এডিটার'স মেইলবক্স: শিক্ষকের ওপর হামলা আর পদ্মা সেতুতে উচ্ছ্বাস নিয়ে প্রশ্ন
ছবির উৎস, Bernd Jürgens / EyeEm
- Author, সাবির মুস্তাফা
- Role, সম্পাদক, বিবিসি নিউজ বাংলা
বাংলাদেশে সম্প্রতি শিক্ষকদের ওপর আক্রমণ অনেক মানুষকে বিচলিত করেছে। সর্বশেষ ঘটনায়, ঢাকার কাছে আশুলিয়ায় একজন শিক্ষককে তারই একজন ছাত্র পিটিয়ে হত্যা করেছে।
সে বিষয় দিয়ে আজ শুরু করছি, প্রথমে লিখেছেন ভোলার চরফ্যাশন থেকে মুহাম্মদ মাসুদুল হক মাশুক:
''গণমাধ্যমের খবরে দেখলাম সাভারে একজন স্কুল শিক্ষককে তারই এক ছাত্র ক্রিকেট খেলার ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঐ শিক্ষক মারা যায়। ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক ও চরম নিন্দনীয়। পুলিশ ইতোমধ্যে ঐ ছাত্রের পিতাকে গ্রেফতার করেছে।
''শিক্ষকরা হচ্ছেন জাতির বিবেক এবং তাদের সম্মান ও শ্রদ্ধা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু এ ধরনের ছাত্র নামধারী কিছু কুলাঙ্গারের কারণে আমরা সত্যিই লজ্জিত ও স্তম্ভিত এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে।
''এসব ছাত্র নামধারী কুলাঙ্গাররা রাজনৈতিক ছত্রছায়া এবং কিছু প্রভাবশালী লোকের পৃষ্ঠপোষকতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নানা অপকর্ম করে চলেছে। আমি মনে করি যারা এ ধরনের ছাত্রদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছে, তাদেরকেও আইনের আওতায় নিয়ে এসে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা দরকার।''
আপনার সাথে অনেকেই একমত হবেন মি. হক, যে এসব ঘটনার মূল আসামী শুধু নয়, তাদের পৃষ্ঠপোষককেও কাঠগড়ায় দাঁড় করানো উচিত। তবে কোন আইনের অধীনে তাদের বিচার করা যেতে পারে, তা নিয়ে হয়তো আইনজীবীদের মধ্যে বিতর্ক হতে পারে।
যাই হোক, খবর দেখে মনে হচ্ছে শিক্ষক হত্যার মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হয়তো এবার সুষ্ঠু তদন্ত হবে এবং সেই তদন্তের ভিত্তিতে নিহত শিক্ষকের পরিবার ন্যায় বিচার পাবেন।
ছবির উৎস, Future Publishing
এবারে খবরটি প্রচার না করার জন্য অভিযোগ করে লিখেছেন চন্ডিপুর থেকে মোহাম্মদ সুমন আকন্দ:
''বিবিসি বাংলা মানেই তো অজানাকে জানতে পারা। তাই তো বাংলার লোকজ গানের ধারক ও বাহক কুদ্দুস বয়াতির সাথে বিবিসি বাংলার আফরোজা নীলার একান্তে আলাপচারিতা দেখে ও শুনে ভালই লাগলো।
''আমি তো প্রত্যাশা করেছিলাম আশুলিয়া থানাধীন এক শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা করা সেই ঘাতককে নিয়ে প্রতিবেদন প্রচার করবে আমার প্রিয় বিবিসি বাংলা। কিন্তু না, আমাকে হতাশ করে বিবিসি বাংলা প্রচার করলো কুদ্দুস বয়াতির সাথে রোমান্টিক আলাপচারিতা, যা বর্তমান সময়ের সাথে বড্ড বেমানান। ''
