বাংলাদেশে হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি, সমাধান কোথায়?
ছবির উৎস, Getty Images
- Author, রাকিব হাসনাত
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
বাংলাদেশের বাজারে কয়েক মাস আগেও যে পেঁয়াজ ২০-২৪ টাকায় বিক্রি হয়েছে সেটি এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা।
ঢাকার নাখালপাড়ায় এলাকায় বসবাস করেন ফারহানা শারমিন। তিনি বলছিলেন, তার দৈনন্দিন রান্নার কাজে পেঁয়াজ অপরিহার্য উপাদান এবং সে কারণেই পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধিতে উদ্বিগ্ন তিনিও।
বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, "মাছ, মাংস, সবজি - যাই রান্না করি পেঁয়াজ তাতে অপরিহার্য। একদিনে যেমন স্বাদ বাড়ানোর জন্য পেঁয়াজ আমরা ব্যবহার করি তেমনি এর ঔষধি উপকারও আছে বলে জানি আমরা"।
শুধু বাসা বাড়ি নয়, রেস্টুরেন্ট এমনকি সড়কের পাশে অস্থায়ী খাবারের দোকান-সব জায়গাতেই রান্নার জন্য অপরিহার্য উপাদান পেঁয়াজ। সেই পেঁয়াজই হঠাৎ করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে পাইকারি ও খুচরা বাজারে।
সড়কের পাশের খাবারের ব্যবসা করেন এমন একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তিনি সিঙ্গাড়া তৈরি করে বিক্রি করেন - আর সাথে ক্রেতাদের পেঁয়াজ দিয়ে থাকেন।
তিনি বলছিলেন, "দু মাস আগে কিনেছি ২৪ টাকায় । এরপর দাম হলো ৪০-৫০ টাকা। আর কাল কিনলাম ৭০ টাকায়। তাই পেঁয়াজের বদলে শসা দিচ্ছি ক্রেতাদের"।
অর্থাৎ দু মাসের মাথায় রীতিমত দ্বিগুণ হয়ে গেছে বাজারে পেঁয়াজের দাম।
ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তারা বলছেন, বাজারে সংকটের মূল কারণও ভারতীয় পেঁয়াজ। কয়েকদিন আগে ভারত রপ্তানির সর্বনিম্ন মূল্য প্রায় তিনগুণ বাড়িয়ে ৮৫০ ডলার নির্ধারণ করে - ফলে পরদিনই বাংলাদেশের বাজারে দাম বেড়ে যায়।
অগ্রিম খবর পেয়ে ব্যবসায়ীদের অনেকে আবার বাজারে সরবরাহ কমিয়েও দিয়েছিলেন।
বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:
যদিও বাণিজ্য সচিব ড: মো: জাফর উদ্দিন বলছেন, সংকট নিরসনে ইতোমধ্যেই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে দাম নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করেছে।
তিনি বলেন, "ইতোমধ্যেই দাম কমতে শুরু করেছে । মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ এসেছে। কয়েকটি স্থল বন্দরে ট্রাক এসেছে। তবে পাইকারি ও খুচরা বিক্রিতে পার্থক্য আছে। এজন্য ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলেছি। তারাও বার্তা পেয়ে গেছেন।"
তবে ঢাকার বনানী কাঁচা বাজারের দোকানীরা জানিয়েছেন, আজও ভারতীয় পেঁয়াজ ৬০ ও দেশী পেঁয়াজ ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কিন্তু বাংলাদেশে পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা ২৪ লাখ টনের বিপরীতে উৎপাদন হয় ২৩ লাখ টনের মতো।
কর্মকর্তারা বলছেন দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের মধ্যে অন্তত ত্রিশ শতাংশ নষ্ট হয় ব্যবস্থাপনার সংকটের কারণে। সে কারণেই বছরে মোট প্রায় দশ লাখ টন পেঁয়াজের ঘাটতি থাকে।
দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি ব্যবসার কেন্দ্র চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাগীর আহমেদ বলছেন, পেঁয়াজ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সরকারের হাতে।
তিনি বলেন, "সরকার কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চিন্তা করতে পারে কিভাবে উৎপাদন বাড়ানো যায়। ৭/৮ লাখ টন অতিরিক্ত উৎপাদন করতে সমস্যা হবেনা। এখন আপাতত আমদানিই করতে হবে। আবার নভেম্বর নাগাদ নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসলে সমস্যা থাকবেনা"।
অর্থাৎ এই পেঁয়াজ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে নভেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষাই করতে হবে।
কনজিউমারস এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ বা ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমান বলছেন দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ না নিলে পেঁয়াজ নিয়ে এমন সংকট মাঝেমধ্যেই তৈরি হতেই থাকবে।
তিনি বলেন, "আলু ছাড়া অন্য কোনো পণ্যের সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই। ভরা মৌসুমে দাম নিশ্চিত করা গেলে আর সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলেই কেবল পেঁয়াজ নিয়ে ভারতের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো যাবে"।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অবশ্য বলছে, এবারের সংকট তাৎক্ষণিক এবং ক্রেতাদের এজন্য খুব বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হবেনা। কারণ তাদের দাবি - পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুদ আছে এবং পাশাপাশি তুরস্ক, মিয়ানমার ও মিশর থেকে আমদানির প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। এর মধ্যে মিয়ানমারের পেঁয়াজ দেশে এসেও গেছে।
আবার টিসিবির মাধ্যমেও স্বল্পমূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ঢাকাসহ কয়েকটি শহরে। সে কারণেই পেঁয়াজ নিয়ে আতংকের কিছু নেই বলে মনে করছেন বাণিজ্য সচিব ড: মো: জাফর উদ্দিন।
প্রধান খবর
নির্বাচিত খবর
পাঠকপ্রিয় খবর
ছবির কপিরাইট