মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলটকে খুঁজে পাওয়ার লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

পড়ার সময়: ৪ মিনিট

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, ইরানে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর নিখোঁজ এক ক্রু'কে খুঁজতে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। এর একজন ক্রুকে উদ্ধারের দাবি করছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে এফ-১৫ যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হয়েছিল। ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীও এখন বিমানটির ক্রু'কে খুঁজে পেতে তল্লাশি চালাচ্ছে বলেন দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

ইরান একই সাথে পারস্য উপসাগরের ওপর আরও একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম বলছে, ভূপাতিত প্রথম বিমানটির উদ্ধার অভিযানের সময় হরমুজ প্রণালির কাছে এ-১০ যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। তবে বিমানটির পাইলট নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন।

ওদিকে তেহরান ও সিরিয়াসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অব্যাহতভাবে হামলার শব্দ শোনা যাচ্ছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইসরায়েলি হামলায় ইরানের ইস্পাত শিল্পের ৭০ ভাগ উৎপাদন সক্ষমতা ধ্বংস হয়ে গেছে।

ওদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে ৩৬৫ জন মার্কিন সেনার আহত হবার খবর নিশ্চিত করেছে পেন্টাগন।

এর মধ্যে সেনাবাহিনীর ২৪৭, নৌবাহিনীর ৬৩, মেরিন ১৯ ও বিমান বাহিনীর ৩৬ জন সদস্য আছেন।

এছাড়া এবারের এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন।

ইরানের দক্ষিণে মার্কিন তল্লাশি অভিযান

দক্ষিণ ইরানের আকাশে একটি মার্কিন বিমানকে দুটি হেলিকপ্টারের সঙ্গে উড়তে দেখা যাচ্ছিল। ওই সময় ভূপাতিত এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের ক্রুদের জন্য অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছিল।

বিবিসি ভেরিফাইয়ের নিশ্চিত করা একটি ভিডিওতে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

ভিডিওটি খুজেস্তান প্রদেশে কারুন নদীর ওপর একটি সেতুর কাছাকাছি একটি স্থানে ধারণ করা হয়েছে।

এই ভিডিও সাম্প্রতিক কি-না এবং একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা পরিবর্তন করার কোনো চিহ্ন আছে কি-না তা যাচাই করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে এই অভিযানে একজন ক্রুকে উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে যুদ্ধবিমানটির দ্বিতীয় ক্রু সদস্যের জন্য এখনও অনুসন্ধান চলছে। বিবিসি ভেরিফাই এই অভিযানের দৃশ্য বলে দাবি করা ফুটেজগুলো যাচাই অব্যাহত রাখবে।

ভূপাতিত এফ-১৫ সম্পর্কে কী জানা যাচ্ছে

মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী দক্ষিণ ইরানে ভূপাতিত যুদ্ধবিমানটির একজন ক্রুকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং অন্য ক্রুকে উদ্ধারের জন্য অভিযান চলছে।

বিমানটির দ্বিতীয় ক্রুর কী হয়েছে তা এখনো অজানা। বিবিসির মার্কিন অংশীদার সিবিএস নিউজ দুজন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে অনুসন্ধান অভিযান এখনও চলছে বলে জানিয়েছে।

তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদ্ধারকারী দলে দুটি হেলিকপ্টার এবং একটি এ-১০ ওয়ার্থগ যুদ্ধবিমান ছিল।

ওই খবর অনুযায়ী এফ-১৫ থেকে উদ্ধার করা পাইলটকে বহনকারী একটি হেলিকপ্টার ছোট অস্ত্রের গুলিতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়, এতে ভেতরে থাকা ক্রুরা আহত হয়েছেন। যদিও হেলিকপ্টারটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছে।

সিবিএস বলছে, এ-১০ আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার পর পাইলট পারস্য উপসাগরের ওপর থাকার সময় বেরিয়ে আসেন এবং পরে তাকে উদ্ধার করা হয়

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি যে তারা একটি এ-১০ যুদ্ধবিমানও ভূপাতিত করেছে।

যদিও সিবিএস যেই বিমানের কথা বলেছে এটিই সেটি কি-না তা পরিষ্কার নয়।

যাচাই করা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, খুজেস্তান প্রদেশে একটি মার্কিন বিমান এবং দুটি হেলিকপ্টার যুদ্ধবিমানের ক্রুদের খোঁজ করছে।

এছাড়াও তল্লাশি অভিযান চলাকালে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ওই এলাকায় হামলা স্থগিত রেখেছে বলে খবর এসেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এনবিসিকে যুদ্ধবিমানে হামলা ইরানের সঙ্গে আলোচনায় কোনো প্রভাব ফেলবে না।

মার্কিন বিমানবাহিনীর 'সুইস আর্মি নাইফ'

ইরানে নিখোঁজ মার্কিন যুদ্ধবিমানের ক্রু সদস্যকে খুঁজে পেতে বিশেষজ্ঞ মার্কিন যুদ্ধকালীন অনুসন্ধান ও উদ্ধার ইউনিটগুলো ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টার ব্যবহার করে এলাকা চষে বেড়াবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র বিমানবাহিনীর প্যারারেস্কিউ জাম্পারদের এক সাবেক কমান্ডার।

বিবিসির মার্কিন অংশীদার সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই সাবেক কমান্ডার একথা বলেছেন।

তিনি বলেন, যদি উদ্ধার লক্ষ্যমাত্রা এমন এলাকায় থাকে যেখানে হেলিকপ্টার পৌঁছাতে পারে না, তাহলে এসি-১৩০ গানশিপ থেকে স্কোয়াডের সদস্যরা নেমে স্থলপথে উদ্ধার অভিযান চালাবে।

মাটিতে নামার পর প্যারারেস্কিউ জাম্পারদের লক্ষ্য থাকে নিখোঁজ ক্রু সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা।

একই সাথে প্রয়োজন হলে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া, শত্রুকে এড়িয়ে যাওয়া বা প্রতিরোধ করা এবং এমন একটি স্থানে পৌঁছানো যেখান থেকে তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হবে।

কমান্ডার বলেন, এই প্যারারেস্কিউ সদস্যদের বিমানবাহিনীর 'সুইস আর্মি নাইফ' বলা হয়। তাদের কাজকে 'ভয়াবহ এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক' বলা হলেও কম বলা হবে বলে জানান তিনি।