কুদ্দুস বয়াতির সাক্ষাৎকার আপনার ভাল লেগেছে জেনে আমাদেরও ভাল লাগলো মি. আকন্দ। কিন্তু এই সাক্ষাৎকার প্রচারের সাথে অন্য কোন খবর দেয়া বা না দেয়ার কোন সম্পর্ক নেই। এই তুলনা টানাও যুক্তিযুক্ত নয় বলে আমি মনে করি।
প্রতি সপ্তাহেই আমাদের রেডিও অনুষ্ঠানে একটি সাক্ষাৎকার প্রচার করা হয়। তবে আমি আপনার সাথে একমত যে, আশুলিয়ায় শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা করার ঘটনা আমাদের অনুষ্ঠানে স্থান পাওয়া উচিত ছিল।
তবে সীমিত সময় এবং লোকবলের কারণে সব খবর অনুষ্ঠানে নেয়া সম্ভব হয় না।
ছবির উৎস, SAJJAD HUSSAIN
সম্প্রতি বাংলাদেশে যে সকল শিক্ষক আক্রমণের শিকার হয়েছেন, তাদের সবাই সনাতনী ধর্মাবলম্বী বলেই মনে হচ্ছে। ভারতের পাঠক অর্ক রায় মনে করছেন হিন্দু বলেই তাদের টার্গেট করা হচ্ছে:
''শ্যামল কান্তি - স্কুল শিক্ষক; লতা সমাদ্দার - কলেজ শিক্ষিকা; হৃদয় মণ্ডল - স্কুল শিক্ষক; আমোদিনী পাল - স্কুল শিক্ষিকা; স্বপন কুমার বিশ্বাস - অধ্যক্ষ; সঞ্জয় সরকার ও উমেশ রায় - বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক; আর শেষ পর্যন্ত ছাত্রের আক্রমণে মারাই গেলেন উৎপল কুমার সরকার - প্রভাষক।
''এভাবেই একের পর এক সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষকদের টার্গেট করে তাদেরকে নিঃশেষ করে ফেলা হচ্ছে। সবাই যেন দেখেও না দেখার ভান করে আছে।
''সনাতন সংস্কৃতিতে গুরুদেবের মর্যাদা ও মাহাত্ম্য ছিল অনেক ক্ষেত্রে পিতামাতার চেয়েও বেশী কেননা পিতামাতা শারীরিক জন্ম দেন, কিন্তু গুরুরা আধ্যাত্মিক ও মানসিক জন্ম দেন দ্বিতীয়বার, শিষ্যকে করে তোলেন দ্বিজ। বাংলাদেশের হিন্দু শিক্ষকদের এভাবে টার্গেট করা কবে বন্ধ হবে?''
বিষয়টি অত্যন্ত জটিল মি. রায়। বিভিন্ন ঘটনায় শিক্ষকরা হেনস্তা হচ্ছেন, হুমকির মুখে পড়ছেন, এমনকি একজন প্রাণ হারালেন।
প্রাথমিক ভাবে, বিষয়টি দেশের ছাত্র সমাজে নৈতিক অধ:পতনের মতই মনে হচ্ছে, যেখানে এক ধরনের উগ্র মানসিকতা সামাজিক রীতি-নীতি ছিঁড়ে ফেলে দিতে ছাত্রদের এক অংশকে উৎসাহিত করছে।
কিন্তু আপনি যেটা বলছেন, সবাই যদি হিন্দু হন, তাহলে স্বাভাবিক ভাবেই সাম্প্রদায়িকতার প্রশ্ন চলে আসে। এখানে সঠিক তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি বলেই মনে হচ্ছে।
এবারে যাই ভিন্ন প্রসঙ্গে।
বিবিসি বাংলার ফেসবুক পাতায় বৃহস্পতিবার একটি ছবি প্রকাশ করা হয়, যেখানে মাদ্রিদে সদ্য সমাপ্ত নেটো সম্মেলনে অংশ নেয়া কয়েকজন নেতাকে দেখা যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন আর তুর্কী প্রেসিডেন্ট রেজেপ এরদোয়ানের এই ছবি নিয়ে আমাদের ফেসবুক পাতায় মন্তব্য করেছেন আহমেদ মুকুল:
