"আয়রন ম্যান" স্যুট পরে উড়ে দেখালেন উদ্ভাবক

ছবির উৎস, BRET HARTMAN/TED

ছবির ক্যাপশান, ভ্যানকুভার হার্বরের পাশে উড্ডয়ন শুরু করছেন রিচার্ড ব্রাউনিং।

(এবিষয়ে বিস্তারিত শুনতে পাবেন মঙ্গলবার, ২রা মে, আমাদের বিজ্ঞানের আসরে)

কানাডার ভ্যানকুভারে টেড সম্মেলনে 'আয়রন ম্যান'-ধরণের উড়তে সক্ষম স্যুট দেখালেন ব্রিটিশ একজন উদ্ভাবক।

অনেক দর্শকের সামনে স্যুট পরা অবস্থায় কিছুক্ষণ উড়ে দেখান রিচার্ড ব্রাউনিং।

যুক্তরাজ্যে উড়ুক্কু স্যুটের একটি ভিডিও পোস্ট করার পর থেকে এনিয়ে অনেকে আগ্রহ দেখিয়েছেন।

তবে তিনি বারবার বলেছেন, তার এই প্রকল্পটি "মজার জন্য" এবং মূলধারার পরিবহণ হিসেবে এটি ব্যবহার হবে বলে তিনি মনে করেন না।

রিচার্ড ব্রাউনিং বলেন তার বাবার কাছ থেকেই তিনি অনুপ্রেরণা পেয়েছেন, তার বাবাও ছিলেন একজন উদ্ভাবক এবং অ্যারোনটিকাল প্রকৌশলী। মি. ব্রাউনিংয়ের কিশোর বয়সেই তার বাবা আত্মহত্যা করেন।

মি. ব্রাউনিং বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেন, তিনি সবসময়ই নতুন কিছু তৈরি করতে এবং চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করেন।

ছবির উৎস, RICHARD BROWNING

ছবির ক্যাপশান, যুক্তরাজ্যে প্রথম স্যুটটি পরে একটি ভিডিও পোস্ট করেন রিচার্ড ব্রাউনিং।

"আপনি যেকারণে কোন পাহাড়ে দিকে তাকিয়ে সেটাতে চড়ার ইচ্ছা করবেন, ঠিক সেই কারণেই আমি এই কাজটি করেছি- পথচলা এবং চ্যালেঞ্জ নেবার জন্য"।

তিনি বলেন, মানুষের ওড়ার চিন্তা তাকে সবসময়ই আকর্ষণ করে।

ছোট ছয়টি জেট ইঞ্জিন এবং বিশেষভাবে তৈরি সারা শরীরে পরিধাণযোগ্য একটি কাঠামোর সাহায্যে উড়তে সক্ষম যন্ত্রটি তৈরি করেছেন তিনি।

হেলমেটের সামনে একটি ডিসপ্লে আছে, যেখানে কতটুকু জ্বালানী খরচ হয়েছে তা দেখানো হয়।

গ্রীক কিংবদন্তীর সুদক্ষ কারিগর এবং শিল্পী, ডেডালুসের নামে মি. ব্রাউনিংয়ের ৮ বছর বয়সী ছেলে এই যন্ত্রটির নাম রেখেছে ডেডালুস স্যুট।

মি. ব্রাউনিং বলেন, কয়েক হাজার ফুট ওপর দিয়ে খুব সহজেই ঘণ্টায় ২০০ মাইল গতিতে চলতে পারে এই যন্ত্র।

তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি খুব বেশি উচ্চতায় যান না এবং গতিও কম রাখেন।

তার মতে এই যন্ত্র "মোটরবাইকের চেয়েও নিরাপদ"।

ছবির উৎস, BRET HARTMAN/TED

ছবির ক্যাপশান, নিরাপত্তাজনিত কারণে খুব বেশি উচ্চতায় যান না মি. ব্রাউনিং।

বর্তমানে স্যুটটি বিরতি ছাড়া টানা ১০ মিনিট উড়তে পারে।

তার প্রতিষ্ঠিত 'গ্র্যাভিটি' নামের একটি স্টার্ট আপ এই যন্ত্রের উন্নতিতে নতুন একটি প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন। যেটি শেষ হলে বর্তমান যন্ত্রটিকে "ছেলেখেলা" মনে হবে বলে মন্তব্য করেন মি. ব্রাউনিং।

ইউটিউবে তার প্রথম উড্ডয়নের ভিডিও পোস্ট করার পর অনেক বিনিয়োগকারী এবং যুক্তরাজ্যের সামরিক বাহিনীও তার এই প্রকল্পে আগ্রহ দেখিয়েছে।

তবে খুব দ্রুত তার এই প্রকল্প মূলধারায় চলে যাবে বলে তিনি মনে করেন না।

"বিষয়টা অনেকটা জেট স্কি-এর মত, কিছুটা মজা করা এবং খেলনার মত। তবে আমার ধারণা পরবর্তীতে হয়তো এটিকে ব্যাবহারিক করার জন্য আরো কাজ হবে"- বলেন মি. ব্রাউনিং।

আরও পড়ুন: