কাঠের নৌকায় ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছেছে রোহিঙ্গাদের একটি দল
ছবির উৎস, Reuters
নষ্ট ইঞ্জিন নিয়ে কাঠের একটি নৌকায় একমাস ধরে সাগরে ভাসার পরে অবশেষে ইন্দোনেশিয়ায় পশ্চিম উপকূলে নেমেছে রোহিঙ্গাদের একটি দল।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সময় তাদের চরম ক্ষুধার্ত এবং দুর্বল অবস্থায় দেখা গেছে। অন্তত তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই দলের সবাই পুরুষ।
সাগরে যে দেড়শ জনের বেশি ভাসমান অবস্থায় রয়েছে, এই দলটি তাদের অংশ কিনা, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশের পুলিশের মুখপাত্র উইনার্দি এএফপি বার্তা সংস্থাকে বলেছেন, ওই কাঠের নৌকায় ৫৭ জন রোহিঙ্গা ছিল।
‘’নৌকাটির ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে গেছে। বাতাসে সেটি ভেসে ভেসে আচেহ বেসারের লাডং গ্রামের কাছে উপকূলে এসে ভিড়েছে,’’ তিনি বলেছেন।
‘’তারা জানিয়েছে, তারা একমাস ধরে এই নৌকায় করে সাগরে ভাসছে।‘’
স্থানীয় একজন অভিবাসন কর্মকর্তা এএফপিকে বলেছেন, সরকারি একটি শিবিরে তাদের সাময়িকভাবে আশ্রয় দেয়া হয়েছে।
অন্যান্য গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে যে, আচেহ প্রদেশে ৫৮ জন রোহিঙ্গা পুরুষ এসেছে।
তবে এই রোহিঙ্গারা কোথা থেকে এসেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
গত কিছুদিন ধরেই জ্বালানিহীন অবস্থায় একটি ছোট মাছ ধরার নৌকায় ১৫০ জন রোহিঙ্গা আন্দামান সাগরে ভাসমান অবস্থায় রয়েছে।
গত সপ্তাহে এই রোহিঙ্গাদের সহায়তা করার জন্য আশেপাশের দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। দুই সপ্তাহ আগে তারা বাংলাদেশ থেকে রওনা দিয়েছিল বলে জানা যাচ্ছে।
ছবির উৎস, Reuters
স্যাটেলাইট ফোনের মাধ্যমে ওই নৌকা থাকা লোকজনের সাথে কথা বলার পর জানা গেছে, এর মধ্যেই শিশুসহ বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। নৌকায় খাবার ও পানি ফুরিয়ে গেছে।
নৌকাটি ডুবে যেতে পারে বলে রবিবার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।
মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর গণহত্যার মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গা ২০১৭ সালে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
শীতকালে সাগর শান্ত থাকায় তারা কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাগর পথে অন্য দেশে চলে যাওয়ার চেষ্টা করে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর মানবেতর অবস্থার কারণে এই প্রবণতা আরও বাড়ছে।
সেই সঙ্গে মিয়ানমারে যে রোহিঙ্গারা রয়েছে, তারাও সেদেশ থেকে সাগর পথে অন্য দেশে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছে। গত দুই মাসে এরকম অন্তত পাঁচটি নৌকা সাগর পথে রওনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রধান খবর
নির্বাচিত খবর
পাঠকপ্রিয় খবর
ছবির কপিরাইট