ভুয়া পাঁচ-তারকা রিভিউ কেনা-বেচা চলছে অনলাইনে
ছবির উৎস, Getty Images
বিবিসি ফাইভ লাইভ নামে রেডিও অনুষ্ঠানের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অ্যামাজনের মত নামীদামী অনলাইন শপের ক্রেতাদের লোভ দেয়া হচ্ছে যে তারা কেনা পণ্যের ইতিবাচক রিভিউ লিখলে দাম ফেরত দেওয়া হবে।
ট্রাস্ট পাইলট এবং অ্যামাজন অবশ্য বলছে, তারা কখনই ভুয়া রিভিউ তাদের সাইটে স্থান দেয় না।
অনালাইনে কেনাকাটা যত বাড়ছে, মানুষ তত বেশি নির্ভর করছে রিভিউয়ের ওপর।
শুধু ক্রেতারাই নয়, অনলাইন বিক্রেতারাও ইদানীং ইতিবাচক রিভিউয়ের জন্য উদগ্রীব।
ব্রিটেনের সরকারি পরিসংখ্যানেই বলা হচ্ছে, বছরে ২৩০০ কোটি পাউন্ডের যে ব্যবসা এদেশে হচ্ছে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে ক্রেতাদের রিভিউয়ের ওপর।
ইংল্যান্ডের সমুদ্রতীরবর্তী পর্যটক শহর ব্ল্যাকপুলের ফিশ-চিপের রেস্তোরাঁ ইয়র্কশায়ার ফিশারিজ চি শপ কয়েকটি রিভিউ ওয়েব সাইটের উঁচুর দিকে রয়েছে। দোকানের মালিক মারিয়া মেনেলাউ বিবিসিকে বলেন, গতানুগতিক বিজ্ঞাপনের জায়গা নিচেছ অনলাইন রিভিউ।
"রিভিউ পড়ে বহু খদ্দের আমাদের দোকানে আসে। আমাদের আর কোনো বিজ্ঞাপনের দরকার নেই।"
ব্রিটেনের চার্টার্ড ইনিস্টিউট অব মার্কেটিং নামে একটি সংস্থার পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ব্রিটেনের প্রাপ্তবয়স্ক ক্রেতাদের ৭৫ শতাংশই কেনাকাটার আগে অনলাইনে রিভিউ পড়ে নেয়। তবে তাদের অর্ধেকই এখন মনে করে, অনেক রিভিউ ভুয়া।
আমেরিকাতেও অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, এমনকী অ্যামাজনের মত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক ওয়েবসাইটেও কিছু কিছু পণ্যের রিভিউয়ের অর্ধেকই হয়তো ভুয়া।
আমেরিকায় অনলাইন রিভিউ বিশ্লেষণ করে এমন একটি অনলাইন ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রিভিউ-মেটা। তার কর্ণধার টমি নুনান বলেন, "বহু টাকা ছড়িয়ে বিক্রেতারা কারসাজি করার চেষ্টা করছে।"
"যেমন ধরুন আপনি খুবই সস্তা একটি ব্লু-টুথ হেডসেট বিক্রি করছেন, কিন্তু রিভিউ র্যাংকিং-এ সেটি একেবারে ওপরের দিকে নিয়ে গেলেন, ব্যাস অনেক ব্যবসা হয়ে যাবে।"
'পাঁচ তারকা আমাদের জন্য ভালো'
ভালো রিভিউয়ের বদলে বিনা পয়সায় জিনিস দেওয়ার যে প্রচলন শুরু হয়েছে, তা বন্ধ করতে ২০১৬ সালে অ্যামাজন কিছু ব্যবস্থা নেয়।
কিন্তু তারপরই পুরো ব্যাপারটি পর্দার আড়ালে চলে যায়। ফেসবুকে অনেক গ্রুপ তৈরি হয়ে যায় যেখানে অ্যামাজনের ক্রেতাদের ইতিবাচক রিভিউয়ের বদলে দাম ফেরত দেওয়ার লোভ দেয়া হয়।
বিবিসি এমন কিছু ফেসবুক গ্রুপের সন্ধান পেয়েছে যেখানে ঢোকা মাত্রই ভালো রিভিউয়ের বদলে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।
বিবিসির সাংবাদিক বেনামে তেমন একটি গ্রুপে ঢোকার পরপরই একজন প্রস্তাব দেয় "ফাইভ স্টার আমাদের জন্য ভালো...আমরা প্রতিশ্রুতি-মতো পণ্যের দাম আপনাকে ফেরত দিয়ে দেব।"
কে এই প্রস্তাব দিচ্ছে বা যে কোম্পানির হয়ে দিচ্ছে, তাদের সাথে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
ই-বে ওয়েবসাইটে দেওয়া বিজ্ঞাপনে সাড়া দিয়ে বিবিসি ট্রস্ট-পাইলট ওয়েবসাইটে ভুয়া ফাইভ-স্টার রিভিউ কিনতে সমর্থ হয়।
ট্রাস্ট পাইলট বলেছেন, ভুয়া রিভিউয়ের ব্যাপারে তারা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে। ই-বে বলেছে, রিভিউ কেনা-বেচা তাদের সাইটে নিষিদ্ধ এবং এরকম লিস্টিং তারা সরিয়ে ফেলবে।
প্রধান খবর
নির্বাচিত খবর
পাঠকপ্রিয় খবর
ছবির কপিরাইট