আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
বিশ্বের সেরা ফুটবল তারকারা পেলেকে নিয়ে যা বললেন
“রাজা” পেলে “সবকিছু বদলে দেন”, ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার পেলের প্রতি তার শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছেন ব্রাজিলের ফরওয়ার্ড নেইমার।
সর্বকালের সেরা ফুটবল খেলোয়াড় বলে যাঁকে মনে করা হয় সেই পেলের মৃত্যুতে সামাজিক মাধ্যমে তাদের শোক বার্তা ও শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাচ্ছেন বর্তমান ও সাবেক বহু খেলোয়াড়।
তাঁর ম্যাজিক থাকবে: নেইমার
“পেলের আগে ফুটবল ছিল শুধুই একটা খেলা,” নেইমার মন্তব্য করেছেন ইনস্টাগ্রামে।
“পেলে সবকিছু বদলে দিয়েছেন। ফুটবলকে তিনি শিল্পে উন্নীত করেছেন, একে বিনোদনের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। তিনি হয়ে উঠেছেন দরিদ্র ও কৃষ্ণাঙ্গ জনগণের কণ্ঠ।”
নেইমার আরও বলেছেন: “তিনি ব্রাজিলকে সবার সামনে নিয়ে এসেছেন। ফুটবল আর ব্রাজিলের মর্যাদা বিশ্বে বেড়েছে তাঁরই হাত ধরে। রাজাকে সালাম! তিনি নেই, কিন্তু তাঁর ম্যাজিক থাকবে।”
প্যারিস স্যঁ জারমেইন দলে তার সহ খেলোয়াড় এবং ফ্রান্সের স্ট্রাইকার কিলিয়ান এমবাপেও পেলেকে বর্ণনা করেছেন “ফুটবলের রাজা” হিসাবে। তিনি আরও যোগ করেছেন “তার লেগাসি কখনও ভোলা যাবে না”।
একুশ বছরের ফুটবল কেরিয়ারে পেলে ১,৩৬৩টি ম্যাচে নেমেছেন এবং গোল দিয়েছেন ১,২৮২টি, যা বিশ্ব রেকর্ড। এর মধ্যে নিজের দেশের হয়ে ৯৯টি ম্যাচে খেলেছেন তিনি, যেখানে তাঁর গোলের সংখ্যা ৭৭।
তিনি একমাত্র ফুটবলার যিনি বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের গৌরব অর্জন করেছেন তিন বার- ১৯৫৮, ১৯৬২ এবং ১৯৭০ সালে। ২০০০ সালে পেলে ফিফার শতাব্দী সেরা ফুটবলারের খেতাব পান।
এক এবং অদ্বিতীয়- সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ: রোনাল্ডো
পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো বলেছেন: “এই মুহূর্তে গোটা ফুটবল দুনিয়া যেভাবে শোকে মূহ্যমান হয়ে গেছে সেই শোকের মাত্রা চিরকালীন রাজা পেলেকে শুধু বিদায় জানানোর মধ্যে দিয়ে প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
“আমার প্রতি সবসময় তিনি অনেক মমতা দেখিয়েছেন। যখনই আমরা কোন মুহূর্ত শেয়ার করেছি তাঁর প্রতিও একইধরনের মমতা আমি অনুভব করেছি- এমনকী যখন আমরা কাছাকাছি থাকিনি তখনও।
“আমরা যারা ফুটবল ভালবাসি আমাদের প্রত্যেকের হৃদয়ে তার স্মৃতি চিরকাল স্থায়ী হবে।”
বিশ্বকাপ জয়ী সাবেক ব্রাজিল স্ট্রাইকার রোনাল্ডো বলেছেন: “তিনি অনন্য, মহান। কুশলী। সৃষ্টিশীল। নিখুঁত। অতুলনীয়। তিনি কখনও শীর্ষ স্থান থেকে সরেননি। সেখানে থেকেই আজ তিনি চির বিদায় নিলেন। ফুটবলের রাজা তিনি- এক এবং অদ্বিতীয়। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ।”
চুম্বকের মত আকর্ষণী শক্তি: ইনফানন্তিনো
আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার প্রেসিডেন্ট জিয়ানি ইনফানন্তিনো বলেছেন “আজকের দিনটি ফুটবলের জন্য সত্যিকার অর্থে বেদনার” এবং তার “হৃদয় ভারাক্রান্ত”। পেলেকে তিনি বর্ণনা করেছেন “এ শতাব্দীর সেরা অ্যাথলেট” হিসাবে।
তিনি আরও বলেছেন: “তাঁর উপস্থিতিতে চুম্বকের মত আকর্ষণী শক্তি ছিল। তিনি আপনার পাশে থাকলে মনে হতো সারা বিশ্ব থমকে গেছে। আজ সারা বিশ্ব পেলের বিদায়ে শোকাহত; তিনি ছিলেন সর্বকালের সবসেরা ফুটবলার।”
ব্রাজিল টিমের বর্তমান যেসব খেলোয়াড় পেলের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তাদের মধ্যে রিচার্লিসন বলেছেন পেলে ছিলেন ফুটবলের “সবচেয়ে চমৎকার একটা অধ্যায়, যিনি এই খেলার ইতিহাসকে চিরতরে বদলে দিয়েছেন।”
তিনি আরও বলেছেন: “আপনি সবসময়েই শ্রেষ্ঠত্বের আসনে থাকবেন কারণ ৬০ বছর আগে সব প্রতিকূলতার মধ্যেও আপনি যা অর্জন করেছিলেন, খুব মুষ্টিমেয় আজ তা করতে পেরেছে।”
যাদুকরী ফুটবলার
ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জয়ী সার জেফ্রি হার্স্ট বলেছেন “আমি যাদের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলেছি, তাদের মধ্যে নিঃসন্দেহে সেরা প্রতিপক্ষ ছিলেন পেলে। একই পিচে তার সাথে ম্যাচ লড়তে পেরে নিজেকে আমি সৌভাগ্যবান মনে করছি।”
সার ববি চার্লটন, যিনি পেলের সাথে ছিলেন ১৯৬৬র বিশ্বকাপ জয়ের ভাগীদার তিনি পেলের বর্ণনায় বলেছেন তিনি “সত্যিকার একজন যাদুকরী ফুটবলার এবং অসাধারণ একজন মানুষ।”
পেলের সাবেক ফুটবল ক্লাব সান্তোস একটি মুকুটের ছবি পোস্ট করে লিখেছে “চিরন্তন”।
ব্রাজিলের সাবেক ডিফেন্ডার ও বিশ্বকাপ জয়ী কাফু বলেছেন: “পেলে মারা গেছেন- এ খবর সঠিক নয়...পেলের মৃত্যু নেই। পেলে কখনও আমাদের ছেড়ে যাবেন না। পেলের অস্তিত্ব কখনও বিলীন হতে পারে না। পেলে চিরন্তন, পেলে রাজা, পেলে অদ্বিতীয়...তিনি শুধু কিছুদিনের জন্য বিশ্রাম নিতে গেছেন।”
ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন লন্ডনে ওয়েম্বলির খিলান ব্রাজিলের রংএ রাঙিয়ে দেবার ঘোষণা দিয়ে বলেছে: “যারা ফুটবলকে ভালবাসেন তারা প্রত্যেকেই পেলেকে ভালবাসেন।”
নিউ ইয়র্ক কসমস যেখানে পেলে ১৯৭৭ সালে তার ফুটবল কেরিয়ারের ইতি টেনেছিলেন তারা বলেছে: “পেলে আমেরিকার ক্রীড়া দুনিয়ায় এক বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন।”
ব্রাজিলের ফুটবল কনফেডারেশন বলেছে পেলে ছিলেন “সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ক্রীড়া ব্যক্তিত্বের চেয়েও ঊর্ধ্বে”। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে: “রাজা আমাদের এক নতুন ব্রাজিল উপহার দিয়েছিলেন এবং এজন্য তাঁর কাছে আমরা চিরঋণী।”
পেলের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে বলা হয়েছে “তিনি সব সমস্যার সমাধান মনে করতেন একটাই – তা হল ভালবাসা – আর সেটাই তিনি সর্বত্র ছড়িয়ে দিয়ে গেছেন।”