস্থলে গেছেন। ফ্রান্সের জাতীয় সন্ত্রাস দমন বিষয়ক কৌঁসুলি খুনের তদন্ত শুরু করেছেন।

মি. এসট্রসি এই হত্যাকাণ্ডকে শিক্ষক স্যামুয়েল প্যাটির সাম্প্রতিক হত্যার সাথে তুলনা করেছেন। এ মাসে গোড়ার দিকে প্যারিসের উপকণ্ঠে একটি স্কুলের ক্লাসরুমে ইসলামের নবীর কার্টুন দেখানোর সূত্রে ঐ স্কুল শিক্ষককে স্কুলের কাছে শিরশ্ছেদ করা হয়।

তবে নিস শহরের হামলার ঘটনার উদ্দেশ্য সম্পর্কে পুলিশ এখনও পর্যন্ত কিছু বলেনি।

তবে ইসলামের নবীর কার্টুন প্রকাশের পক্ষ সমর্থন করে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যে মুসলিম বিশ্বে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে এবং কয়েকদিন ধরেই কিছু দেশে বিক্ষোভ হয়েছে। কোন কোন দেশে ফরাসি পণ্য বর্জনেরও ডাক দেয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে আজ বৃহস্পতিবার আরও দুটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। একটি ফ্রান্সে এবং অন্যটি সৌদি আরবে।

ফ্রান্সে আভিন্ন্যুয়ার কাছে মঁফাভেত শহরে পুলিশকে হ্যান্ডগান নিয়ে হুমকি দেয়ার পর এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

আর জেদ্দাতে ফরাসি দূতাবাসের বাইরে একজন রক্ষীর ওপর হামলা চালানো হয়েছে। সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ঐ রক্ষীকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

আরও পড়তে পারেন:

ছবির উৎস, EPA

ছবির ক্যাপশান, গির্জায় হামলার কয়েক মিনিট পর সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়

নিস শহরের ঘটনা সম্পর্কে কি জানা যাচ্ছে?

নিহত তিনজনের মধ্যে দুজন গির্জার ভেতর মারা গেছে। একজন বৃদ্ধা নারী এবং একজন পুরুষ। খবরে বলা হচ্ছে ওই পুরুষকে গলা কাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে।

আরেকজন নারী ছুরিকাহত অবস্থায় কাছের একটি কফির দোকানে পালিয়ে যেতে পেরেছিলেন। তিনি পরে মারা গেছেন।

পরে খবরে জানা গেছে, একজন প্রত্যক্ষদর্শী শহরে যে বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে তার মাধ্যমে সতর্কসঙ্কেত দিতে সমর্থ হন।

গির্জার কাছে থাকেন শ্লো নামে এক বাসিন্দা বিবিসিকে বলেছেন: "আমরা রাস্তায় অনেক লোকের চেঁচামেচি শুনতে পাই। জানলা দিয়ে দেখি প্রচুর, প্রচুর সংখ্যায় পুলিশ আসছে। বন্দুকের গুলির আওয়াজ শুনতে পাই। অনেক গুলির আওয়াজ।"

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, পুলিশ বলছে স্থানীয় সময় সকাল নয়টার কিছু পর হামলার ঘটনা ঘটে

সাংবাদিকতার ছাত্র টম ভ্যানিয়ার হামলার কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন। তিনি বিবিসিকে বলেন রাস্তায় লোকজন কান্নাকাটি করছিল।

চার বছর আগে নিস শহরে একটি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছিল। এক ব্যক্তি সমুদ্র সৈকতে জনতার ভিড়ের ওপর দিয়ে ট্রাক চালিয়ে দিয়েছিল। ওই ঘটনায় মারা গিয়েছিল ৮৬ জন মানুষ।

কী ধরনের প্রতিক্রিয়া হয়েছে?

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ফ্রান্সের সৈকত শহর নিস-এর কেন্দ্রীয় এলাকায় মানুষজনকে না যাবার পরামর্শ দিয়েছেন। জেরাল্ড দারমানিন বলেছেন প্যারিসে মন্ত্রণালয়ের একটি জরুরি বৈঠক তিনি ডাকছেন।

আরও দেখতে পারেন:

ভিডিওর ক্যাপশান, ফ্রান্সের বিরুদ্ধে এরদোয়ান, ইমরান খানসহ মুসলিম দেশগুলোর ক্ষোভের কারণ কী?

প্যারিসের জাতীয় পরিষদের অধিবেশনের মাঝখানে এক মিনিটের নীরবতা পালন করা হয়েছে। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী এসময় কোভিড-১৯এর যে লকডাউন আজ রাত থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে সে বিষয়ে বিস্তারিত ঘোষণা দিচ্ছিলেন।

"দেশের সামনে এটা খুবই গুরুতর মাপের নতুন একটা চ্যালেঞ্জ সে বিষয়ে সন্দেহ নেই," তিনি বলেন। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

মুসলিম সংগঠন, ফ্রেঞ্চ কাউন্সিল অফ দ্য মুসলিম ফেইথ নিস শহরে ছুরি নিয়ে চালানো হামলার নিন্দা করেছে। এবং হতাহত ও তাদের পরিবারের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছে।