চীনের প্রেসিডেন্ট পদে ঐতিহাসিক তৃতীয় মেয়াদ শুরু করলেন শি জিনপিং
ছবির উৎস, Getty Images
- Author, স্টিভেন ম্যাকডোনেল এবং জোয়েল গুইনটো
- Role, সংবাদদাতা, বেইজিং এবং সিঙ্গাপুর
চীনের নেতা শি জিনপিং দেশটির রাবার-স্টাম্প পার্লামেন্ট থেকে তৃতীয় মেয়াদের জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন।
৬৯ বছর বয়সী শি জিনপিং চীনে গত কয়েকটি প্রজন্মের মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতায় পরিণত হয়েছেন ক্ষমতা সংহত করার মাধ্যমে।
চীনের শাসন ব্যবস্থায় প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা আলংকারিক। কিন্তু মিস্টার শি’র আসল ক্ষমতার উৎস অন্য জায়গায়: তিনি কমিউনিস্ট পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি, আবার একই সঙ্গে সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশন (সিএমসি) বা কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের চেয়ারম্যান।
গত অক্টোবর মাসে কমিউনিস্ট পার্টির কংগ্রেসে তিনি আবার এই দুই পদে অধিষ্ঠিত হন।
শি জিনপিং-কে যে তৃতীয় মেয়াদে আবার প্রেসিডেন্ট করা হবে, সেটা মোটামুটি ধরেই নেয়া হয়েছিল। আগামী কয়েকদিনে যে নতুন প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রীবর্গকে নিয়োগ করা হবে, সেটার গুরুত্বই বরং বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর অনুগত ব্যক্তিরাই এসব পদে নিয়োগ পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদের মধ্যে আছেন লি কিয়াঙ। তিনি প্রেসিডেন্ট শি’র পর দ্বিতীয় ক্ষমতাধর নেতা হবেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
শুক্রবার মিস্টার শি গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের চেয়ারম্যান পদে আরেক মেয়াদের জন্য নিযুক্ত হন। চীনে দুটি কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশন (সিএমসি) আছে। এর একটি দলীয় পদ, আরেকটি রাষ্ট্রীয় পদ। কিন্তু সাধারণত একই ব্যক্তিই দুই পদে থাকেন।
চীন যখন তার জিরো-কোভিড নীতি পরিত্যাগ করে সবকিছু খুলে দিচ্ছে, তখন শি জিনপিং তার শাসনক্ষমতা আরও সংহত করছেন। চীনে এই জিরো কোভিড নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল।
চীনে জন্মহারও কমছে, যা দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য হুমকি তৈরি করছে।
এদিকে ওয়াশিংটন এবং বেইজিং এর সম্পর্কেও চলছে টানাপোড়ন। চীন গুপ্তচর বৃত্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে বেলুন পাঠাচ্ছে বলে অভিযোগের পর দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা তৈরি হয়।
সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ইয়ান চং বিবিসিকে বলেন, “শি জিনপিং এর অবস্থান শক্তিশালী হওয়ায় এবং ক্ষমতার আরও কেন্দ্রীভূতকরণের ফলে এসব সমস্যার মোকাবেলা সহজ হবে কিনা- না কি অবস্থা আরও খারাপ হবে, সেটা এখুনি বোঝা যাবে না।”
“মিস্টার শি হয়তো বাজি ধরছেন যে তার নেতৃত্বে পার্টিতে ক্ষমতার এই কেন্দ্রীভূতকরণের মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান হবে”, বলছেন তিনি।
এ সপ্তাহে কমিউনিস্ট পার্টির তথাকথিত ‘ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস’ এবং ‘চাইনিজ পিপলস পলিটিক্যাল কনসালটেটিভ কনফারেন্সের’ যে দুটি অধিবেশন চলছে, তার ওপর অনেকেই তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন, কারণ এখান থেকেই ইঙ্গিত পাওয়া যাবে চীন সামনের বছরগুলোতে কোন দিকে যাবে।
মাও জেদং এর পর চীনের নেতাদের মেয়াদ দুই মেয়াদের জন্য সীমিত করে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ২০১৮ সালে যখন মিস্টার শি এই বাধ্যবাধকতা তুলে দেন, তখন তিনি এমন এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত হন, যেমনটি চীনে চেয়ারম্যান মাও এর পর আর দেখা যায়নি।
শুক্রবার চীনের জাতীয় আইন সভা ৬৮ বছর বয়স্ক হান ঝেংকে ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করে। তিনি এর আগে কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য ছিলেন।
ভাইস প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা এবং কর্মপরিধি সুনির্দিষ্ট করা নেই, কাজেই এই পদের গুরুত্বে রকমফের দেখা যায়। তবে এর আগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াং কিশান প্রেসিডেন্ট শি’র দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ইয়াং চং বিবিসিকে বলেন, মিস্টার হান হয়তো শি জিনপিংকেই ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের নীতিই বাস্তবায়ন করবেন।
প্রধান খবর
নির্বাচিত খবর
পাঠকপ্রিয় খবর
ছবির কপিরাইট