''আমেরিকা, আর পশ্চিমাদের দ্বারা পৃথিবীতে কোনদিন শান্তি আসেনি, আর কোনদিন আসবেওনা, কারণ পশ্চিমারা নিজেদের স্বার্থে অন্য যে কোন দেশ বা জাতিকে ধ্বংস করতে ১ সেকেন্ড ও ভাববেনা।
''এরা শুধু শোষণ করতে জানে,কত নিরপরাধ দেশ জাতি এদের জন্য ধ্বংস হয়ে গেছে। লক্ষ কোটি নিরপরাধ মুসলমানের রক্ত দিয়ে এরা হোলি খেলেছে আজও খেলছে, একদিন সব কিছু থেমে যাবে, আর প্রত্যেক জিনিসের জন্য জবাবদিহি করতে হবে আল্লাহর কাছে।''
মধ্যপ্রাচ্য বা মুসলিম দেশের প্রতি পশ্চিমা দেশগুলোর পররাষ্ট্র নীতি নিয়ে যে অনেক বিতর্ক রয়েছে তা অনস্বীকার্য মি. মুকুল। এবং আপনার মন্তব্যে সেই ক্ষোভেরই বহি:প্রকাশ ঘটছে।
কিন্তু যে ছবি নিয়ে আপনি মন্তব্য করেছেন, সেখানে মুসলিম প্রধান দেশ তুরস্কের রাষ্ট্রপতিকেও দেখা যাচ্ছে, কারণ তুরস্ক নেটো জোটের একটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। আপনি শুধু পশ্চিমা দেশগুলোর কথা বললেন, কিন্তু নেটোর সাথে তুরস্কের সম্পর্ক নিয়ে আপনার মতামত কী?
ছবির উৎস, MUNIR UZ ZAMAN
সমালোচনার পর একই ছবি নিয়ে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন আমাদের ফেসবুক পাতায় মোহাম্মদ ওসমান ধোনি পারভেজ:
''বিশ্ব নেতাদের এমন সৌহার্দপূর্ণ মেলবন্ধন দেখে, অনেক ভাল লাগলো। আমরা আশা করি বিশ্ব-শান্তি নিশ্চিত করতে তেনারা কাজ করবেন।
''আশা করছি তারা জননন্দিত নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াবেন আর আগামীতে বাংলাদেশে সঠিক ভোট নিশ্চিতে সহায়তা করবেন, কারণ ২০১৮ সালের মত নির্বাচন হলে দেশে অশান্তি তৈরি হবে ।''
আপনার বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে আপনি আশা করছেন আমেরিকা, ব্রিটেন, তুরস্ক ইত্যাদি দেশ বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে একটি ভূমিকা পালন করবে। অনেকেই সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করবে, তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই মি. পারভেজ।
কিন্তু সবাই যে বিদেশী চাপকে গ্রহণযোগ্য মনে করেন, তা ভাবারও কোন কারণ নাই। সত্যি কথা বলতে, সব দেশেরই উচিত তাদের আভ্যন্তরীণ সমস্যা নিজেদেরই সমাধান করা। বিদেশীরা সহায়ক হিসেবে থাকতে পারে, কিন্তু উদ্যোগটা নিজেদের ইচ্ছায় এবং প্রচেষ্টায় হওয়া উচিত।
ছবির উৎস, NurPhoto
সপ্তাহ খানেক ধরে বাংলাদেশে মনে হয় একটি খবরই ছিল, আর তা হল পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর সেখানের যেসব কাণ্ড হয়ে গেল। সেসব নিয়ে কড়া মন্তব্য করে লিখেছেন লালমনিরহাটের গুড়িয়াদহ থেকে আহসান হাবিব রাজু:
