মানবাধিকার কমিশনের মত শিশুদের সুরক্ষায় শিশু অধিকার কমিশন গঠনের দাবি
ছবির উৎস, Getty Images
মানবাধিকার নিশ্চিত করার জন্য যেমন হিউম্যান রাইটস কমিশন আছে তেমনি শিশুর সুরক্ষা ও শিশু অধিকার নিশ্চিত করতে চাইল্ডস রাইটস কমিশন হওয়া হওয়া দরকার -এমনটাই মনে করেন সেভ দ্য চিলড্রেনের শিশু সুরক্ষা ও অধিকার বিষয়ক উপপরিচালক আশিক ইকবাল।
"সেটা অনেক দেশে থাকলেও বাংলাদেশে নেই," বিবিসি বাংলাকে বলেছেন আন্তর্জাতিক শিশু বিষয়ক সংস্থার এই কর্মকর্তা।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন সহ বিভিন্ন রকম নিপীড়নের পরিমাণ বাড়েছ উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিশু সুরক্ষা পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য বড় ধরণের বাজেটের প্রয়োজন।
"শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এখনো গড়ে ওঠেনি। প্রয়োজনীয় বাজেট ও অধিকতর বরাদ্দ এবং দিক-নির্দেশনা থাকলে পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব।"
ছবির উৎস, NurPhoto
শিশুদের সুরক্ষা ও উন্নয়নের জন্য দেশের বাজেটে আরও বেশি বরাদ্দ থাকা দরকার বলে মনে করেন মিস্টার ইকবাল।
বাংলাদেশে বিগত কয়েক বছর ধরে বাজেটে শিশুদের জন্য যে বরাদ্দ থাকে সেটা মূলত শিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা খাতের জন্য।
এই খাতগুলোয় বরাদ্দ আক্ষরিক অর্থে বাড়লেও বাজেটের অন্যান্য খাতের তুলনায় বরাদ্দ কমেছে বলে জানান মি. ইকবাল।
এ কারণেই বাংলাদেশের শিশু অধিকার পরিস্থিতিতে লক্ষণীয় কোন পরিবর্তন আসছে না বলে তিনি মনে করেন।
মিস্টার ইকবাল বলেন, বাংলাদেশে ৫৫ লাখ শিশু এখনও শিক্ষা ব্যবস্থার বাইরে রয়ে গেছে। এদের মধ্যে কেউ একেবারেই স্কুলে যায়নি আবার কেউ ভর্তি হলেও পরে ঝরে পড়েছে।
আবার শিশু মৃত্যুর হার আগের চাইতে কমলেও এখনও অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে এই হার অনেক বেশি বলে তিনি জানান।
আরও পড়তে পারেন:
ছবির উৎস, Getty Images
সেই সঙ্গে শিশু সুরক্ষা পরিস্থিতি বিগত যেকোনো সময়ের চাইতে অনেক খারাপ হয়েছে। বিশেষ করে শিশুর ওপর নির্যাতন, যৌন হয়রানি, হত্যা এমন আরও নানা বিষয় অনেক উৎকণ্ঠার পর্যায়ে গেছে বলে তিনি জানান।
"এটা ঠিক যে শিশু নির্যাতন নতুন করে শুরু হয়নি। এটা আগেও ছিল। কিন্তু এখন আমরা এটা বাড়তে দেখছি। আগের চাইতে বিষয়গুলো সংবাদমাধ্যমে বেশি আসছে এটা যেমন ঠিক তেমনি, শিশু নিপীড়নের সংখ্যাও আগের চাইতে বেড়েছে,"- বলেছেন মিস্টার ইকবাল।
তার মতে, শিশুদের উন্নয়নে বাজেটে বরাদ্দটা হতে হয় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সুরক্ষার মতো বিভিন্ন খাতের মধ্যে দিয়ে।
"কিন্তু বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে এই বরাদ্দ মাত্র ৫% -এ নেমে এসেছে। একই চিত্র শিক্ষাখাতেও। যেটা এবারে নেমে এসেছে ১১.৮% শতাংশে।"
দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশই শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে জিডিপির শতাংশে সবচেয়ে কম বাজেট বরাদ্দ দিয়ে থাকে।
অথচ ইউনেস্কোর স্ট্যান্ডার্ড হচ্ছে, একটি দেশে শিশু শিক্ষার বরাদ্দ থাকা উচিত দেশটির মোট বাজেটের ২০%।
এ ব্যাপারে আশিক ইকবাল মনে করেন, যেহেতু এক ধাপে বাজেট বাড়ানো সম্ভব নয়। তাই ২০২৫ সালকে যদি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় তাহলে বাজেট বাড়ানো যেতেই পারে।
বাজেটে মূলত দুটো জায়গায় বরাদ্দের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজন আছে বলে তিনি জানান।
ছবির উৎস, ASIT KUMAR
তিনি বলেন, "এক্ষেত্রে সরকার বড় আকারে সারাদেশে প্রচারণা চালাতে পারে। সেটার জন্য অবশ্যই বড় ধরণের বাজেট প্রয়োজন।"
এছাড়া বাংলাদেশে যে শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে, সেটাকে খুবই দুর্বল বলে মন্তব্য করেছেন আশিক ইকবাল।
শিশু বিষয়টি শিশু ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে। এখন সেই মন্ত্রণালয়ে মহিলা বিষয়ক আলাদা অধিদফতর থাকলেও শিশুদের জন্য আলাদা কোন অধিদফতর নেই। যেটা হওয়া খুবই জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
ছবির উৎস, Getty Images
এগুলো প্রতিষ্ঠা করার জন্য বড় ধরণের বাজেটের প্রয়োজন। তাই শিশু সুরক্ষা পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য সেই বাজেট আজ না হয় কাল সরকারের কাছে থেকে আসবে সেই আশাই করছেন আশিক ইকবাল।
প্রধান খবর
নির্বাচিত খবর
পাঠকপ্রিয় খবর
ছবির কপিরাইট