পরীমনি: জব্দ করা গাড়ি ও অন্যান্য জিনিসপত্র ফেরতের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত
ছবির উৎস, TANVIR AHAMMED/PROTHOM ALO
বাংলাদেশের চিত্রনায়িকা পরীমনির গাড়ি, মোবাইল, ল্যাপটপসহ জব্দ করা ১৬টি আলামত তাকে ফেরত দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত এই আদেশ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী।
জব্দ হওয়া আলামতের মধ্যে রয়েছে একটি টয়োটা হ্যারিয়ার গাড়ি, দুইটি ল্যাপটপ, তিনটি আইফোন, একটি আইপ্যাড, একটি মেমোরি কার্ড, একটি পেনড্রাইভ, একটি মডেম, দুইটি ব্যাংকের ভিসা ক্রেডিট কার্ড এবং একটি পাসপোর্ট।
বেলা দেড়টার দিকে সাদা রঙের একটি গাড়িতে করে আদালতে আসেন পরীমনি। তবে তিনি এই সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কোন কথা বলেননি।
১৫ই সেপ্টেম্বর এসব আলামত ফেরত চেয়ে আদালতে আবেদন করেছিলেন পরীমনির আইনজীবী।
সেই সময় পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত বিবিসি বাংলাকে বলেছিলেন, ''পরীমনি আদালতে বলেছেন, তার বাসায় অভিযান চালিয়ে বাসার চাবিসহ অনেক কিছু নেয়া হয়েছে।''
তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় অনেক জিনিস না থাকায় পরীমনি সমস্যায় পড়েছেন এবং এ জন্য মানবিক কারণে যে কোন শর্তেই হোক না কেন গাড়ি ফেরত দেয়ার জন্য আবেদন করেন।
এর আগে গত ২৬শে সেপ্টেম্বর মামলার তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি আদালতে একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, পরীমনিকে যদি তার জব্দ করা আলামত ফেরত দেয়া হয়, তাহলে মামলার তদন্তে বিঘ্ন হবে না।
গত চৌঠা অগাস্ট বনানীর বাসায় অভিযান চালিয়ে পরীমনিকে গ্রেপ্তার করেছিল র্যাব। সেই সময় ওই বাসা থেকে র্যাব বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধারের তথ্য জানায়। সেসময়ই তার বাসা থেকে গাড়ি, ল্যাপটপ, মোবাইলসহ ১৬টি জিনিস জব্দ করা হয়েছিল।
এরপর ওই মামলায় পরীমনিকে প্রথমে চারদিন, পরে আরও দুই দফায় তিন দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়।
তার জামিনের আবেদন জানানো হলেও তিন সপ্তাহ পরে শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হলে সেই আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেন পরীমনি। ২৬শে অগাস্ট শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল দিয়ে পহেলা সেপ্টেম্বর শুনানির দিন রাখেন।
তবে নিম্ন আদালত তার আগে জামিন শুনানির দিন এগিয়ে নিয়ে আসেন। ৩১শে অগাস্ট পরীমনির জামিন মঞ্জুর করা হলে পরদিন তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।
ছবির উৎস, TAHSAN EHSANUL
কাশিমপুর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তার হাতে লেখা একটি বাক্য সামাজিক মাধ্যমে রীতিমত আলোচনার ঝড় তুলেছে।
জামিনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে কারাগার থেকে বেরিয়ে একটি ছাদ খোলা গাড়িতে করে ঢাকার দিকে চলে যান পরীমনি, আর তখন তার পরনে ছিল সাদা টি-শার্ট এবং মাথায় সাদা পাগড়ির মতো করে জড়ানো একটি কাপড়।
কারাগারের বাইরে বেরিয়েই আবার তুমুল আলোচনায় এসেছেন পরীমনি - এবারে আলোচনা তার হাতে মেহেদী রঙের কিছু লেখা নিয়ে, যা নিয়ে দারুণ সরব সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকের প্ল্যাটফর্ম।
Don't ❤❤❤ Me Bitch
পরীমনির হাতে ইংরেজিতে লেখা ছিল ওপরের এই বাক্যটিই - ডোন্ট (ভালোবাসার হৃদয়সূচক তিনটি চিহ্ন) মি বিচ। এরপর হাতের মধ্যাঙ্গুল প্রদর্শনের একটি চিহ্ন।
সাতাশ দিন পর কারাগারের বাইরে বেরুনো অভিনেত্রীর ওই লেখা এবং ছাদখোলা গাড়িতে তার অভিব্যক্তি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়, অনেকেই এসব ছবি শেয়ার করতে শুরু করেন।
বনানীর বাসায় ফেরার পর সেদিন বিবিসি বাংলার সঙ্গে কথা হয় পরীমনির।
হাতে মেহেদীর রঙে আঁকা ওই লেখার মাধ্যমে তিনি কি বোঝাতে চেয়েছেন, তা জানতে চাওয়া হলে পরীমনি বলেন, "ডেফিনেটলি এটা তো একটা বার্তাই ছিল।"
তিনি বলেন, "এত কথা তো বলতে পারছিলাম না ওখানে বসে, মনে হলো এভাবে পৌঁছাইয়া দেই সবাইকে। এখন এটা দেখে যে মনে করবে, যার মনে হবে, আমাকে বলছে মনে হয়, ওর জন্যেই বলছি আমি।"'
বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:
প্রধান খবর
নির্বাচিত খবর
পাঠকপ্রিয় খবর
ছবির কপিরাইট