গ্যাস সঙ্কট চলাকালীন যেসব উপায়ে প্রতিদিনের রান্না করছে ঢাকাবাসী
ছবির উৎস, বিবিসি
গ্যাস না থাকায় রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না - এমন সমস্যা বাংলাদেশে নতুন নয়।
প্রয়োজনের সময় চুলায় গ্যাস পাওয়া না যাওয়া বা গ্যাসের প্রয়োজনীয় চাপ না থাকায় রান্না করতে না পারার অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়।
কিন্ত চুলায় গ্যাস না থাকলেও পরিবারের প্রতিদিনের খাবারের যোগান নিশ্চিত করতে রান্না তো করতেই হবে।
বিভিন্ন উপায়ে এই গ্যাস সঙ্কটের সমাধান খোঁজার চেষ্টা করেছেন রাজধানী ঢাকার বাসিন্দারা।
আরো পড়ুন:
১. কেরোসিনের চুলা
গ্যাস সঙ্কটের সমাধান খুঁজতে অনেকে কোরোসিন চালিত চুলা ব্যবহার করছেন।
ঢাকার লালবাগের বাসিন্দা সাদিয়া আরমান নিজের ব্যবহারের কেরোসিনের চুলার ছবি দিয়েছেন তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে।
কেরোসিনের চুলার একটি ছবি দিয়ে ফেসবুকে তিনি মন্তব্য করেন, "লালবাগে এখন সবাই কিনছে। রান্নার সময় দুদিন ধরে গ্যাস নেই।"
ছবির উৎস, সাদিয়া আরমান
২. গ্যাস সিলিন্ডার
রাজধানী ঢাকাসহ অনেক জায়গাতেই ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য গ্যাস সিলিন্ডারের জনপ্রিয়তা বেড়েছে।
রাজধানীর কিছু এলাকাতে গ্যাস সংযোগ না থাকায় বাসাবাড়িতে বহনযোগ্য গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করে রান্না করতে হয় ঐসব এলাকার বাসিন্দাদের।
তবে অনেক বাসাতে গ্যাস সংযোগ থাকলেও জরুরি প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে গ্যাস সিলিন্ডার রাখেন অনেকেই।
ঢাকার গোরান এলাকার একজন গৃহিণী নুসরাত শিখা বলেন, "কখন গ্যাস থাকবে আর কখন থাকবে না, সেই অনিশ্চয়তায় যেন দৈনন্দিন রান্নাবান্নার কাজ ব্যহত না হয়, তাই একটি গ্যাস সিলিন্ডার সবসময় বাসায় রাখি।"
ছবির উৎস, BBC BANGLA
৩. বৈদ্যুতিক চুলা
দেশের বিভিন্ন এলাকায় একসময় রান্নার কাজে ব্যবহার করা হতো ইলেকট্রিক হিটার।
বর্তমানে সেসব ইলেকট্রিক হিটার দেখা না গেলেও তার জায়গা নিয়েছে বিদ্যুত চালিত ইন্ডাকশন বা ইনফ্রারেড চুলা।
ছবির উৎস, প্রত্যয় সাহা
অবশ্য বিদ্যুতের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করায় বাসাবাড়িতে এই ধরণের চুলা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল বিদ্যুত বিভাগ।
তবে গ্যাস সঙ্কট মোকাবেলা করতে বাধ্য হয়েই ঘরে বৈদ্যুতিক চুলা রাখেন অনেকেই।
ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন বাড্ডার বাসিন্দা প্রত্যয় সাহা।
বাসায় অনেক সময়ই গ্যাস থাকে না বিধায় একটি বৈদ্যুতিক চুলা কিনে রেখেছেন।
মি. সাহা জানান, "সাধারণত সকাল ৬টার মধ্যেই সব রান্না করে রাখার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু নানা কাজে থাকায় তা সবসময় সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাই প্রয়োজনে ছোটোখাটো রান্নাগুলো বৈদ্যুতিক চুলায় করে থাকি।"
৪. নির্দিষ্ট সময়ে রান্না
ঢাকার বসুন্ধরা এলাকার বাসিন্দা আসমা উল হুসনা জানান, "সবসময় গ্যাস পাওয়া যায় না বলে নির্দিষ্ট সময়ে রান্নাবান্নার কাজ শেষ করে রাখার চেষ্টা করি আমরা।"
একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মিজ. হুসনা বলেন, তাদের এলাকায় আগে থেকে ঘোষণা করে দেয়া হয় কখন গ্যাস থাকবে না। সেই অনুযায়ী রান্নাবান্না শেষ করে রাখেন তারা।
তবে কোন সময়ে গ্যাস পাওয়া যাবে তা আগে থেকে জানিয়ে রাখলেও অনেক পরিবারের পক্ষেই সেসময় রান্না করা সম্ভব হয়ে ওঠে না।
যেরকম বলছিলেন রাজধানীর খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দা লাইলি বেগম।
"চাকরিজীবি গৃহিণী হওয়ায় গ্যাস পাওয়া যাওয়ার সময়ের সাথে মিলিয়ে রান্না করতে পারি না অনেকসময়ই। কখনো কখনো এমনও হয়েছে মাঝরাতে ঘুম থেকে উঠে রান্না শেষ করে রাখতে হয়েছে।"
ছবির উৎস, জুনায়েদ পাইকার
৫. আর কোন উপায় না থাকলে...সবাই মিলে পিকনিক!
ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত জুনায়েদ পাইকার ঢাকার খিলক্ষেতে কনকর্ড লেক সিটি কমপ্লেক্সে থাকেন। মঙ্গলবার রাতে বাসায় পৌঁছে তিনি আবিষ্কার করেন যে বাসায় রান্না করার মত পর্যাপ্ত গ্যাস নেই।
মি. পাইকারের কয়েকজন আত্মীয় থাকেন ঐ কমপ্লেক্সেরই কয়েকটি বাসায়। কাজেই সবাইকে নিয়ে একসাথে ঘরোয়া পিকনিক আয়োজন করার পরিকল্পনা করেন তিনি।
"কাজ থেকে বাসায় ফিরে যখন দেখি যে গ্যাস নেই, তখন সবার সাথে আলোচনা করে লাকড়ি যোগাড় করে বাসার সামনে নিজেরাই রান্নার ব্যবস্থা করে ফেলি; অনেকটা পিকনিকের মতো।"
মি. পাইকার মনে করেন, তাদের এই আয়োজন প্রতিবেশীদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি করেছে।
তাদের এই আয়োজনে উদ্বুদ্ধ হয়ে গ্যাস সঙ্কট চলাকালীন সময় এমন পিকনিক আয়োজন করতে পারেন আপনিও।
প্রধান খবর
নির্বাচিত খবর
পাঠকপ্রিয় খবর
ছবির কপিরাইট