মঙ্গলবার থেকে দেশের সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা, স্কুল কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়েছে।
গতকাল সোমবার রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে গত ১৭ দিন ধরে কখনও শিথিল, কখনও কঠোর অবস্থায় বহাল কারফিউ আজ ভোর ৬টার শেষ হবে।
এই অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ক্যাম্পাস খুললেও সহসা ক্লাস শুরু হচ্ছে না। বা, কবে ক্লাস শুরু হবে সে বিষয়ে এখনও কোনও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী আফসার মুন্না মঙ্গলবার সকালে বিবিসিকে বলেন, “হলগুলো কাল থেকেই খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কোনও একাডেমিক কার্যক্রম চলছে না। ভিসি-প্রক্টরকে তো মানছে না কেউ। আল্টিমেটলি এখন কোনও অথরিটি নাই।”
তবে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি রাসেল সরকার জানান, আজ সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের বৈঠক আছে। সেখানে সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামালকে একাধিকবার কল করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এর বাইরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি জানার চেষ্টা করেছে বিবিসি বাংলা।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানভীর হাসিব বিবিসি বাংলাকে বলেন, “আজ হলগুলো খোলা হবে। কিন্তু ক্লাস শুরু হতে ‘সম্ভবত’ দেরি হবে। কারণ শিক্ষার্থীরা অনেকে বাড়ি গেছে। তাদের ফিরে আসতে হবে। শিক্ষকদেরও ক্লাস নেওয়ার জন্য একটা প্রস্তুতি থাকা লাগে।”
শিক্ষা কার্যক্রম বাদে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস-হল, সবকিছু এখন খোলা’ বলে যোগ করেন তিনি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুপম মল্লিক আদিত্যও জানান, ক্যাম্পাস খুলেছে, তবে ক্লাস চালু হয়নি।
কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে যে সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি ছিল, তার মাঝে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মীর কাদির বিবিসি বাংলাকে বলেন, সেখানে এখনও হল খোলা হয়নি।
“হল যেহেতু অফ, সেহেতু ক্লাস শুরু হতে দেরি হবে। তবে যেহেতু এখন কোনও প্রশাসনিক কাঠামো নাই, তাই শুনেছি যে আজ শিক্ষার্থীরা নিজেরাই হল খুলে ঢুকবে।”
তিনি আরও জানান যে সেখানে আজ ১১টায় ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক’ এর সমাবেশ আছে।