নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভারতে রান্নার গ্যাসের কালোবাজারি, ২২টি এফআইআর দায়ের দিল্লিতে

ছবির উৎস, NurPhoto via Getty Images
- Author, প্রচেতা পাঁজা
- Role, বিবিসি নিউজ বাংলা, দিল্লি
- পড়ার সময়: ৪ মিনিট
মধ্য প্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির ফলে ভারতে যে রান্নার গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে, তার সুযোগ নিয়ে গ্যাসের কালোবাজারি শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নানা শহরের বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন যে, নির্ধারিত দামের বহুগুণ অর্থ দিয়ে তাদের গ্যাস নিতে হচ্ছে। বিকল্প হিসাবে কেউ কেউ আবার কেরোসিন দিয়ে রান্না করতে শুরু করেছেন।
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে এবার রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার মজুত করে রাখার জন্য ধরপাকড় শুরু হয়েছে। মার্চ মাসে দিল্লিতে মোট ১৭১০টি রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। কালোবাজারি রুখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে দেশজুড়েই।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পয়লা মার্চ থেকে ২৬শে মার্চের মধ্যে রাজধানী জুড়ে ৭৬টি অভিযান চালানো হয়।
দিল্লিতে ২২টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মূল অভিযোগের তীর বেশিরভাগই গ্যাসের ডিলার বা ডেলিভারি বয়দের দিকে।
ভারত সরকারের তরফে বারবার জানানো হয়েছে, দেশে যথেষ্ট পরিমাণ জ্বালানি মজুত রয়েছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের তরফে দেশবাসীকে অনুরোধ করা হয়েছে আতঙ্কিত হয়ে 'সিলিন্ডার মজুত বা প্যানিক বাইং' না করার জন্য।
মধ্য প্রাচ্যের ঘটনাবলি নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় ব্রিফিংয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেশ কয়েকটি রাজ্য জুড়ে বড় আকারের তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে। দিল্লি, গোয়া, উত্তর প্রদেশ, ভারত শাসিত জম্মু ও কাশ্মীর, কেরালা এবং মধ্যপ্রদেশ জুড়ে ১২,০০০-এর বেশি অভিযান চালিয়ে ১৫,০০০-এর বেশি সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

ছবির উৎস, AFP via Getty Images
গ্যাস বন্টন ব্যবস্থার ওপরে চলছে কড়া নজরদারি
ভারতের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এলপিজি বন্টন নেটওয়ার্কের উপর কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে এবং কালোবাজারি রুখতে ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি খুচরা আউটলেট ও এলপিজি ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারগুলোতে ২৫০০-এর বেশি বার আকস্মিক পরিদর্শন চালিয়েছে।
তেল যথেষ্ট মজুত রয়েছে, সরকারের তরফে বারবার এই আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও বেশ কিছু জায়গায় প্যানিক বাইং এর ঘটনা ঘটছে যার ফলে কালোবাজারি বাড়ছে বলে সরকারই স্বীকার করে নিয়েছে।
গৃহস্থালীর জন্য ব্যবহৃত সিলিন্ডার বানিজ্যিক ব্যবহারের জন্য চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে কি না, সেদিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।
ভারত সরকার জানিয়েছে, " সমস্যার সূত্রপাত থেকেই এলপিজি সরবরাহের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে গৃহস্থালী, হাসপাতাল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে।"
বিকল্প পাইপ লাইন গ্যাস
এলপিজি সরবরাহের উপর চাপ কমাতে, যাদের কাছে পিএনজি, অর্থাৎ যে গ্যাস পাইপলাইন দিয়ে সরবরাহ করা হয় এবং এলপিজি সিলিন্ডার দুটির সংযোগই রয়েছে সেই গ্রাহকদের ১৪ই মার্চ ২০২৬ তারিখের এক নির্দেশ অনুযায়ী এলপিজি সংযোগ বাতিল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পেট্রোলিয়াম সচিব নীরজ মিত্তল বলেছেন, ইতিমধ্যেই ছয় হাজার পিএনজি গ্রাহক তাদের এলপিজি সংযোগ বাতিল করেছেন। সরকারী তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসেই ২ লক্ষ ৯০ হাজার অতিরিক্ত পিএনজি সংযোগ নতুন করে দেওয়া হয়েছে।
ন্যায্য বন্টন নিশ্চিত করতে এলপিজি সিলিন্ডার বুকিংয়ের ব্যবধানও সংশোধন করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শহরাঞ্চলে এই ব্যবধান ২৫ দিন এবং গ্রামাঞ্চলে ৪৫ দিন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে তা নিয়েও বিভ্রান্তি ছড়ায়। পরে প্রশাসনের তরফে বিবৃতি দিয়ে বার্তা পরিষ্কার করা হয়।
End of বিবিসি বাংলায় আরও পড়তে পারেন

ছবির উৎস, AFP via Getty Images
কেরোসিন সরবরাহে ছাড়
এলপিজির চাহিদার উপর চাপ কমাতে কর্তৃপক্ষ কেরোসিন ও কয়লার মতো বিকল্প জ্বালানিও সহজলভ্য করেছে। ২১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে কেরোসিন বিতরণের অনুমতি দিতে গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ভারত সরকার।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, এই ব্যবস্থাটি শুধুমাত্র বাড়িতে রান্না ও আলো জ্বালানোর জন্য ব্যবহৃত কেরোসিনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এমনকি দ্রুত সরবরাহের সুবিধার জন্য ডিলার ও পরিবহনের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম শিথিল করা হযেছে।
২০২২ সালে দূষণের কারণে রেশন দোকানে কেরোসিন সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছিল ভারত সরকার। তবে এলপিজি সংকটের কারণে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে রেশন দোকানে আবারও পাওয়া যাবে কেরোসিন। সাময়িক ভাবেই এই গণবন্টনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
পেট্রোল-ডিজেলে কমল শুল্ক
ভারত সরকার পেট্রোল ও ডিজেল উভয়ের ওপর লিটার প্রতি ভারতীয় মুদ্রায় ১০ টাকা শুল্ক কমিয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের তীব্র ও দ্রুত বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মধ্য প্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং এর ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে সৃষ্ট বিঘ্নের কারণে গত এক মাসে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ৭০ মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ১২২ মার্কিন ডলার হয়েছে — যা চার সপ্তাহেরও কম সময়ে প্রায় ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে।
তবে সরকারি তরফে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আপাতত, পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরো মূল্য অপরিবর্তিত থাকবে।
শুল্ক হ্রাসের পাশাপাশি সরকার ডিজেলের উপর একটি রফতানি শুল্ক চালু করেছে। বিবৃতিতে ব্যাখ্যা করে বলা হয়েছে, এই শুল্ক আরোপের উদ্দেশ্য হল রফতানি কমিয়ে আনা এবং উৎপাদিত দ্রব্যকে মূলত আভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর জন্য ব্যবহার করা।








