রায়হান কবির গ্রেফতার: 'একজন শ্রমিকের জন্য শ্রমবাজার ঝুঁকিতে ফেলবে না সরকার'
মালয়েশিয়ায় গ্রেফতার বাংলাদেশি অভিবাসী রায়হান কবিরের ব্যাপারে সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমেদ বলেছেন, তারা দেশের স্বার্থ দেখছেন।
বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেছেন, "এতে কোন সন্দেহ নেই যে সে বাংলাদেশের নাগরিক। তার প্রতি আমাদের দায়িত্ব রয়েছে। কিন্তু দেশের প্রতি আমাদের দায়িত্ব আরও বড়। সেটা আমাদের মাথায় রাখতে হবে।"
তিনি আরও বলেছেন, "সেখানে লাখ লাখ শ্রমিক কাজ করে। আমাকে তাদের চিন্তা করতে হবে। একজন ব্যক্তি কী করলো, কেন করলো সে নিয়ে আমি কোন প্রশ্ন তুলছি না। তার বিষয়টি এখানে অনেক পরের দিকে আসে।"
বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শ্রম বাজার মালয়েশিয়া। সরকারি হিসেবে মালয়েশিয়াতে ছয় লাখের মতো নিবন্ধিত শ্রমিক রয়েছে। এর বাইরে বেশ বড় সংখ্যায় অনিবন্ধিত শ্রমিকও রয়েছে।
বাংলাদেশের সরকার রায়হান কবিরের ব্যাপারে কোন অবস্থান নিয়ে এই শ্রম বাজারকে ঝুঁকিতে ফেলতে চায় না, মন্ত্রীর কথায় এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেলো।
বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ তাদের নাগরিকেরা বিদেশে কোন আইনি জটিলতায় জড়িয়ে গেলে তাকে সহায়তা দিয়ে থাকে।
ছবির উৎস, IMMIGRATION DEPARTMENT, MALAYSIA FACEBOOK PAGE
আরো পড়ুন:
এমনকি কোন ফৌজদারি অপরাধ হলে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের ব্যবস্থা করার নজিরও রয়েছে।
সৌদি আরবে কর্মরত ফিলিপিন্সের একজন গৃহকর্মী তার চাকুরীদাতাকে হত্যার অভিযোগে মৃত্যু দণ্ডাদেশ পেয়েছিলেন।
এরপর ফিলিপিনো সরকার তাকে আইনজীবী নিয়োগ দিয়ে সহায়তা সহ জোরালো কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও চালিয়েছিল।
রায়হান কবিরের ব্যাপারে বাংলাদেশের সরকার নিষ্ক্রিয় ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা উঠেছে।
তার ব্যাপারে ঠিক কি করা হচ্ছে তা নিয়ে গ্রেফতারের পর থেকে সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি কোন বক্তব্য আসেনি।
মালয়েশিয়াতে অভিবাসী শ্রমিকদের উপর নিপীড়নের বিষয়ে আল জাজিরা টেলিভিশনের একটি তথ্য চিত্রে সাক্ষাৎকার দেয়ার পর তাকে গত ২৪শে জুলাই গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার করার পর তাকে ১৪ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।
তার সাক্ষাৎকারের জন্য মালয়েশিয়ার সোশাল মিডিয়াতে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছেন মি. কবির। তার প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করেও অনেকে মন্তব্য পোস্ট করেছেন।
মালয়েশিয়ার মানবাধিকার কর্মীরা তার গ্রেফতারের পর দেশটির সরকারের সমালোচনা করেছে।
রায়হান কবিরকে 'স্পষ্টভাষী' উল্লেখ করে তাকে মুক্তি দেয়ার আহবান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।
ঢাকাতেও অভিবাসীদের সংগঠন এবং অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করে এরকম ৬৪ টি সংগঠন বৃহস্পতিবার প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে।
প্রধান খবর
নির্বাচিত খবর
পাঠকপ্রিয় খবর
ছবির কপিরাইট