তেহরানে এখনো যারা রয়ে গেছেন, কীভাবে দিন কাটছে তাদের
ছবির উৎস, Xinhua/Shutterstock
- Author, কাসরা নাজি
- Role, বিবিসি নিউজ ফার্সি, লন্ডন
- পড়ার সময়: ৪ মিনিট
তেহরান থেকে হোয়াটস্অ্যাপ কলে আমার বোনের গলা শুনে বোঝাই যাচ্ছিল যে সে কতটা ভয়ে আর মানসিক চাপে আছে। যদিও হোয়াটসঅ্যাপ কলটার কথা মাঝে মাঝেই অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছিল।
কেটেও যাচ্ছিল হোয়াটসঅ্যাপ কানেকশানটা, তবুও আশ্চর্যজনকভাবে এখনো মাঝে মাঝে ইন্টারনেটটা কাজ করছে।
আমি যেহেতু লন্ডনে বিবিসির সাংবাদিক, তাই আমার বোন স্পষ্ট করে বুঝে নিতে চাইছিল।
"কী হতে চলেছে? আমরা কী করব?" জানতে চাইছিল আমার বোন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের বাসিন্দাদের সরে যেতে বলেছেন।
বোন বোঝার চেষ্টা করছিল যে "উনি কি সিরিয়াস?"
গত বৃহস্পতিবার রাত থেকেই ইসরায়েলি বিমানগুলো তেহরানের আকাশে এসে বারে বারে বোমা বর্ষণ করে যাচ্ছে। রাজধানীর ওপর দিয়ে নানা দিকে উড়ে বেড়াচ্ছে ওই বিমানগুলো। বিমান বিধ্বংসী গুলি চলছে সেগুলোর দিকে। তবে খুব একটা কাজ হচ্ছে না তাতে।
End of বিবিসি বাংলায় আরও পড়তে পারেন
ছবির উৎস, Getty Images
'জানালা দিয়েই আমার বোন স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে আকাশ যুদ্ধ'
একটা উঁচু ভবনের ওপরের তলায় তার ফ্ল্যাটের জানালা দিয়েই আমার বোন স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে আকাশ যুদ্ধ। এইসব দৃশ্য দেখে ওর মানসিক চাপ কমার কথা নয়।
আমার বোন যে এলাকায় থাকে, কয়েক কিলোমিটার জুড়ে থাকা ওই অঞ্চলের বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। তবে আমার বোন ওখানেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আমার বোন বলছিল যে, ও যতদূর জানে যে ওদের বাড়ির কাছাকাছি কোনো সামরিক স্থাপনা নেই।
তবুও ওর একটা চিন্তা আছে, কারণ ওই এলাকায় একটা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান আছে, যেটার মালিকানা রেভল্যুশনারি গার্ডস-এর বলেই আমার বোনের বিশ্বাস। সেটা একটা লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। তবে আমার বোন এটা জানে না যে, ওই সংস্থাটি আসলে কীসের ব্যবসা করে।
এরকম বহু মানুষই জানেন না যে তাদের প্রতিবেশীরা কারা বা তাদের এলাকায় কোনো সামরিক স্থাপনা রয়েছে কি না। এর কারণ হলো রেভল্যুশনারি গার্ডস-এর কাজকর্ম লুকানো আস্তানা থেকে খুবই গোপনে চালানো হয়ে থাকে।
ছবির উৎস, EPA
বিদ্যুৎ-জল আছে, তবে খাবারের ঘাটতি হচ্ছে
রাজধানীর অনেক এলাকাতেই এখনো বিদ্যুৎ আর জল পাওয়া যাচ্ছে, তবে খাবারের যোগানে ঘাটতি থাকছে।
অনেক দোকান বন্ধ হয়ে গেছে, আরও বহু দোকানও ঝাঁপ ফেলতে শুরু করেছে। কিছু পাউরুটির বেকারিগুলোও বন্ধ হচ্ছে। কিছু বেকারি বন্ধ হয়েছে সেগুলোর মালিকরা পালিয়ে গেছে বলে, আর অন্য কিছু কারখানা বন্ধ হচ্ছে ময়দার অভাবে।
কয়েক হাজার মানুষ, সংখ্যাটা লাখও হতে পারে। তারা শহর ছেড়ে চলে গেলেও আমার বোন অবশ্য শহর ছেড়ে যেতে রাজি নয়। কারণ ওর যাওয়ার মতো জায়গা নেই।
রাস্তায় যানজট আর পেট্রলের অভাব সত্ত্বেও বহু বাসিন্দা গত কয়েকদিনে তেহরান থেকে চলে গেছেন।
শহরের যেসব রাস্তায় একটা সময়ে ব্যাপক যানজট থাকত, এখন সেখানে এক অদ্ভুত নীরবতা।
যারা এখনো রয়ে গেছেন, তারাও হামলার ভয়ে খুব একটা বেরচ্ছেন না।
সর্বশেষ পাওয়া খবরাখবরে জানা যাচ্ছে যে পেট্রল স্টেশনগুলোতে যে লম্বা লাইন চোখে পড়ছিল, সেগুলোয় ভিড় অনেকটাই কমে এসেছে। রাজধানী শহর থেকে বাইরে যাওয়ার রাস্তাগুলোতে যানজটও কমে এসেছে।
ছবির উৎস, Getty Images
রয়েছে তেজস্ক্রিয় দূষণের ভয়ও
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
যে বাসিন্দারা ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোর কাছাকাছি থাকেন, তাদের তেজস্ক্রিয় দূষণের বাড়তি ভয় রয়েছে। ওইসব কেন্দ্রগুলোয় সম্প্রতি বারে বারেই হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
সারা বিশ্বে পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোর ওপরে যারা নজরদারি চালায়, তারা বলছে গত শুক্রবার যে দুটি পারমাণবিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে, তার আশপাশের এলাকায় তেজস্ক্রিয়তায় কোনো বদল ঘটেনি।
মানুষ জানতে চাইছেন এর শেষ কবে হবে, আর কতদিন চলবে এই অবস্থা?
বিদেশ থেকে পরিচালিত ফার্সি ভাষার টিভি চ্যানেলগুলোর ওপরই মানুষ খবরাখবরের জন্য ভরসা করছেন।
তাদের কাছে বিবিসির ফার্সি বিভাগের টিভি এবং ওয়েবসাইট খবর একটা মূল উৎস হয়ে উঠেছে। ইরানের অভ্যন্তর থেকে ওয়েবসাইটের পাঠক সংখ্যা একরাতের মধ্যেই দ্বিগুণ হয়ে গেছে, যদিও বেশিরভাগ সময়েই ইন্টারনেটের গতি ভীষণ কম থাকছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে আত্মসমর্পণ করতে বলেছেন, কিন্তু ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনি ঘোষণা করেছেন যে, ইরান আত্মসমর্পণ করবে না।
ইরানের বর্তমান শাসকের প্রতি সহানুভূতি আছে খুব কম মানুষেরই। কিন্তু বহু মানুষ এটা মনে করেন যে, এই শাসকরা যদি খুব বেশি অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে, তাহলে আরও বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে, অরাজকতা তৈরি হবে।
প্রধান খবর
নির্বাচিত খবর
পাঠকপ্রিয় খবর
ছবির কপিরাইট