কোন ধরনের আগুন কীভাবে নেভাবেন?

ছবির উৎস, MUNIR UZ ZAMAN

ছবির ক্যাপশান, ঘন ঘন মহড়া, বাড়ি থেকে বের হওয়ার পথ চিহ্নিত করে রাখার পরামর্শ দেন দমকল কর্মীরা।
    • Author, শাহনাজ পারভীন
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তথ্যমতে, ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে অগ্নি দুর্ঘটনার সংখ্যা ৮৫ হাজারেরও বেশি যাতে ১৬ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছেন।

তাদের তথ্যমতে অগ্নিকাণ্ডের প্রধান কারণগুলো তিনটি- বৈদ্যুতিক গোলযোগ, চুলা থেকে লাগা আগুন এবং সিগারেটের আগুন। যত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে তার ৭২ শতাংশই ঘটে এই তিনটি কারণে।

কিন্তু এই কারণগুলো এবং তা থেকে বাঁচার উপায় সাধারণ মানুষজন কতটা জানেন?

বৈদ্যুতিক গোলযোগ, চুলার আগুন এবং সিগারেটের আগুন

দমকল বাহিনীর অপারেশন্স বিভাগের উপ পরিচালক দিলিপ কুমার ঘোষ বলছেন, "আবাসিক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ব্যাপারে মানুষজন সবচেয়ে বড় ভুল যেটি করেন তা হল অনেকে রান্নার পর চুলা জ্বালিয়ে রাখেন। চুলার আশপাশে অনেকেই শুকনো পদার্থ, কাগজ, কাপড় বা অন্যান্য দাহ্য পদার্থ রাখেন। শিশুদের হাতের নাগালে গ্যাসের চুলা ও ম্যাচের কাঠি অনেক সময় বিপদের কারণ হতে পারে।"

ছবির ক্যাপশান, ঢাকায় গন প্রশিক্ষণ ও মহড়ায় জড়ো হয়েছেন বহু মানুষ।

মশার কয়েলও বিপদ ডেকে আনতে পারে বলে সাবধান করেন মি. ঘোষ। "মশার কয়েল ব্যাবহারে হয়ত আপনি মশা থেকে বাঁচলেন কিন্তু এটি আবাসিক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের বড় উৎস।"

বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের বড় কারণ হিসেবে মি. ঘোষ বলছেন, বিদ্যুতের তার সঠিক ভাবে না নেয়া, অনেক বেশি মাল্টি-প্লাগ ব্যবহার করা, বাড়ির বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার ক্ষমতার বাইরে বেশি বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা, বৈদ্যুতিক তার বা সরঞ্জামের সাথে পানির সংস্পর্শ।

এছাড়া বিদ্যুৎ চলে গেলে মোমবাতি বা কুপির ব্যবহারও ঝুঁকিপূর্ণ। সিগারেট খাওয়ার পর তা কোথায় ফেলছেন এব্যাপারে সতর্ক থাকেন না অনেকে।

সেটি গ্যাসের লাইনের উপরে পড়তে পারে অথবা শুকনো কাগজ বা পাতার উপর পরে আগুন ধরে যেতে পারে। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সিগারেট খেতে খেতে ঘুমিয়ে পড়াও বিপদের অন্যতম কারণ।

কোন ধরনের আগুন কীভাবে নেভাবেন?

দিলিপ কুমার রায় বলছেন, শুষ্ক ও দাহ্য পদার্থ চুলার কাছ থেকে সরিয়ে রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন।

তিনি বলছেন, শুষ্ক বস্তুর আগুন যেমন কাগজ, কাপড় বা গাছের পাতায় আগুন লাগলে নেভানোর সবচেয়ে ভালো উপায় পানি।

ছবির উৎস, NurPhoto

ছবির ক্যাপশান, দেশের ৭২ শতাংশ অগ্নিকাণ্ড ঘটে বৈদ্যুতিক গোলযোগ, চুলা থেকে এবং সিগারেটের কারণে।

তবে রান্না করার সময় গরম তেলে আগুন লাগলে কড়াইটির উপরে কোন ঢাকনা দিতে হবে।

পেট্রল বা ডিজেলের মতো তেলে আগুন লাগলে পানি ব্যবহার করলে বরং বিপদ। এক্ষেত্রে আগুন যদি ছোট হয় তবে বালি, বস্তা, কাঁথার মতো ভারি কাপড় দিয়ে সেই আগুন ঢেকে দিতে হবে।

জ্বালানি তেলের আগুনে সবচেয়ে বেশি কাজ করে ফেনা জাতীয় পদার্থ। গ্যাসের আগুনে কার্বন ডাই-অক্সাইড সবচেয়ে ভালো কাজ করে।

আরো পড়ুন:

ঘরে সবসময় ফায়ার এক্সটিংগুইশার রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন মি. ঘোষ। যা দিয়ে সব ধরনের আগুন নেভানো যায়।

কিন্তু সেটি কেনার সামর্থ্য না থাকলে এক বালতি পানি ও বালি রাখার কথা বলছেন তিনি।

বিদ্যুতের আগুন লাগলে অবশ্যই 'মেইন সুইচ' বন্ধ করতে হবে। আর গ্যাসের আগুনের ক্ষেত্রে গ্যাসের রাইজার বন্ধ করে সরবরাহ কেটে দিতে হবে।

ছবির ক্যাপশান, দমকল বাহিনীর অপারেশন্স বিভাগের উপ পরিচালক দিলিপ কুমার ঘোষ

ঘন ঘন মহড়া, বাড়ি থেকে বের হওয়ার পথ চিহ্নিত করে রাখার কথাও বলছেন তিনি।

মি. রায় বলছেন, এগুলো করলেই যে একশ ভাগ আগুনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে তা নয়। তবে এতে অগ্নিকাণ্ড ও হতাহতের সংখ্যা কমে আসবে।

দমকল বাহিনী তথ্যমতে শুধুমাত্র ২০১৮ সালে অগ্নিকাণ্ডে আনুমানিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৮৬ কোটি টাকা।

অন্যান্য খবর: