করোনাভাইরাস: টিকা আছে কি? আক্রান্তরা পুরো সেরে উঠছেন কি? এবং অন্যান্য নির্বাচিত প্রশ্ন
ছবির উৎস, SHUTTERSTOCK
করোনাভাইরাসে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ৩৪ হাজারেরও বেশি, এবং প্রতিনিয়ত বাড়ছে, যার কারণে বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য জরুরী অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। এই রোগটি যুক্তরাজ্যসহ অনেক দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।
নতুন ভাইরাস সম্পর্কে বিবিসির কাছে পাঠানো পাঠকদের বিভিন্ন প্রশ্ন থেকে কয়েকটি বেছে নিয়ে সেগুলোর উত্তর দেয়া হল।
যেসব দেশে বিমান চলাচল বন্ধ হয়নি, তাদের দেশের ভেতরে কিংবা দেশের বাইরে ভ্রমণ করা কতটা নিরাপদ? - জেসন রিচেস, কোলচেস্টার
এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুধুমাত্র চীনে ছড়িয়ে পড়েছিল এমন মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক। এই মুহূর্তে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ৯৯% শতাংশই ঘটনাই ঘটেছে চীনে এবং এর বেশিরভাগই কেবল একটি প্রদেশে (হুবেই)।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং কমনওয়েলথ দফতর হুবেই প্রদেশে সব ধরণের ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।
এছাড়া চীনের মূল ভূখণ্ডে খুব প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার কথা জানিয়েছে তারা।
তবে চীন এখন পর্যন্ত অন্য কোনও দেশে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার কথা বলেনি।
চীনা চিকিৎসক, যার বয়স কিনা ত্রিশের কোঠায়। তিনি কীভাবে এই 'ফ্লু-জাতীয়' ভাইরাসে মারা গেলেন? আমি ভেবেছিলাম কেবলমাত্র শিশু ও বয়স্করাই কি এই ঝুঁকির মধ্যে আছেন?- জেফ্রি
এমন হতে পারে যে চীনা চিকিৎসক ড. লি এর অন্য, অপ্রকাশিত, স্বাস্থ্য সমস্যা ছিল যা তাকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছিল
অথবা তিনি অনেক বেশি মাত্রায় ভাইরাসটির সংস্পর্শে এসেছিলেন যার কারণে হয়তো তার লক্ষণগুলোও আরও মারাত্মকভাবে দেখা দিয়েছিল।
তবে এটিও মনে রাখার মতো বিষয় যে মৌসুমি ফ্লু-তে আক্রান্ত হয়ে যারা মারা যান, তাদের বেশিরভাগই বয়সে শিশু এবং প্রবীণ।
তবে তরুণ বয়সীরাও এতে প্রাণ হারাতে পারেন।
আরও দেখতে পারেন:
ছবির উৎস, EPA/WU HONG
মাস্ক কী কার্যকরভাবে ভাইরাস প্রতিরোধ করতে পারে এবং এটি কতবার পরিবর্তন করতে হয়? টম লিম, বালি, ইন্দোনেশিয়া
মুখে মাস্ক পরলেই যে ভাইরাস প্রতিরোধে বড় ধরণের পরিবর্তন আনা যাবে, এমন খুব কম প্রমাণ আছে।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দিকটি খেয়াল রাখতে হবে।
যেমন নিয়মিত আপনার হাত ধোয়া এবং অবশ্যই মুখের কাছে হাত আনার আগে সেটি ধুয়ে পরিষ্কার করে নেয়া - এ ধরণের অভ্যাস মাস্কের চাইতেও অনেক বেশি কার্যকর।
করোনাভাইরাসের জন্য ইনকিউবেশন সময়কাল বা সুপ্তিকাল কী? - জিলিয়ান গিবস
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে যে, ইনকিউবেশন পিরিয়ড অর্থাৎ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে এর লক্ষণগুলি প্রকাশ পাওয়ার আগ পর্যন্ত সময়ের পরিধি দুই থেকে ১০ দিনের মতো হয়ে থাকে।
বর্তমানে তথ্য আরও সহজলভ্য হওয়ার কারণে এ বিষয়ে আরও নির্দিষ্টভাবে অনুমান করা যাবে।
ইনকিউবেশন পিরিয়ড বা সুপ্তিকাল সম্পর্কে জানা এবং বোঝা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
কেননা ওই ইনকিউবেশন সময়ের মধ্যে চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে এবং এর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর উপায় বের করার সময় পান।
অর্থাৎ তারা আরও কার্যকর কোয়ারান্টিন ব্যবস্থা চালু করতে পারে। যেখানে ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে এমন মানুষদের আলাদা করে রাখা হয়, যেন তাদের মধ্যে ভাইরাস সনাক্ত হলেও সেটা অন্য কারও মধ্যে ছড়িয়ে না পড়ে।
করোনাভাইরাসে যারা আক্রান্ত হওয়ার পর সেরে উঠেছেন তারা কি পুরোপুরি সুস্থ হতে পেরেছেন? - ক্রিস স্টেপনে, মিল্টন কেইনস
হ্যাঁ। যারা করোনাভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছেন তাদের মধ্যে অনেকেই কেবল হালকা কিছু লক্ষণ অনুভব করেছেন।
এর মধ্যে রয়েছে জ্বর, কাশি এবং শ্বাসকষ্টের সমস্যা।
বেশিরভাগ লোকেরা সম্পূর্ণ সেরে উঠেছেন বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে এটি প্রবীণ ব্যক্তি বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে, যেমন ডায়াবেটিস বা ক্যান্সার অথবা দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, তাদের ক্ষেত্রে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বড় ধরণের ঝুঁকির সৃষ্টি করতে পারে।
ফেব্রুয়ারির আট তারিখ পর্যন্ত হিসাব দেখিয়ে চীনা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে ভাইরাসে এখন পর্যন্ত ৭২২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
দেশটিতে ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৫৪৬ জনের।
এছাড়া চীনের বাইরে আরও ২৫টি দেশে আক্রান্ত হয়েছেন ২৭০ জনের মতো।
চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের একজন বিশেষজ্ঞ বলেছেন যে, কারও মধ্যে যদি করোনাভাইরাসের হালকা কিছু লক্ষণ দেখা যায় তাহলে তার পুরোপুরি সেরে উঠতে এক সপ্তাহের মতো সময় লাগতে পারে।
চীনের উহান শহর থেকে যুক্তরাজ্যে পাঠানো জিনিসপত্রের মাধ্যমে কি করোনাভাইরাস ছড়াতে পারে? - স্টেফান
জিনিসপত্রের মাধ্যমে ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি আছে-এমন কোনও প্রমাণ নেই।
তবে, করোনাভাইরাস এবং সার্সসহ কিছু রোগ মানুষের হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে জীবাণু সংক্রমণ ঘটতে পারে।
তবে নতুন করোনাভাইরাস এভাবে ছড়ায় কিনা সেটা এখনও বলা হয়নি।
যদি ভাইরাসটি এভাবে ছড়ায়, তাহলে আন্তর্জাতিক পণ্য আনা-নেয়ায় বড় ধরণের সমস্যা সৃষ্টি হবে কিনা সেটা নিয়ে প্রশ্ন থাকবে।
শীতল ভাইরাসগুলো মানুষের দেহের বাইরে ২৪ ঘণ্টারও কম সময় বাঁচে।
যদিও কনোরোভাইরাস (অন্ত্রের একটি গুরুতর পোকা) শরীরের বাইরে কয়েক মাস টিকে থাকতে পারে।
এখন পর্যন্ত সবচেয়ে আশ্বস্ত হওয়ার মতো বিষয় হল, এই ভাইরাসটি ছড়াতে হলে অন্য ব্যক্তির সাথে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসতে হবে, বলেন একজন স্বাস্থ্যসেবা কর্মী।
চীন থেকে এই জাতীয় ভাইরাস উদ্ভব হওয়ার কোনও কারণ আছে কি? - গৌতম
হ্যাঁ। কারণ ওই দেশের জনগোষ্ঠীর একটি বিশাল অংশ বিভিন্ন প্রাণীদের সান্নিধ্যে বাস করে।
অনেকটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায় এই করোনাভাইরাসটি একটি প্রাণী থেকে এসেছে।
অনেকে বলছেন এটির উৎস সাপ।
সার্সের মতো আরেক ধরণের করোনাভাইরাস যা চীনে উদ্ভূত হয়েছিল। যার উৎস ছিল বাদুড় এবং সিভেট ক্যাট (গন্ধগোকুল)।
নতুন এই ভাইরাসটির সংক্রমণের প্রাথমিক ঘটনাগুলো ঘটেছে দক্ষিণ চীনে সামুদ্রিক মাছের পাইকারি বাজার এলাকায়।
যেখানে মুরগি, বাদুড় এবং সাপসহ আরও নানারকম জীবন্ত বন্য প্রাণী বিক্রি করা হত।
এই শ্বাসকষ্টজনিত অসুস্থতা রোধ করার জন্য কি টিকা দেওয়া সম্ভব? - হান্স ফ্রেডরিখ
এই মুহূর্তে, এমন কোনও টিকা নেই যা এই ধরণের করোনাভাইরাস থেকে মানুষকে রক্ষা করতে পারে, তবে গবেষকরা এর প্রতিষেধক আবিষ্কারের চেষ্টা করছেন।
এটি একটি নতুন ধরণের নমুনা যা আগে কখনও মানুষের মধ্যে দেখা যায়নি, যার অর্থ ডাক্তারদের এখনও এটি সম্পর্কে অনেক গবেষণা করতে হবে।
প্রধান খবর
নির্বাচিত খবর
পাঠকপ্রিয় খবর
ছবির কপিরাইট