স্তন ক্যান্সার: 'হরমোন থেরাপির সাথে প্যালবোসাইক্লিব ব্যবহারে আক্রান্ত নারী আরও বেশিদিন বাঁচবেন'
ছবির উৎস, Science Photo Library
হরমোন থেরাপির সাথে নতুন ধরনের ঔষধের সংমিশ্রণে চিকিৎসা পদ্ধতিতে প্রাথমিক পর্যায়ে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত কোনো কোনো নারীর ক্ষেত্রে আরো বেশিদিন বেঁচে থাকা সম্ভব, পরীক্ষামূলক ভাবে এমনটাই দেখা গেছে।
হরমোন থেরাপির সাথে প্যালবোসাইক্লিব ব্যবহার করা হয়েছে এমন আক্রান্ত নারীরা অন্তত ১০ মাস বেশি বেঁচেছে যারা কেবলমাত্র হরমোন থেরাপি পেয়েছে তাদের তুলনায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে এই পরীক্ষামূলক চিকিৎসার ফলাফল খুবই উৎসাহব্যঞ্জক।
কিন্তু তারা এও দেখেছেন যে, এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে রোগটি পুরোপুরি ভালো হয়না এবং সবার ক্ষেত্রে এটি কার্যকরও নয়।
প্লাসিবো নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষামূলক ক্লিনিক্যাল গবেষণায় প্যালবোসাইক্লিব প্রয়োগের সুবিধা দেখার চেষ্টা করা হয় ৫২১ জন নারীর ওপর যাদের ফ্লুভার্সট্যান্ট হরমোন থেরাপির চলছিল।
তারা অস্ট্রোজেন পজিটিভ স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিল অর্থাৎ তাদের টিউমারে এইচইআর-২ জিন ছিলনা।
ছবির উৎস, Getty Images
এই অস্ট্রোজেন পজিটিভ স্তন ক্যান্সার হল ক্যান্সারের সবচেয়ে সাধারণ অবস্থা, ক্যান্সার আক্রান্ত শতকরা অন্তত ৭০ ভাগের ক্ষেত্রেই রোগটির এই অবস্থাটি দেখা যায়।
লন্ডন ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউটের গবেষকদের তত্ত্বাবধানে ও রয়্যাল মার্সডেন এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট মিলে করা এই গবেষণায় দেখতে চাওয়া হয়েছিল, প্যালবোসাইক্লিব আক্রান্ত নারীর সামগ্রিক বেঁচে থাকায় এবং কেমোথেরাপি বিলম্বিত করায় প্রভাব ফেলে।
বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, যেসব নারীদের টিউমার আগের হরমোন থেরাপিতে ভালো সাড়া দিয়েছিল (যার সংখ্যা ৫২১ জনের মধ্যে ৪১০জন),তাদের বেঁচে থাকার সময় ১০ মাস বেড়ে গড়ে ৩৯.৭ মাসে দাড়ায়।
আর যাদের ফ্লুভার্সট্যান্ট হরমোন থেরাপির সাথে প্লাসিবো হিসেবে একটি করে নির্গুণ ওষুধ দেয়া হয়েছিল তাদের বেঁচে থাকা ২৯.৭ মাস।
অবশ্য যাদের ক্ষেত্রে আগে হরমোন থেরাপি কার্যকর হয়নি তারা বেশিদিন বেঁচে থাকতে পারেনি।
তিন বছর পর তাদের গবেষণার জন্যে আবারো যখন বিবেচনা করা হয় তখন দেখা যায় যে প্যালবোসাইক্লিব এবং হরমোন থেরাপি উভয়ই যারা ব্যবহার করেছেন তাদের বেঁচে থাকার সংখ্যাও বেশি। সেটি ৪৯.৬% যা ৪০.৮% থেকে বেশি- অর্থাৎ যাদের শুধুমাত্র ফ্লুভার্সট্যান্ট হরমোন দেয়া হয়।
এই যৌথ পদ্ধতি প্রয়োগ করা নারীদের একটি অংশের ক্ষেত্রে কেমোথেরাপি দেবার সময় ৯ মাস পর্যন্ত বিলম্বিত হয়।
আরো পড়ুন:
সবচেয়ে মূল্যবান সময়
এই গবেষণাটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন যে প্রফেসর নিকোলাস র্টানার, তার মতে, "প্যালবোসাইক্লিবের ব্যবহার স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত নারীদের জন্যে গত দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় অগ্রগতি।।"
"এটি আক্রান্ত নারীদের তাদের প্রিয়জনদের সাথে সময় কাটানোর অবকাশ বাড়িয়ে দিতে পারে। সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যাভিসারী চিকিৎসা হওয়ায় অনেকের কেমোথেরাপিই এটি বিলম্বিত করেছে। অনেকেই ফিরে গেছেন স্বাভাবিক জীবনে," বলছিলেন মি. টার্নার।
ছবির উৎস, Getty Images
প্যালবোসাইক্লিব এনআইসিই-র অনুমোদন পেয়েছে ২০১৭ সালের নভেম্বরে। তবে সাম্প্রতিককাল এটি অস্ট্রোজেন পজিটিভ স্তন ক্যান্সারের নিরাময়ের লক্ষ্যেই ব্যবহার হচ্ছে। বিশেষ করে যাদের রোগটি নির্ণয়ের পরও ছাড়িয়ে গেছে।
যুক্তরাজ্যের ক্যান্সার গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রফেসর চার্লস শ্যানটন এর ফলাফল কে 'অত্যন্ত উৎসাহ ব্যঞ্জক' বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি আরো বলেছেন, "যদিও এক্ষেত্রে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্তদের কিছু অতিরিক্ত মূল্যবান মাস বেশী লাগছে এবং একইসাথে এটি পুরোপুরি নিরাময় করেনা ও সবার ক্ষেত্রে কাজও করে না।"
"সুতরাং স্তন ক্যান্সারের দুর্বল অংশের বিষয়ে আমাদের আরো বেশি করে জানতে হবে এবং সেই পরিপ্রেক্ষিতে ভবিষ্যতের জন্যে চিকিৎসা পদ্ধতি আরো বিকশিত করতে হবে।"
ব্রেস্ট ক্যান্সার নাউ এর প্রধান নির্বাহী ডেলিথ মর্গানের মতে এই গবেষণা "রোমাঞ্চকর" হলেও আরো পরীক্ষা নিরীক্ষার দাবি রাখে।
প্রথম নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন-এ এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয় এবং তা পরিবেশন করা হয় জার্মানির মিউনিখে ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব মেডিসিন অনকোলজি কংগ্রেসে।
এ নিয়ে লেডি মর্গানের মত হলো যে, সমন্বিত চিকিৎসা পদ্ধতির সংস্কারের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল এই প্যালবোসাইক্লিব ও ফ্লুভার্সট্যান্ট হরমোন থেরাপির সমন্বিত প্রয়োগ।
প্রধান খবর
নির্বাচিত খবর
পাঠকপ্রিয় খবর
ছবির কপিরাইট