ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জারিফের আকস্মিক পদত্যাগের রহস্য কী?

ছবির উৎস, AFP

ছবির ক্যাপশান, পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে ইরানের পরমাণু চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মিস্টার জারিফ।
পড়ার সময়: ৩ মিনিট

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ আকস্মিকভাবে পদত্যাগ করেছেন। এই খবর তিনি ঘোষণা করেছেন সামাজিক মাধ্যমে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে।

ওই পোস্টে দায়িত্ব পালনকালে নিজের "ভুল-ত্রুটির" জন্য তিনি ক্ষমাও চেয়েছেন।

ইরান এবং আন্তর্জাতিক ক্ষমতাধর দেশগুলোর মধ্যে ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন মিস্টার জারিফ।

কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন সম্পৃক্ততা সরিয়ে নিয়ে এই চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্রের বরাত দিয়ে মিস্টার জারিফের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ।

৫৯বছর বয়সী মিস্টার জারিফ যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করেছেন এবং ইউনিভার্সিটি অব ডেনভার থেকে আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে পিএইচডি করেন।

জাতিসংঘে ইরানের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি ।

ইরানকে আরও উদার দেশ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রেসিডেন্ট হিসেবে হাসান রুহানি নির্বাচিত হলে ২০১৩ সালে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পান মিস্টার জারিফ।

পদত্যাগের পেছনে কারণ কী?

বিষয়টি এখনো ততটা পরিষ্কার নয়। সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে নিজের পোস্টে তিনি ইরানের সাধারণ মানুষের উদ্দেশে ধন্যবাদ জানিয়েছেন কিন্তু তার পর সবে যাবার কারণ হিসেবে কিছু লেখেননি।

তিনি লিখেছেন, "পদে থেকে দায়িত্ব পালন চালিয়ে যেতে না পারার জন্য এবং সকল ব্যর্থতা ও ভুল-ত্রুটির জন্য আমি ক্ষমা-প্রার্থী"।

অন্যান্য বড় বড় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মত ইরানে ইনস্টাগ্রাম নিষিদ্ধ নয়। প্রেসিডেন্ট রুহানি তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন কি-না সেটি অবশ্য খোলাসা হয়নি এখনো। যদিও পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে- এমন খবর টুইট করে নাকচ করে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট-এর চীফ অব স্টাফ ।

আরও পড়ুন:

ভিডিওর ক্যাপশান, শাহ ও আয়াতোল্লাহ: ইরান বিপ্লবের ৪০ বছরে ফিরে তাকানো

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করার পরমাণু চুক্তি থেকে আমেরিকা নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়ার পর থেকে মিস্টার জারিফ দেশের ভেতরে হার্ড-লাইনারদের দ্বারা চাপের মুখে ছিলেন।

এদিকে সোমবার সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ ইরানের সবোর্চ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ খোমেনির সাথে তেহরানে সাক্ষাত করেছেন, তবে পর্যবেক্ষকরা বলছেন সেখানে আলোচনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিস্টার জারিফ ছিলেন না।

সিরিয়ার চলমান গৃহযুদ্ধে দেশটির সরকারের প্রধান সমর্থনকারী দেশের একটি ইরান। তেহরান সফরকে ২০১১ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়া ছাড়া মিস্টার আসাদের প্রথম বিদেশ সফর মনে করা হচ্ছে।

Skip Instagram post
Instagram কনটেন্টের জন্য কি অনুমতি দেবেন?

এই নিবন্ধে Instagramএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত Instagram কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।

সতর্কবাণী: তৃতীয়পক্ষের কন্টেন্টে বিজ্ঞাপন থাকতে পারে

End of Instagram post

এটা কি নতুন কৌশল?

জাভেদ জারিফের হঠাৎ পদত্যাগের ঘটনায় জল্পনা-কল্পনার ডালপালা ছড়িয়েছে। যে সময়টাতে ইরানকে নানারকম সঙ্কটের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে তেমন সময় এই পদত্যাগ প্রেসিডেন্ট রুহানি মেনে নেবেন কি-না সেটি পরিষ্কার নয়। এই সিদ্ধান্ত অবশ্য নির্ভর করছে সবোর্চ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ খোমেনির ওপর ।

পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে ইরানের পরমাণু চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে একজন প্রধান ক্রীড়নক হিসেবে মধ্যস্থতা করলেও মিস্টার জারিফের সেই ভূমিকাকে কট্টরপন্থীরা কখনোই পছন্দ কিংবা বিশ্বাস করতে পারেনি।

কিন্তু মিস্টার জারিফের পদত্যাগের বিষয়টি কি একধরনের কৌশল?

ছবির উৎস, AFP

ছবির ক্যাপশান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত নভেম্বরে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেন।

অথবা মার্কিন-মুল্লুকে উচ্চশিক্ষিত কূটনীতিকের বিদায় যিনি হয়ে উঠেছিলেন বাকি বিশ্বের সাথে ইরানের নতুন যোগাযোগের হাস্যোজ্জ্বল প্রতিনিধি।

অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, ওয়াশিংটন এবং তার মিত্র দেশগুলোর সমন্বিত প্রচারের মুখে সামনের দিনগুলোতে তেহরানের পররাষ্ট্রনীতি কঠোর রূপ নিতে শুরু করবে, যেমনটা গত সপ্তাহে মিউনিখে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বর্ণনা করেছেন মিস্টার জারিফ নিজে।

Skip X post
X কনটেন্টের জন্য কি অনুমতি দেবেন?

এই নিবন্ধে Xএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত X কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।

সতর্কবাণী: তৃতীয়পক্ষের কন্টেন্টে বিজ্ঞাপন থাকতে পারে

End of X post

পরমাণু চুক্তির ভবিষ্যৎ কী?

২০১৫ সালে হওয়া পরমাণু চুক্তির শর্ত ছিল ইরান তার কর্মসূচি কমিয়ে আনবে বিনিময়ে অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একে "ভয়াবহ" আখ্যা দেন এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচির হেরফের করতে এটা খুব একটা ভূমিকা রাখতে পারেনি বলে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন।

গতবছর তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে এই চুক্তি থেকে প্রত্যাহার রে নেয়ার ঘোষণা দেন। অন্যান্য অংশীদাররা এই চুক্তিতে থাকার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেন এবং মিস্টার জারিফ চুক্তিটি অক্ষত রাখার বিষয়ে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

দেশটির পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ বলে ইরান বরাবর দাবি করে আসছে। মিস্টার জারিফের ঘোষণার প্রতিক্রিয়া মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও টুইটারে লিখেছেন ইরানের বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি "অপরিবর্তিত" থাকবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ আকস্মিকভাবে পদত্যাগ করেছেন। এই খবর তিনি ঘোষণা করেছেন নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে। দায়িত্ব পালনকালে নিজের "ভুল-ত্রুটির" জন্য তিনি ক্ষমা চেয়েছেন।

আরও পড়তে পারেন: