করোনাভাইরাস: যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশে আসা যাত্রীদের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিন শুরু
ছবির উৎস, RADOSLAV ZILINSKY/GETTY
যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাসের নতুন স্ট্রেইন শনাক্তের পর এক এক করে ৫০টি দেশ তাদের বিমান যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় দেশটির সাথে।
কিন্তু বাংলাদেশ সরকার বিমান চলাচল অব্যাহত রেখেছে। গত সপ্তাহে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় ফ্লাইট বন্ধ নয়, বরং আজ অর্থাৎ পহেলা জানুয়ারি হতে যুক্তরাজ্য থেকে যারা আসবেন তাদের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।
এয়ারপোর্টে নেয়ে হবে বিশেষ ব্যবস্থা। ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের পরিচালক তৌহিদুল আহসান বলছিলেন "আজ এখন পর্যন্ত ১৩ জন এসেছে। তাদেরকে স্বাস্থ্য বিভাগ এবং আর্মির সাহায্যে সরকারি কোয়ারেন্টিন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।"
তিনি বলছিলেন, "এয়ারপোর্টে পিসিআর টেস্ট করার ব্যবস্থা নেই তবে কোয়ারেন্টিন সেন্টারে আছে। সেখানেই স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।"
তৌহিদুল আহসান বলছিলেন যুক্তরাজ্যের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্কের কারণে ফ্লাইট বন্ধ করা হয় নি তবে সেদেশ থেকে ফেরত আসা যাত্রীদের শতভাগ বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট বলছে বড়দিন এবং নতুন বছরকে কেন্দ্র করে অনেকেই বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করে।
তাতে করে ভাইরাসের সংক্রমণ আরো বাড়ার শঙ্কা থেকে যায়।
"যেসব দেশ ফ্লাইট বন্ধ করেছে তারা এটার একটা ভারসাম্য রক্ষা করার জন্যই করেছে," বলছিলেন ইন্সটিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ এস এম আলমগীর হোসেন।
ছবির উৎস, Getty Images
করোনা ভাইরাসের নতুন ধরণটি যুক্তরাজ্য ধরা পড়ে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসেই।
এই খবর বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানী এবং গবেষকরা জানতেন। বাংলাদেশের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের কাছে ছিল সেই তথ্য।
তবে তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন। ইন্সটিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ এস এম আলমগীর হোসেন বলেছেন, যুক্তরাজ্য থেকে যারা ফেরত এসেছে তাদের যদি রিপোর্ট পজিটিভ থাকে তাহলে আমরা পরবর্তী পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছি, কিন্তু যুক্তরাজ্যে শনাক্ত ভাইরাসের সাথে মিল পাই নি। তবে গবেষণার করার ক্ষেত্রটা যেহেতু খুব সীমিত তাই এখনই পরিষ্কার করা বলা যাচ্ছে না ইতিমধ্যে ঐ স্ট্রেইনটা এসেছে কীনা।
মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ হতে যারা যুক্তরাজ্য থেকে আসবেন তারা ঢাকার দিয়াবাড়ি এবং আশকোনা হজ ক্যাম্পে সরকারি ভাবে কোয়ারেন্টিনে থাকতে পারবেন ১৪ দিন।
যারা এখানে থাকতে চাননা তাদের জন্য হোটেলের ব্যবস্থা করা হয়েছে , সেখানে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে তবে সেটা নিজস্ব খরচে।
বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:
প্রধান খবর
নির্বাচিত খবর
পাঠকপ্রিয় খবর
ছবির কপিরাইট