করোনা ভাইরাস: কোরবানির আনুষ্ঠানিকতা ও নির্দেশনায় এসেছে পরিবর্তন
ছবির উৎস, Abu Sufian Jewel
কোরবানির ঈদের আর এক সপ্তাহ বাকি। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কোরবানির হাটে পশু তোলা শুরু হয়েছে। তবে এবারের কোরবানির ঈদে নতুন করে যুক্ত হয়েছে করোনাভাইরাস আতঙ্ক।
এ কারণে মানুষের কোরবানির নিয়মিত আনুষ্ঠানিকতায় বড় ধরণের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তেমনি কোরবানির সার্বিক দিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে যারা আছেন, তাদের তদারকি ও নির্দেশনা প্রয়োগেও এসেছে বড় ধরণের পরিবর্তন।
ঢাকার বাসিন্দা আক্তার জাহান শিল্পী প্রতিবছর দুটি গরু কোরবানি দিয়ে থাকেন।
একটি ঢাকায়, তিনি যেখানে থাকেন। এবং আরেকটি তার গ্রামের বাড়িতে।
কিন্তু করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে এবার তিনি কয়েকজন প্রতিবেশীর সঙ্গে যৌথভাবে একটি পশু কোরবানি দেয়ার পরিকল্পনা করেছেন। গ্রামের বাড়িতে কোরবানি দেবেন না বলেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি যে ভবনে থাকেন সেখানকার বাসিন্দারা প্রথমে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কম্পাউন্ডের ভেতরে কোন কোরবানি হবে না।
পরে একসঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এবারে সীমিত পরিসরে কোরবানির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
মিসেস আক্তার বলেন, "আগে আমাদের ভবনে ৩০টা গরু কোরবানি হতো। এখন সেখানে ১২টা গরু কোরবানি হবে কিনা সন্দেহ। সেটাও সম্পন্ন হবে দুই দিনে। যেন মানুষের সমাগম কম হয়। "
ছবির উৎস, DESHIGORUBD.COM
এবারের কোরবানির ঈদে পশুর হাটগুলোয় ভিড়ভাট্টা এড়াতে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অনলাইনে পশু কেনার বেচার ব্যাপারে প্রচারণা চালিয়ে আসছে।
যেখানে ক্রেতারা ঘরে বসেই পশুর ছবি ও ভিডিও দেখে গরু পছন্দ করতে পারবেন।
সিটি কর্পোরেশন এবং সারা দেশের জেলা উপজেলার স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে যে এবারে তারা হাটের সংখ্যা আগের চাইতে কমিয়ে এনেছে।
এরমধ্যে কিছু হাটের একটি অংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে অনলাইন কেনাকাটার জন্য।
মানুষের ভিড় এড়াতে প্রতিটি হাট একমুখী করা হয়েছে, অর্থাৎ মানুষের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ আলাদা হবে।
সেই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি নজরদারি করতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বাড়তি টিম এবং কেউ অসুস্থ হলে তাদের সেবায় আলাদা স্বাস্থ্যসেবা টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের জন সংযোগ কর্মকর্তা আবু নাসের বলেন, "প্রতিটি হাটের প্রবেশ মুখে জীবাণুনাশক ছেটানোর ব্যবস্থা থাকবে। আগে যেখানে সবগুলো হাটে কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ আদালত ছিল, এবারে প্রতিটি হাটে ভ্রাম্যমাণ আদালত স্ট্যান্ডবাই থাকবে। ইজারাদারদের কেউ স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করলে তাদের ইজারা সাথে সাথে বাতিল করার নির্দেশ রয়েছে। "
ছবির উৎস, Abu Sufian Jewel
আরও পড়তে পারেন:
তবে বাংলাদেশের মানুষ এখনও হাট থেকে কোরবানির পশুর কেনার ব্যাপারে অভ্যস্ত হওয়ায় সবক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব এবং স্বাস্থ্যবিধি মানানো বেশ কঠিন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এক্ষেত্রে তারা যৌথভাবে অনলাইনে গরু কেনার ব্যাপারে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করছেন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বে-নজির আহমেদ, একদিনে সব পশু কোরবানি না দিয়ে, তিন দিনে ভাগ করে সীমিত পরিসরে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নের পরামর্শ দিয়েছেন।
সেক্ষেত্রে মাংস বিতরণেও সতর্ক হওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
মি. আহমেদ বলেন, "হাটগুলোয় মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি নজরদারি করতে হবে। কিছু দূর পরপর হাত ধোয়ার জায়গা রাখতে হবে। যৌথ কোরবানির পাশাপাশি কয়েকদিন মিলিয়ে কোরবানির পরিকল্পনা করলে ভাল। আর মাংস বিতরণটা এমনভাবে করতে হবে যেন সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা যায়।"
কোরবানির ঈদকে ঘিরে সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রচারণায় বলা হচ্ছে, ষাট বছরের ওপরে উপরে যাদের বয়স তারা যেন পশুর হাট এড়িয়ে চলেন।
দলবেঁধে গরু কিনতে না এসে, শুধু যেন একজনই আসেন। এছাড়া অসুস্থ ব্যক্তিদের কোরবানির আনুষ্ঠানিকতায় যুক্ত না করার ব্যাপারেও সচেতন করা হচ্ছে।
এ ধরণের নির্দেশনার আগের কোন কোরবানির ঈদে দেখা যায়নি।
প্রধান খবর
নির্বাচিত খবর
পাঠকপ্রিয় খবর
ছবির কপিরাইট