কমলালেবু কাটলে বেগুনি রঙ হয়ে যায় কেন সেই রহস্য উদঘাটন করেছেন অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীরা

ছবির উৎস, Neti Moffitt

ছবির ক্যাপশান, ছুরি দিয়ে কাটার পর কমলালেবুর টুকরোর রঙ এভাবেই বদলে যায়।

কমলালেবু ফালি করে কাটার পর সেটি হঠাৎ করেই বেগুনি রঙের হয়ে যায় কেন?

অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা এই রহস্যের সমাধান করতে সক্ষম হয়েছে।

কমলালেবুর বেগুনি হয়ে যাওয়ার ঘটনা দেশটিতে কয়েকদিন আগে ব্যাপক জল্পনার সৃষ্টি করেছিল।

এই হৈচৈ শুরু হয় যখন ব্রিজবেন শহরে নেটি মফিট নামের একজন নারী এবিষয়ে তদন্তের দাবি জানান তখন থেকে। ওই নারীর এক পুত্র একটি কমলার কিছু অংশ খাওয়ার পর ফেলে রেখে দিলে কিছুক্ষণ পর তার রঙ বদলে যায়।

বিজ্ঞানীরা এখন বলছেন যে, কমলালেবু ফল ও ধারাল ছুরির মধ্যে প্রাকৃতিক বিক্রিয়ার কারণেই এরকমটা হয়েছে। তারা আরো বলেছেন, রঙ বদলে যাওয়া এই কমলালেবু স্বাস্থ্যের জন্যে কোন হুমকি নয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কুইন্সল্যান্ড হেল্থ এর প্রধান রসায়নবিদ স্টুয়ার্ট কার্সওয়েল বলেছেন, কাটার পর কমলালেবুর রঙ কেন বদলে যায় তার কারণ খুঁজে বের করতে তারা বেশ কয়েকবার পরীক্ষা চালিয়েছেন।

গবেষণার ফলাফল হচ্ছে- কমলালেবুর মধ্যে এনথোসায়ানিন নামের যে এন্টিঅক্সিডেন্ট থাকে তার সাথে সদ্য ধার দেওয়া ছুরির লোহার কণিকার বিক্রিয়ার ফলে এরকমটা হয়ে থাকে, বলেন তিনি।

ছবির উৎস, Neti Moffitt

ছবির ক্যাপশান, স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, এই কমলালেবু স্বাস্থ্যের জন্যে হুমকি নয়।

আরো পড়তে পারেন:

বিজ্ঞানীদের এই গবেষণায় অত্যন্ত খুশি মিস মফিট। তিনি বলেছেন, এই রহস্যের সমাধান হওয়াটা দারুণ একটি ঘটনা।

তার ছেলের আধখাওয়া কমলালেবু ফেলে রাখার পর সেটির রঙ বদলে বেগুনি হয়ে যাওয়ায় তিনি চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন।

"আমার মনে হয়েছিল কেউ যেন লেবুর টুকরোটিকে কালির দোয়াতের ভেতর চুবিয়েছিল," অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন মিস মফিট।

"আমার প্রথমেই দুশ্চিন্তা হয়েছিল যে এটি খেয়ে ফেলার কারণে আমার ছেলের শরীর খারাপ করবে কিনা। কিন্তু তার কিছু হয়নি। শুনতে হয়তো নাটকীয় মনে হতে পারে।"

বিজ্ঞানী স্টুয়ার্ট কার্সওয়েল বলেছেন, "রক্ত, মূত্র, পানি, মাটি, মাছ এবং খাবার দাবারের নমুনার ওপর আমরা এই পরীক্ষাটি চালিয়েছি। কমলালেবুর ক্ষেত্রে একেবারেই ভিন্ন ফল পাওয়া গেছে।"

ছবির উৎস, Neti Moffitt

ছবির ক্যাপশান, ছুরিটি পরীক্ষা করে দেখার পর সেটি পরিবারের কাছে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

নেটি মফিট যে ছুরি দিয়ে কমলালেবু কেটেছিলেন এবং যে শার্পনার দিয়ে ছুরিটি ধার দিয়েছিলেন সেগুলোকে পরীক্ষা করে দেখেছেন।

ফরেনসিক পরীক্ষার পর এগুলো ওই পরিবারের কাছ ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কুইন্সল্যান্ড সরকার বলছে, একই সাথে তারা ছেলেটির পরিবারকে আশ্বস্ত করেছেন যে বেগুনি হয়ে যাওয়া কমলালেবুটি খাওয়ার কারণে তার স্বাস্থ্যের কোন সমস্যা হবে না।