''আমরা মানুষ আর হতে পারলাম কই? আবেগের পদ্মা সেতু নিয়ে প্রথম দিনেই যা করলাম - উচ্ছ্বাস-বিশৃঙ্খলা, সেলফি তুলে নাচা, নাট বল্টু খুলে টিকটক করে ভাইরাল হওয়া, প্রাচীর ডিঙিয়ে নিয়ম ভেঙে সেতুতে প্রবেশ, বাসের ধাক্কায় টোল প্লাজা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, বিদ্যুৎ বিভ্রাটে টোল আদায় বন্ধ হওয়া, মোটরসাইকেলের অতিরিক্ত বিশৃঙ্খলার চাপে মোটর সাইকেল বন্ধের সিদ্ধান্ত, সবশেষে মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় ২ জনের মৃত্যু।
''একটা জাতীয় সম্পদকে রক্ষণাবেক্ষণ, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব শুধু সরকারের না, দেশের সচেতন নাগরিক হিসেবে সবার কর্তব্য। কিন্তু এসব ব্যাপারে আমরা এতোই উদাসীন এক জাতি, যার তুলনা আমরা নিজেরাই। পদ্মা সেতু তৈরি হয়েছে যাতায়াতের জন্য, পিকনিকের জন্য নয়।''
একদম খাঁটি কথা বলেছেন মি. হাবিব। যেকোন ব্রিজই শুধুই যাতায়াতের জন্য। অন্য কিছু করতে যাওয়া যেমন নিজের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলা, তেমনি অন্যদের নিরাপত্তাও বিপন্ন করে তোলা। তবে পদ্মা সেতুর প্রথম দিনটি হয়তো আপনি একটু ক্ষমা সুন্দর চোখে দেখতে পারেন।
হাজার হলেও, এটা দেশের এক-তৃতীয়াংশকে সবার সাথে যুক্ত করবে, এই সেতু দেশের সর্ব বৃহৎ সেতু, প্রকৌশলী দিক থেকে একটি অনন্য স্থাপনা, সত্যিকার অর্থে দেখার মত একটি জিনিস।
এর সাথে যোগ হয়েছে অনেক আবেগ, যে আবেগ ফুলিয়ে তুলতে সাহায্য করেছে সরকারি এবং মিডিয়ার প্রচারণা। এই আবেগে গা ভাসিয়ে দিয়ে অনেকে কিছুটা বিশৃঙ্খল হয়ে গিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু সেসবই ছিল সাময়িক। এখন এই সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ করার দায়িত্ব কর্তৃপক্ষের।
ছবির উৎস, Richard Baker
এবারে আমাদের অনুষ্ঠান নিয়ে একটি ভিন্ন ধরনের অভিযোগ, পাঠিয়েছেন ঢাকার লক্ষ্মীবাজার থেকে জহিন মুমতাহিনাহ:
''গত সপ্তাহের প্রীতিভাজনেষু আসরে আমি লক্ষ্য করলাম নিয়মিত পত্র লেখকদের চিঠির জবাব না দিয়ে অধিক সংখ্যক ফেসবুক ফলোয়ারদের মন্তব্য গ্রহণ করতে এবং এটা আমার কাছে বেশ বিরক্তিকর ও বেমানান মনে হয়েছে।
''ফেসবুক ফলোয়ারদের আলোচিত সমালোচিত মন্তব্যগুলো প্রতিদিন প্রবাহ অনুষ্ঠানের শেষে স্থান দেওয়া হয়, তাহলে তাদেরকে প্রীতিভাজনেষু অনুষ্ঠানে নতুন করে স্থান দেওয়া আমার বোধগম্য নয়।
''এটা যদি পরবর্তীতে চালু রাখা হয়, তবে শ্রোতা পাঠকেরা নিয়মিত পত্র লেখার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে এবং প্রীতিভাজনেষু অনুষ্ঠান তার মুল স্পিরিট হারিয়ে ফেলবে। বিষয়টি বিবিসি বাংলাকে ভেবে দেখার অনুরোধ করছি।''
একই মনোভাব প্রকাশ করে এবং একই যুক্তি দেখিয়ে লিখেছেন ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:
