আন্তর্জাতিক নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করছেন না ট্রাম্প, জেরেমি বোয়েন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক

ছবির উৎস, EPA
চলমান যুদ্ধকে অনেকে একটি ‘স্বেচ্ছায় চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ’ হিসেবে দেখছেন, যার আইনি ভিত্তি অত্যন্ত বিতর্কিত। কারণ, এই যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের ওপর ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আসন্ন হুমকির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকা ও রণকৌশল নিয়ে একটি বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন বিবিসি-র আন্তর্জাতিক সম্পাদক জেরেমি বোয়েন।
জেরেমি বোয়েন উল্লেখ করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ভাষা- বিশেষ করে ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে নেওয়ার হুমকি- সরাসরি যুদ্ধাপরাধের শামিল।
আন্তর্জাতিক যুদ্ধনীতি অনুযায়ী, যেকোনো সামরিক অভিযানে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং হুমকির অনুপাতে শক্তি প্রয়োগ করা বাধ্যতামূলক।
তেহরান ও কারাজকে সংযোগকারী সেতুতে মার্কিন হামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও তথ্যের প্রয়োজন, তবে এটি বলা চলে যে, ট্রাম্পের নীতিতে আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা বা নিয়ম-নীতির কোনো স্থান নেই। ‘জোর যার মুল্লুক তার’ এই নীতিতেই সে বিশ্বাস করে বলে মনে হয়।
গত পরশু রাতে ট্রাম্পের ১৯ মিনিটের ভাষণে তার অবস্থানের দ্রুত পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। বোয়েনের মতে, এটি ট্রাম্পের ‘কৌশলগত অনিশ্চয়তা’র বহিঃপ্রকাশ। ট্রাম্প একদিকে যেমন এই পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছেন, অন্যদিকে বর্তমানে কোনো কার্যকর সমঝোতা বা চুক্তির সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি স্থল বাহিনী মোতায়েন করে, তবে তা উল্টো ইরানের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। ইরান চাইবে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলতে।
কারণ, রাজনৈতিকভাবে ট্রাম্পের তুলনায় ইরান দীর্ঘ মেয়াদে বেশি ক্ষয়ক্ষতি সয়ে নেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
ইরান ইতিমধ্যে দেখিয়েছে যে, ‘অসম যুদ্ধে’ দুর্বল দেশগুলোও শক্তিশালী দেশের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে পারে। আর হরমুজ প্রণালি ইরানের হাতে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং কার্যকর অস্ত্র।









