পায়েল হত্যা: বাস থেকে ফেলে শিক্ষার্থী হত্যায় চালক-সুপারভাইজার-সহকারীসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ড
ছবির উৎস, Getty Images
চট্টগ্রামে যাবার পথে বাস থেকে ফেলে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইদুর রহমান পায়েলকে হত্যার দায়ে হানিফ পরিবহনের একটি বাসের চালক, হেলপার আর সুপারভাইজারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।
২০১৮ সালে এই হত্যার ঘটনা ঘটে।
মামলাটির বিচার হয়েছে চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে পায়েলের মা কোহিনুর বেগম বলেন, ''আমাদের চাওয়া হলো রায়টা যেন দ্রুততম সময়ে শাস্তি কার্যকর হয়।''
বাদীপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার খালিদ আদনান জানান, রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, সড়ক দুর্ঘটনা অনেকটা হত্যার পর্যায়ে চলে গেছে।
রায়ে আদালত আরো কয়েকটি পর্যবেক্ষণ দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
- বাস ছাড়ার পূর্বে চালক ও সহকারী সুপারভাইজার মাদকাসক্ত কিনা, তা পরীক্ষা করতে হবে।
- মহাসড়কে প্রতি তিন কিলোমিটার পর পর বাথরুমের ব্যবস্থা করতে হবে সরকারকে।
- বাসের সুপারভাইজার, হেলপার যেন যাত্রীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ না করেন, সেটা পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
- সেই সঙ্গে মহাসড়কে বাসের গতি পর্যবেক্ষণ করার জন্য সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে।
আরো পড়ুন:
যা ঘটেছিল
২০১৮ সালের ২১শে জুলাই দুই বন্ধুর সঙ্গে হানিফ পরিবহনের একটি বাসে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইদুর রহমান পায়েল।
দুইদিন পরে মুন্সীগঞ্জের একটি খাল থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে গজারিয়া থানা পুলিশ।
এই ঘটনায় হানিফ পরিবহনের একটি বাসের চালক, সুপারভাইজারকে গ্রেপ্তার করা হলে তারা হত্যাকাণ্ডে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেন।
স্বীকারোক্তিতে তারা বলেন, গজারিয়ার একটি স্থানে বাস যানজটে পড়লে টয়লেট করার জন্য পায়েল বাস থেকে নামেন।
যানজট ছুটে গেলে বাসটি চলতে শুরু করলে পায়েল দৌড়ে উঠতে গিয়ে মারাত্মক আহত হন।
সেই অবস্থায় তাকে বাসে না তুলে অভিযুক্তরা তাকে পাশের সেতু দিয়ে নদীতে ফেলে দেয়।
পায়েলের সঙ্গে থাকা বন্ধুদের জানানো হয়, তিনি পরের গাড়ীতে আসবেন।
দুইদিন পর পায়েলের মৃতদেহ ভেসে ওঠে।
ছবির উৎস, Shyadul Islam
পরবর্তীতে মৃতদেহের পকেটে পাওয়া মানিব্যাগে থাকা টেলিফোন নম্বরের সূত্র ধরে তার পরিচয় বেরিয়ে আসে।
পায়েলের মৃত্যুর পর তার মামা গোলাম সরোয়ার্দী বিপ্লব বাদী হয়ে চালক, সহকারী ও সুপারভাইজারকে আসামি করে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ওই বছরের তেসরা অক্টোবর পুলিশ অভিযোগপত্র দেয়।
প্রথমে মুন্সীগঞ্জে এই মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হলেও পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়া হয়।
গত বছরের নভেম্বরে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ মামলার বিচার শুরু হয়।
বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:
প্রধান খবর
নির্বাচিত খবর
পাঠকপ্রিয় খবর
ছবির কপিরাইট