''বিবিসি বাংলায় কোন বিষয়ের উপর মতামত জানিয়ে মেইল করার ব্যাপারে আমার আগ্রহ কমে গেছে। কারণ, প্রীতিভাজনেষুতে শ্রোতাদের মেইলের পরিবর্তে ফেসবুক কমেন্টগুলো তুলে ধরা হচ্ছে। যা অত্যন্ত বিরক্তিকর এবং আপত্তিকর।
''আপত্তির কারণ হলো- ফেসবুকে আলোচিত ঘটনাগুলোর উপর করা কমেন্টগুলো প্রবাহতে প্রতিদিন প্রচার করা হয়, তারপরও কেন প্রীতিভাজনেষুতে এই পথ অবলম্বন করা হবে? প্রীতিভাজনেষুতে শুধুমাত্র শ্রোতাদের মেইলের জবাব দেওয়ায় যুক্তিযুক্ত বলে মনে করি।
''তা না হলে আমার মতো অনেকেই মতামত জানিয়ে মেইল করা বন্ধ করে দিবে।''
প্রীতিভাজনেষুতে আমাদের ফেসবুক ফলোয়ারদের মন্তব্য গ্রহণ করায় আপনারা বিরক্ত হয়েছেন জেনে আমি দু:খিত জহিন মুমতাহিনাহ আর শামীম উদ্দিন শ্যামল, তবে আমি আপনার বক্তব্যর সাথে একমত হতে পারছি না ।
এর কারণ হচ্ছে, প্রীতিভাজনেষু হচ্ছে বিবিসি বাংলার শ্রোতা-পাঠক-দর্শক, সবার জন্য। এখানে নিয়মিত বা অনিয়মিত পত্রলেখক বলে কিছু নেই। এখন, সামাজিক মাধ্যম বিবিসি বাংলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমরা যেমন রেডিও শ্রোতা বা অনলাইন পাঠককে গুরুত্ব দেই, তেমনি সামাজিক মাধ্যমে আমাদের ফলোয়ারদের মন্তব্যকেও যথাযথ গুরুত্ব দেব।
এবারে আরেকটি অভিযোগ, লিখেছেন চাঁপাই নবাবগঞ্জের ভোলাহাট থেকে মুহাম্মদ আব্দুল হাকিম মিঞা:
''পঁচিশে জুন থেকে ২৮ষশে জুন পর্যন্ত মাত্র চার দিনে বিবিসি বাংলার ফেসবুক পাতায় এই সপ্তাহের টপ নিউজ শুধুমাত্র পদ্মা সেতুর উপর বিভিন্ন শিরোনামে দশটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
''খুব কম সময়ে কোন একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর এতো বেশি প্রতিবেদন বিবিসি বাংলা আগে কখনো প্রকাশ বা প্রচার করেছে কি না আমার জানা নেই।
''আমার প্রশ্ন হলো, বিবিসি বাংলা কি সরকারের বিশাল উন্নয়ন দেশবাসীকে জানানোর জন্য সরকারি আদেশে না স্বপ্রণোদিত হয়ে বন্যার খবরকে পেছনে ফেলে পদ্মা সেতুর উপর প্রতিদিন তিন থেকে চারটি সংবাদ/প্রতিবেদন প্রচার ও প্রকাশ করেছে?''
আপনি যদি মনে করেন বিবিসি বাংলা সরকারি আদেশে কোন প্রতিবেদন প্রকাশ করে, তাহলে আমাকে বলতেই হবে যে বিবিসি সম্পর্কে আপনার খুব একটা জ্ঞান নেই।
কোন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চার দিনে দশটি প্রতিবেদন আগেও প্রকাশ করা হয়েছে। এটা নতুন কোন ঘটনা না।
পদ্মা সেতু নিয়ে আমরা পাঁচ দিনে পাঁচটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছি, আর আমাদের টেলিভিশন অনুষ্ঠানে ছিল দুটি প্রতিবেদন। সব কিছুই ঘটনার গুরুত্ব বুঝে করা হয়েছে।
পদ্মা সেতু নির্মাণ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা, তা নিয়ে আমার কোন সন্দেহ নেই।
প্রধান খবর
নির্বাচিত খবর
পাঠকপ্রিয় খবর
ছবির কপিরাইট