ট্রাম্প-কিম বৈঠক: কেন ট্রাম্প এবং কিম বিশ্বকে চমকে দিতে পারেন

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, বৈঠকের দুদিন আগেই সিঙ্গাপুর গেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং কিম জং আন

আমেরিকার কোনো প্রেসিডেন্ট এবং উত্তরে কোরিয়ার কোনো নেতা মুখোমুখি বসে কথা বলবেন কমাস আগেও তা অকল্পনীয় ছিল।

বৈঠকটি নির্ধারিত হওয়ার পরেও দুপক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির জেরে তা প্রায় ভেস্তে যেতে বসেছিল।

কিন্তু বৈঠকটি শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরে হচ্ছে।

মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার খরচ করে বৈঠকটি করে আদৌ কোনো লাভ হবে কিনা - তা নিয়ে বিশ্বজুড়েই সন্দেহ যেমন প্রবল, আশাবাদী হওয়ার কারণও দেখছেন অনেক বিশ্লেষক।

কুয়ালালামপুরে মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা স্টাডিজের গবেষক এবং শিক্ষক ডঃ সৈয়দ মাহমুদ আলী বিবিসিকে বলেছেন - "সিঙ্গাপুরের বৈঠকে ট্রাম্প এবং কিম আমাদের চমকে দিতে পারেন।"

মি আলী স্বীকার করছেন, বিপদ অনেক রয়েছে। ব্যক্তিত্ব, অতীত, ক্ষমতায় আসার পটভূমি - এগুলোর বিবেচনায় ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং কিম জং আনের মধ্যে বিস্তর ফারাক। দুজন দুই জগতের মানুষ।

মি কিম ক্ষমতায় এসেছেন পরিবারের পরম্পরায়, পড়াশোনা করেছেন সুইজারল্যান্ডে, বয়সে যুবক এবং একনায়ক। নিজের ক্ষমতার বিরুদ্ধে যখনই কেউ বিন্দুমাত্র চ্যালেঞ্জ করেছে, তাকে তিনি অবলীলায় সরিয়ে দিয়েছেন।

পক্ষান্তরে, মি. ট্রাম্প ব্যবসায়ী থেকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হয়েছেন রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নেই। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে এমন একজন কেউ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হননি। তিনি 'আনপ্রেডিক্টেবল' অর্থাৎ তিনি কী বলবেন বা করবেন আগে থেকে ধারনা করা কঠিন।

তবে দুজনের বিষয়ে একটি মিল রয়েছে সেটি হলো নিজেদের প্রশাসনের ওপর তাদের কর্তৃত্ব প্রবল।

ছবির উৎস, kcna

ছবির ক্যাপশান, আমেরিকা চাইছে উত্তর কোরিয়ার পারমানবিক অস্ত্রসম্ভার তাদের হাতে তুলে দিতে হবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের 'আনপ্রেডিক্টেবল' আচরণ কতটা হুমকি তৈরি করতে পারে শীর্ষ বৈঠকে?

সৈয়দ মাহমুদ আলী খুব বেশি শঙ্কিত নন। "তিনি যখন ব্যবসায়ী ছিলেন, মি ট্রাম্প একটি বই লিখেছিলেন কীভাবে বৈরি প্রতিপক্ষের সাথে চুক্তি করতে হয়... মনে হয় তার কৌশল হচ্ছে ইচ্ছাকৃত-ভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে মতৈক্যে পৌঁছানো ।"

তাছাড়া, ডঃ আলীর মতে, শুধুই এক ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের প্রশ্ন নয়, বরঞ্চ বর্তমানে আমেরিকার যে ভূ-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক এবং সামরিক বাস্তবতা, সেটাই মীমাংসার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

"যুক্তরাষ্ট্র এখন আর একমাত্র পরাশক্তি নয়, সাম্প্রতিক সময়ে তাদের ক্ষমতা ব্যাপক হারে হ্রাস পেয়েছে, সুতরাং আমেরিকা এখন চাইছে বিশ্বের দু-একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে তাদের লক্ষ্য যেন তারা হাসিল করতে পারে।"

সুতরাং উত্তর কোরিয়ার সাথে একটি চুক্তি নিয়ে আমেরিকানদের যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, উত্তর কোরিয়া সীমান্তে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়া (ফাইল ফটো। পিয়ং ইয়ং চাইছে ১৯৫৩ সালে যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে পূর্ণাঙ্গ একটি শান্তি চূক্তিতে রূপান্তর করতে হবে।

আমেরিকার প্রধান দাবি উত্তর কোরিয়ার পারমানবিক নিরস্ত্রীকরণ। উত্তর কোরিয়াকে পারমানবিক অস্ত্রসম্ভার, তৈরির সাজ-সরঞ্জাম, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তাদের হাতে তুলে দিতে হবে।

পক্ষান্তরে উত্তর কোরিয়ার দাবি - ১৯৫৩ সালের কোরিয়া যুদ্ধের যুদ্ধ-বিরতি চুক্তিকে একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তিতে রূপান্তর করতে হবে, দক্ষিণ কোরিয়ায় আমেরিকার ঘাঁটি এবং অস্ত্রসম্ভার সরাতে হবে এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ওঠাতে হবে।

এসব শর্তের সাথে উত্তর কোরিয়া দাবি করছে - হঠাৎ করে একটি বৈঠক থেকে এই নিরস্ত্রীকরণ সম্ভব নয়, এটা ধীরে ধীরে করতে হবে।

ড আলী বলছেন, মার্কিন কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক কিছু কথাবার্তায় আঁচ করা যায় যে তারাও উত্তর কোরিয়ার অবস্থান স্বীকার করে নিতে প্রস্তুত। পর্যায়ক্রমে কয়েকবার বসে কথাবার্তা বলার বাস্তবতা তারা হয়ত মেনে নিচ্ছেন।

তাছাড়া উত্তর কোরিয়ার প্রধান মিত্র চীনও ওয়াশিংটন এবং পিয়ং-ইয়ংয়ের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যাপারে খুবই আগ্রহী। উত্তর কোরিয়ায় অর্থনীতি, ব্যবসা বাণিজ্যের উন্নয়ন নিয়ে চীন উদগ্রীব।

সুতরাং, ড. আলী মনে করেন, আগামি দুদিনে সিঙ্গাপুরে অবাক করার মত ঘটনা ঘটতেই পারে। "ট্রাম্প এবং কিম মুখোমুখি বসলে পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে সেটা অনুমান করা কঠিন, কিন্তু আশাবাদী হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।