ইসরায়েলের হামলায় গাজায় আল-জাজিরার পাঁচ সাংবাদিক নিহত

ছবির উৎস, Al Jazeera

ছবির ক্যাপশান, আনাস আল-শরিফ উত্তর গাজার খবর ব্যাপকভাবে কাভার করেছিলেন বলে আল-জাজিরা জানিয়েছে
পড়ার সময়: ৩ মিনিট

আল-জাজিরা জানিয়েছে, গাজা শহরের আল-শিফা হাসপাতালে ইসরায়েলের বিমান হামলায় তাদের পাঁচ সাংবাদিক নিহত হয়েছে।

এরা হলেন- সংবাদদাতা আনাস আল-শরিফ ও মোহাম্মেদ কুরেইকেহ, ক্যামেরাম্যান ইব্রাহিম জাহের, মোহাম্মেদ নৌফাল এবং মোয়ামেন আলিয়া।

হামলার সময় তারা হাসপাতালের মূল গেইটের কাছে সাংবাদিকদের জন্য তৈরি করা একটি তাঁবুতে অবস্থান করছিলেন বলে আল-জাজিরার খবরে বলা হয়েছে।

তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে "পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডটি ছিলো প্রেস ফ্রিডমের ওপর আরেকটি স্পষ্ট ও পূর্বপরিকল্পিত হামলা"।

হামলার কিছুক্ষণ পরই আইডিএফ হামলার খবর নিশ্চিত করে বলেছে, 'আনাস আল-শরিফ হামাসের সন্ত্রাসী সেলের প্রধান হিসেবে কাজ করছিলেন'।

নিহত অন্য সাংবাদিকদের বিষয়ে আইডিএফ কোনো মন্তব্য করেনি।

এই হামলায় সব মিলিয়ে মোট সাত জন নিহত হয়েছে আল-জাজিরার খবরে বলা হয়েছে। প্রথমে তারা তাদের চারজন কর্মীর মৃত্যুর কথা বললেও পরে মোট ৫ জন নিহত হয়েছে বলে জানায়।

ছবির উৎস, Anadolu via Getty Images

ছবির ক্যাপশান, নিহতদের মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে

আল-জাজিরার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মোহাম্মেদ মোয়াওয়াদ বিবিসিকে বলেছেন, আল-শরিফ একজন স্বীকৃত সাংবাদিক ছিলেন, যিনি ছিলেন গাজায় কি ঘটছে তা বিশ্বকে জানানোর 'একমাত্র কণ্ঠস্বর'।

যুদ্ধের পুরোটা সময় জুড়ে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের গাজায় মুক্তভাবে সাংবাদিকতা করার অনুমতি দেয়নি।

"তারা তাদের তাঁবুতেই হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিলেন। তারা রণাঙ্গন থেকে কাভার করছিলেন না," মি. মোয়াওয়াদ বলেছেন।

"বাস্তবতা হলো ইসরায়েলি সরকার গাজার ভেতর থেকে যে কোনো চ্যানেলের সংবাদ পরিবেশন বন্ধ করে দিতে চায়," তিনি নিউজরুম প্রোগ্রামে বলেছেন।

"এটা এমন কিছু যা আমি আধুনিক ইতিহাসে এর আগে আর দেখিনি"।

আল-শরিফ (২৮) মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগেই সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ পোস্ট দিয়েছিলেন। এতে তিনি গাজা শহরের মধ্যে ইসরায়েলের ব্যাপক বোমাবর্ষণের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন।

একটি পোস্ট পাবলিশ করা হয়েছে তার মৃত্যুর পরে। ধারণা করা হচ্ছে এটি আগেই লেখা ছিলো এবং তার কোনো বন্ধু পাবলিশ করেছে।

ছবির উৎস, OMAR AL-QATTAA/AFP via Getty Images

ছবির ক্যাপশান, গাজায় এর আগেও সাংবাদিক হত্যার ঘটনা ঘটেছে। সাংবাদিক হুসাম শাবাত ও মুহাম্মদ মনসৌরের হত্যাকাণ্ডের পর ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের প্রতিবাদ।
স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

হামলার পরের দুটি গ্রাফিক ভিডিওতে লোকজনকে মৃতদেহগুলো বহন করে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। বিবিসি ভিডিওগুলোর সত্যতা যাচাই করেছে।

এর মধ্যে একজন মোহাম্মেদ কুরেইকেহর নাম বলছিলেন। আর একজন মিডিয়া ভেস্ট পরিহিত একজন বলছিলেন মৃতদেহগুলোর মধ্যে একটি আনাস আল-শরিফের।

আইডিএফের বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে, আল-শরিফ সাংবাদিকদের ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলো এবং তিনি "ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিক ও আইডিএফ সৈন্যদের লক্ষ্য করে রকেট হামলার জন্য দায়ী"।

'সন্ত্রাসীদের জন্য প্রশিক্ষণ কোর্সসহ তার সামরিক যোগসূত্রের' বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য থাকার দাবি করেছে আইডিএফ।

"হামলার আগে বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ছিলো সুনির্দিষ্ট যুদ্ধাস্ত্র, আকাশ নজরদারি এবং অতিরিক্ত গোয়েন্দা কার্যক্রম," বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

গত মাসে আল-জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্ক, জাতিসংঘ ও কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট তিনটি আলাদা বিবৃতিতে আল-শরিফের সুরক্ষার আহবান জানিয়েছিলো।

আল-জাজিরা গাজা উপত্যকায় তাদের সংবাদদাতা ও সাংবাদিকদের টার্গেট করে প্রচারণার অভিযোগ করেছিলো আইডিএফের বিরুদ্ধে।

তারা আরও বলেছিলো যে মাঠে তাদের সাংবাদিকদের ওপর হামলাকে জাস্টিফাই করার জন্যই এ ধরনের বিপজ্জনক উস্কানি দেয়া হচ্ছে। কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় সামরিক অভিযান শুরুর পর এ পর্যন্ত ১৮৬ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছে।