বার্সেলোনা ফুটবল ক্লাবের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ
ছবির উৎস, Getty Images
স্পেনের রেফারি কমিটির প্রাক্তন সহ-সভাপতি হোসে মারিয়া এনরিকেজ নেগ্রেইরাকে ক্লাবের অর্থ দেয়ার জন্য বার্সেলোনার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
গত মাসে একটি খবর সামনে আসে যে, নেগ্রেইরা ও তার একটি কোম্পানিকে বার্সা অর্থ প্রদান করেছে। ২০০১ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে মোট ৮৪ লাখ ইউরো দেয়া হয়।
বার্সেলোনার একটি আদালত শুক্রবার ফুটবল ক্লাব বার্সালোনা, ক্লাবটির সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা এবং নেগ্রেইরার বিরুদ্ধে "দুর্নীতি", "বিশ্বাস লঙ্ঘন" এবং "মিথ্যা ব্যবসায়িক রেকর্ড" এর অভিযোগের শুনানি করে।
বার্সেলোনার পাবলিক প্রসিকিউটর অফিস, ক্লাব সেইসাথে সাবেক প্রেসিডেন্ট জোসেফ মারিয়া বার্তোমেউ এবং স্যান্ড্রো রোসেলের বিরুদ্ধে এই মামলাগুলো দায়ের করেছে।
"এফসি বার্সেলোনা, হোসে মারিয়া এনরিকেজ নেগ্রেইরার সাথে অত্যন্ত গোপনে মৌখিক চুক্তি করে যাতে তিনি টেকনিক্যাল আরবিট্রাল কমিটির (সিটিএ) ভাইস-প্রেসিডেন্ট হিসেবে অর্থের বিনিময়ে এফসি বার্সেলোনাকে মাঠে রেফারির বিভিন্ন সিদ্ধান্তে সুবিধা দেয়ার জন্য কাজ করে।” জানিয়েছে পাবলিক প্রসিকিউটরের অফিস।
লা লিগার প্রধান নির্বাহী জাভিয়ের তেবাস গত মাসে বলেছিলেন যে, বর্তমান প্রেসিডেন্ট জোয়ান লাপোর্তা যদি এই অর্থ প্রদানের কারণ ব্যাখ্যা করতে না পারেন তাহলে তার পদত্যাগ করা উচিত।
লাপোর্তা এর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন যে তিনি তেবাসকে "পদত্যাগ করে যা চান তা দেবেন না" এবং লাপোর্তা "তার ক্লাব কখনও রেফারি কিনেনি" বলে যে জোর দাবি জানিয়েছিলেন তার তিন দিনের মাথায় এই অভিযোগ আসে।
মঙ্গলবার তিনি বলেছিলেন, "পরিষ্কার কথা হল বার্সা কখনই রেফারি কিনেনি এবং বার্সার কখনই রেফারি কেনার ইচ্ছা ছিল না, একেবারেই না,"
ছবির উৎস, EPA
বিষয়টি কিভাবে সামনে এলো?
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
রেডিও স্টেশন সের কাতালুনিয়ার গত মাসে সর্ব প্রথম এই অর্থপ্রদানের বিষয়টি সামনে আনে। নেগ্রেইরার কোম্পানি দাসনিল-৯৫ এর ওপর দেশটির কর কর্তৃপক্ষ তদন্ত পরিচালনা করলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
বার্সেলোনা ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ওই কোম্পানিকে মোট ১৪ লাখ ইউরো দিয়েছে এবং ২০০১ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে নেগ্রেইরাকে প্রায় ৭০ লাখ ইউরো দিয়েছে।
বার্সা স্বীকার করেছে যে তারা দাসনিল-৯৫ কোম্পানিকে 'এক্সটারনাল টেকনিক্যাল কনসালটেন্ট' হিসেবে টাকা দিয়েছে। যাদের কাজ ছিল কোচিং স্টাফদের চাহিদা অনুযায়ী পেশাদার রেফারিদের নিয়ে একটি ভিডিও রিপোর্ট তৈরি করে দেয়া।
ক্লাবটি আরও বলছে যে, এ ধরণের প্রতিবেদনের জন্য চুক্তিবদ্ধ হওয়া "পেশাদার ক্লাবগুলোর একটি সাধারণ অভ্যাসের অংশ"।
পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে পড়ে যখন ২০টি লা লিগা ক্লাবের মধ্যে ১৮টি ক্লাব এ বিষয়ে "গভীর উদ্বেগ" জানিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে এবং লাপোর্তা বলেছেন যে তার ক্লাব এই অর্থপ্রদানের বিষয়ে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করবে।
বার্সেলোনার কোচ জাভি, যিনি ১৯৯৮ থেকে ২০০৫ সালের একজন খেলোয়াড় হিসাবে আটটি লা লিগা শিরোপা জিতেছিলেন, তিনি বলেছেন যে তিনি অর্থ প্রদানের বিষয়ে কিছুই জানেন না এবং কখনও মনে হয়নি যে তার দল কোন সুবিধা নিচ্ছে।
গত মাসে ইউরোপা লিগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাথে বার্সার ২-২ গোলে ড্র করার পর তিনি বলেন, "আমি সবসময়ই জিততে চেয়েছিলাম, কিন্তু স্বচ্ছতার সাথে। যদি আমার মনে হতো আমরা প্রতারণা করছি তাহলে আমি বাড়ি চলে যেতাম।"
প্রধান খবর
নির্বাচিত খবর
পাঠকপ্রিয় খবর
ছবির কপিরাইট