বৃষ্টি, তাপপ্রবাহ, ঘূর্ণিঝড়, কালবৈশাখী - এপ্রিলে কেমন থাকবে বাংলাদেশের আবহাওয়া?
ছবির উৎস, Getty Images
কয়েকদিন ধরেই দেশের বিভিন্ন স্থানে তাপপ্রবাহ বইছে। এমনকি আজও দেশের ১১টি জেলার ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তবে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এসব এলাকা থেকে তাপপ্রবাহ কমে যেতে পারে বলে জানিয়েছে বলে আবহাওয়া অফিস।
বুধবার দোসরা এপ্রিল আবহাওয়া অধিদপ্তরের সকালের পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়।
সেখানে বলা হয়, বর্তমানে রাজশাহী বিভাগের আটটি জেলার ওপর দিয়েই মৃদু তাপপ্রবাহ বইছে। বাকি তিন জেলা হলো– দিনাজপুর, নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর এবং চুয়াডাঙ্গা।
এসব জেলা থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টায় তাপপ্রবাহ কমে যাওয়ার সম্ভাবনার কারণ, ওইসব এলাকায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা।
আবহাওয়াবিদ শাহনাজ সুলতানা বিবিসিকে জানান, সিলেটের কিছু কিছু স্থানে মঙ্গলবার সারাদিন ও বুধবার ভোর থেকে বৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়া, রংপুর ও দিনাজপুরের দিকেও বৃষ্টি শুরু হয়েছে।
সেই বৃষ্টি প্রভাবেই দেশের অন্যান্য স্থান থেকেও তাপপ্রবাহ কমবে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদেরা।
ছবির উৎস, Getty Images
কবে কমবে তাপপ্রবাহ?
আবহাওয়া অফিস বলছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বিদ্যুৎ চমকানো বা বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
এ সময়ে দেশের অন্যান্য স্থানে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
তবে আগামীকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সকাল নয়টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।
পরদিন শুক্রবার সকাল নয়টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বিদ্যুৎ চমকানো বা বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির কথা বলা আছে।
এসময় দেশের অন্য জায়গার আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।
ছবির উৎস, Getty Images
তার পরের দুই দিনও ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেটের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বিদ্যুৎ চমকানো বা বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে, এমনটাই বলা হয়েছে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে।
আবহাওয়াবিদ মিজ সুলতানা বলছিলেন, পাঁচ বা ছয়ই এপ্রিল থেকে বৃষ্টি কিছুটা বাড়তে পারে। আর বৃষ্টি বেড়ে গেলে তাপমাত্রা সাধারণত কমে আসে।
এমনিতে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে রাজশাহীতে, ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সবচেয়ে কম তাপমাত্রা ছিল রংপুরের ডিমলায়, ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আর ওই সময়ে সারা দেশের মধ্যে একমাত্র সিলেটেই বৃষ্টিপাত হয়েছে ৪০ মিলিমিটার।
এছাড়া, আজ বুধবার সকালেও তিন ঘণ্টার মাঝে পাঁচ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে সিলেটে।
আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বুধবার দুপুরে বিবিসিকে বলেছেন, আগামী ছয়ই এপ্রিল থেকে তাপপ্রবাহ কমে যাবে। তিনিও এর কারণ হিসাবে বৃষ্টির কথা বলেন।
ছবির উৎস, Getty Images
'এপ্রিলে আরো এক বা দুইটি তীব্র তাপপ্রবাহ আসছে'
চলমান তাপপ্রবাহ কবে নাগাদ কমতে পারে, আবহাওয়া অফিস সে ব্যাপারে ধারণা দিয়েছে।
তবে আবহাওয়া অফিসের দেয়া এপ্রিল মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে এও বলা হয়েছে, এ মাসে দেশে দুই থেকে চারটি মৃদু বা মাঝারি এবং এক থেকে দুইটি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।
বাতাসে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক নয় ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম হলে, সেটিকে মৃদু তাপপ্রবাহ ধরে থাকেন আবহাওয়াবিদরা।
এছাড়া, তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক নয় ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে হলে মাঝারি এবং ৪০ থেকে ৪১ দশমিক নয় ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে হলে, সেটিকে তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়ে থাকে।
আর তাপমাত্রা যদি ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে উঠে যায়, তখন তাকে বলা হয় অতি তীব্র তাপপ্রবাহ।
বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার ওপর দিয়ে এখন মৃদু ও মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
কারণ গত ২৪ ঘণ্টায় দেখা গেছে যে শুধুমাত্র রাজশাহী জেলার তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
End of গরম নিয়ে আরো পড়তে পারেন:
বাকি সব জেলার তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে ছিল। আর কিছু কিছু জেলার তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপর উঠেছে।
এছাড়াও, চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুইটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার মাঝে একটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।
আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে এটি হতে পারে।
এছাড়া, এই মাসে দেশে পাঁচ থেকে সাত দিন বজ্র ও শিলাবৃষ্টিসহ হালকা বা মাঝারি ধরণের এবং এক থেকে তিন দিন তীব্র কালবৈশাখী ঝড় হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
কালবৈশাখী ঝড় এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হতে পারে বলেও জানান তিনি।
দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাসে আরও বলা আছে যে, এপ্রিল মাসে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে।
আর, বৃষ্টিপাতের বেলায় এই মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
প্রধান খবর
নির্বাচিত খবর
পাঠকপ্রিয় খবর
ছবির কপিরাইট