ভিরাট-নাভীনের হাত মেলানো এবং কোটলায় ভারতীয় সমর্থকদের থামতে বললেন কেন কোহলি?
ছবির উৎস, Getty Images
আফগানিস্তানের বিপক্ষে ভারতের ম্যাচে জয়-পরাজয় ছাপিয়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে ভিরাট কোহলির সাথে নাভীন উল হকের উষ্ণ সৌহার্দ্য বিনিময়।
মাঠে যারা ছিলেন তারা তো দেখেছেনই, টেলিভিশনের দর্শকদের জন্য ছিল এটা স্পেশাল একটা দৃশ্য। সেখানে বারবার রিপ্লে করে দেখানো হচ্ছিল।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল-আইসিসির ফেসবুক পাতায় এই ভিডিও পোস্ট করার সাথে সাথে এটা ট্রেন্ডিং হয়ে যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
ভিরাট কোহলি জনপ্রিয় হয়ে ওঠার সঙ্গেই দিল্লি ক্রমশ হয়ে ওঠে কোহলির শহর। এই দিল্লির ক্রিকেট দর্শকদের একটা বড় অংশই কোহলির জন্য খেলা দেখতে এসেছেন বলে স্টেডিয়ামের বাইরে থেকেই বোঝা যাচ্ছিল নানা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ডের লেখায়।
একটা ব্যানারে লেখা ছিল, “আজকের স্পেশাল: ম্যাঙ্গো শেক, মেড বাই কিং কোহলি”।
এই ম্যাঙ্গো বা আমের কাহিনী জানতে আপনাকে ফিরে যেতে হবে ২০২৩ এর মে মাসে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের ম্যাচে।
সেই ম্যাচে কোহলি ও নাভীন উল হকের মধ্যে একটা বাদানুবাদ হয়েছিল, যেখানে পরে জড়িয়ে পড়েছিলেন গৌতম গম্ভীরও।
সেই ম্যাচের পর কোহলি যতবার ব্যাট হাতে খারাপ করেছেন, নাভীন উল হক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটা আমের ছবি পোস্ট করতেন।
যদিও তিনি কোহলির নাম উল্লেখ করতেন না, কিন্তু কোহলির আউট হওয়ার সময়ের সাথে নাভীনের আমের ছবি পোস্ট করার সময় মিলে যেত বারবার।
মে মাসের সেই ম্যাচে নাভীন যখন ব্যাট করতে নেমেছিলেন, কোহলি বলেছিলেন তার বোলারদের নাভীনকে বাউন্সার দিতে যেহেতু নাভীন বোলার, ব্যাট চালাতে তেমন পারদর্শী নন।
নাভীন এটা শুনে তেড়ে এসেছিলেন কোহলির দিকে।
পরে ম্যাচের শেষে হাত মেলানোর সময়েও কোহলি ও নাভীনের মধ্যে বাদানুবাদ হয়েছিল।
এটা ভোলেনি দিল্লির দর্শকরা।
এই নিবন্ধে Xএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত X কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।
End of X post
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
তারা মনে করিয়ে দিয়েছেন বারবার, বিশেষত নাভীন যখন আফগানিস্তান ইনিংসের শেষদিকে ব্যাট হাতে নামেন, গোটা স্টেডিয়ামে শোনা যায় ‘কোহলি, কোহলি’ আওয়াজ।
নাভিন উল হক বল করতে আসার পরেও একইভাবে প্রতিক্রিয়া জানায় কোহলির সমর্থকরা, কোহলির শহর বলে কথা।
ভারতের প্রথম উইকেট ইশান কিশান আউট হওয়ার পর ভিরাট কোহলি যখন ব্যাট করতে নামেন, আফগানিস্তানের অধিনায়ক হাশমতুল্লাহ শহীদী যেন জনতার দাবি টের পেয়েই নাভীনের হাতে বল তুলে দেন।
কিন্তু কোহলি আর নাভীন আগুনে ঘি না ঢেলে সৌহার্দ্য বিনিময় করলেন, হাত মেলালেন, একে অপরের পিঠ চাপড়ে দিলেন, রান তাড়ার একটা সময়ে কোহলিও দর্শকের উদ্দেশ্যে হাত দেখিয়ে তাদের নিরস্ত করার চেষ্টা করেন।
ভিরাট-নাভীনের এই ছয় মাসের দ্বন্দ্বে আর নতুন করে কোনও মসলা যোগ হলো না।
ম্যাচ শেষে বার্তা সংস্থা পিটিআইকে নাভীন বলেন, “ঘরের মাঠে দর্শকরা ঘরের ক্রিকেটারদের জন্য চিয়ার করবেন এটাই স্বাভাবিক। কোহলি ভালো মানুষ, ভালো ক্রিকেটার, আমরা হাত মিলিয়েছি”।
মাঠে যা হয়েছিল তা মাঠেই থাকুক বলছেন নাভীন উল হক।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের সেই বাদানুবাদের আরেক চরিত্র গৌতম গম্ভীরও গত রাতের ঘটনার পর বলেন, “প্রত্যেক ক্রিকেটারের নিজের অধিকার ও পছন্দ-অপছন্দ বলার অধিকার আছে এবং মাঠে যেটা হয়েছে সেটা মাঠে রাখাই শ্রেয়।”
গৌতম গম্ভীর নাভীনের আইপিএল দল লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসের কোচ।
ছবির উৎস, Getty Images
রোহিত শর্মার রেকর্ডের রাত
রোহিত শর্মার জন্য ভিরাট কোহলির মাঠ শতকে ফেরার উপলক্ষ্য হয়ে এসেছে। শেষ কয়েক ম্যাচেই রোহিতের ব্যাটে সেঞ্চুরি এল এল করেও আসছিল না। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে শেষ সেঞ্চুরি করেছেন রোহিত, এরপর করেছেন চারটি ফিফটি দশ ম্যাচে।
রোহিত শর্মা আফগানিস্তানের বিপক্ষে শতক দিয়ে সাচিন টেন্ডুলকারকে ছাড়িয়ে গেছেন, বিশ্বকাপে টেন্ডুলকারের শতক ছিল ৬টি, এখন রোহিতের সাতটি।
বিশ্বকাপে মাত্র ১৯ ইনিংস খেলে সাতটি সেঞ্চুরি রোহিত শর্মার।
তিনি টেন্ডুলকারের বিশ্বকাপে দ্রুততম ১০০০ রান স্পর্শ করার রেকর্ডও ভেঙ্গেছেন গত রাতেই।
রোহিত শর্মা গত রাতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ছক্কার রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন। এখন ৫৫৬ ছক্কার মালিক তিনি, এর আগে ৫৫৩ ছক্কা নিয়ে এক নম্বরে ছিলেন ‘ইউনিভার্সাল বস’ নামে পরিচিত ক্যারিবিয়ান ক্রিস গেইল।
পাকিস্তানের খ্যাতনামা হার্ড হিটার শহীদ আফ্রিদি এই তালিকায় তিন নম্বরে আছেন ৪৭৬ ছক্কা নিয়ে।
রোহিত শর্মা এখন বিশ্বকাপে ভারতের হয়ে দ্রুততম শতকের মালিক, গত রাতে রোহিত শর্মা ৬৩ বলে সেঞ্চুরি হাঁকান, এর আগে এই রেকর্ড ছিল ভিরেন্দর সেহওয়াগের, তিনি ২০০৭ সালে বারমুডার বিপক্ষে ৮১ বলে শতক হাঁকিয়েছিলেন।
ওয়ানডে ক্রিকেটে এখন রোহিত শর্মার মোট শতকের সংখ্যা ৩১, রোহিতের ওপরে আছেন কেবল সাচিন টেন্ডুলকার (৪৯) ও ভিরাট কোহলি (৪৭)।
ভারতের পরের ম্যাচ পাকিস্তানের বিপক্ষে, আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১৪ই অক্টোবর মুখোমুখি হবে দুই দল।
এই ম্যাচের টিকিট এখন কালোবাজারে অনেক গুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
প্রধান খবর
নির্বাচিত খবর
পাঠকপ্রিয় খবর
ছবির কপিরাইট