করোনা ভাইরাস: বাংলাদেশে দ্বিতীয় ঢেউ সামাল দিতে দরকার র্যাপিড টেস্ট, বলছেন বিশেষজ্ঞরা
ছবির উৎস, Getty Images
- Author, মুন্নী আক্তার
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ সামাল দিতে ব্যাপক হারে টেস্ট বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। আর সেক্ষেত্রে অ্যান্টিজেন ভিত্তিক র্যাপিড টেস্ট কিটের ব্যবহার শুরু করা যেতে পারে বলে মত দিয়েছেন তারা।
সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকেই কিছুদিন ধরে শীতে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশংকা প্রকাশ করা হয়েছে।
এর মধ্যে গতকাল ৭০ দিনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে। আর আজ (মঙ্গলবার) গত ৫৭ দিনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়ে গেছে।
এমন পরিস্থিতিতেই টেস্ট বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। তবে করোনা টেস্ট করাতে গিয়ে এখনো হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন অনেকে।
এমনই একজন রাজধানী ঢাকার খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দা রায়হান উদ্দিন রাসেল। সম্প্রতি দু'দিন জ্বরে ভোগার পর চিকিৎসকের পরামর্শে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে নমুনা টেস্ট করার জন্য পাঠান তিনি।
রায়হান উদ্দিন জানান, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রেজাল্ট দেয়ার নিয়ম থাকলেও সেটি না পেয়ে হটলাইনে ফোন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে গিয়ে সেখানে নিজে পজিটিভ হওয়ার কথা জানতে পারেন তিনি।
"কৌতুহলবশত ওয়েবসাইটে গিয়ে মোবাইল নম্বর দিয়ে এন্টার চেপে দেখি আমি পজিটিভ," বলেন তিনি।
ছবির উৎস, Getty Images
তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার নয় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কেন এমন কোন পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হয়নি যাতে করে আক্রান্ত রোগীরা তাদের টেস্টের রেজাল্ট অন্তত দ্রুততর সময়ের মধ্যে জানতে পারেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত বাংলাদেশে ২৫ লাখ ৭২ হাজারের বেশি মানুষের করোনা ভাইরাস টেস্ট করা হয়েছে।
গতকাল, যেদিন ৭০ দিনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে, সেদিন পরীক্ষা করা হয়েছিল ১৫ হাজারের বেশি নমুনা। আর গত ২৪ ঘণ্টায় টেস্ট করা হয়েছে ১৫ হাজার ৯৯০টি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে দৈনিক টেস্টের সংখ্যা তুলনামূলক বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে সবচেয়ে বেশি টেস্ট করা হয়েছিল ১২ই নভেম্বর। সেদিন ১৭ হাজারের বেশি টেস্ট করা হয়েছিল। আর সর্বনিম্ন ৭ই নভেম্বর ১১ হাজারের কিছু বেশি। অর্থাৎ দৈনিক টেস্টের সংখ্যা এখনো গড়ে ১৫ হাজারের বেশি নয়।
ছবির উৎস, Getty Images
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্বিতীয় ধাপ সামলাতে এর চেয়ে আরো বেশি পরিমাণে পরীক্ষা করাতে হবে।
আর টেস্টের ফলাফল দিতে হবে সবচেয়ে দ্রুততর সময়ের মধ্যে।
এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বে-নজীর আহমেদ বলেন, প্রথম ধাপে পর্যাপ্ত মাত্রায় পরীক্ষা করা হয়নি বলে অনেকে বাদ পরে গেছেন। যার কারণে সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। আর তারাই সংক্রমণের মাত্রা অনেক বেশি হারে ছড়িয়েছে।
তিনি মনে করেন, সেটি এখন বন্ধ করতে হবে। আর সেক্ষেত্রে অ্যান্টিজেন-ভিত্তিক র্যাপিড টেস্ট কিট ব্যবহার করে নমুনা টেস্ট করাতে হবে।
"যাতে আধা ঘণ্টার মধ্যে টেস্টের রেজাল্ট দিয়ে রোগীকে বলা যায় যে তার কোভিড রয়েছে কিনা এবং তাকে আইসোলেশনে যেতে হবে কিনা," বলেন তিনি।
সুচারুভাবে কন্টাক্ট ট্রেসিং মহামারির দ্বিতীয় ধাপ নিয়ন্ত্রণের আরেকটি শর্ত বলেও মনে করেন তিনি।
সেই সাথে প্রথম ধাপের মতো ভুল করার সুযোগ নেই উল্লেখ করে মি. আহমেদ বলেন, আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টিনের নিয়ম যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
"জনগণকে মাস্ক ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ হতে হবে, এর কোন বিকল্প নেই।"
ছবির উৎস, Getty Images
বর্তমানে সারা দেশে ১১৬টি ল্যাবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। যার মধ্যে ৬৬টি ল্যাব রাজধানী ঢাকায় এবং বাকি ৫০টি ল্যাব ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় অবস্থিত।
সরকার বলছে, দ্বিতীয় ঢেউ সামাল দিতে টেস্টের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এছাড়া অ্যান্টিজেন টেস্ট চালু করার বিষয়েও সরকারের চিন্তা রয়েছে।
তবে এগুলো কবে নাগাদ শুরু হবে সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত আসেনি বলে বলছিলেন আইইডিসিআর-এর পরিচালক ডা. তাহমিনা শিরিন।
"টেস্ট বাড়বে। তবে কতটা বাড়বে সেটা বলা যাচ্ছে না। অ্যান্টিজেন-ভিত্তিক র্যাপিড টেস্ট চালু হতে পারে," বলেন তিনি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে বাংলাদেশে প্রতি সপ্তাহে এক লাখে ৫৫ জনের নমুনা টেস্ট করা হয়। এরমধ্যে ঢাকায় টেস্টের হার সবচেয়ে বেশি যা প্রায় ৬০ ভাগের মতো।
বিবিসি বাংলায় অন্যান্য খবর:
প্রধান খবর
নির্বাচিত খবর
পাঠকপ্রিয় খবর
ছবির কপিরাইট